ninja

notebook

personal thoughts and stories.

রাজনীতিতে নারী - নির্বাচন ২০২৬

Feb 8, 2026

মাস দুয়েক হবে হয়ত, এমন সংবাদ একটু পর পরই দেখা যাচ্ছে যে জামায়াত ইসলামীর মহিলারা হয়ত কারোও বাড়িতে নির্বাচনের জন্য হোক বা তাদের দাওয়াতী কাজের জন্য হোক গিয়েছে, আলোচনা করেছে। তখন সেখানে বিএনপির স্হানীয় কর্মীরা সেখানকার জামায়াতের মহিলাদেরকে মৌখিক হুমকি সহ বেশ কিছু যায়গায় গায়েও হাত তোলার চেষ্টা করেছে দেখা গেছে। নির্বাচন যত কাছে আসছে ততই এটা মনে হচ্ছে বাড়ছে। এটার আমি নিজে একটা হাইপোথিসিস বের করলাম।

জামায়াতের আলাদা মহিলা শাখা আছে, এবং এরা এ্যক্টিভ। মানে প্রায় প্রতি উপজেলা, থানা, জেলা, বিভাগে জামায়াতের পুরুষ-মহিলা দুই শাখার আলাদা সাংগঠনিক presence আছে, হয়ত প্রায় সব মাইক্রোলেভেলেই কার্যকরভাবে এরা এক্টিভ। এ্যটলিস্ট ছেলেরা এ্যক্টিভ, মহিলারা ১০০% না হলেও কাছাকাছিই হবে আমার ধারণা। যেহেতু এরা ইসলামি সংগঠন তাই এরা আলাদা ভাবেই কাজ করে। এবং একারণেই এদের আলাদা presence টা জরুরী। এভাবে একই পরিবারের পুরুষ-মহিলা দুই লিঙ্গের কাছে সমানভাবে কাজ করতে পারার সাংগঠনিক সিস্টেম আছে তাদের। আরও একটা ব্যাপার হল জামায়াতের মহিলা শাখার কার্যক্রম ঘরোয়া। বাংলাদেশের নারী সমাজের সিংহ ভাগই পুরুষ presence এ, ঘরের বাহিরে কম্ফোর্টেবল না। এই সব কারণে জামায়াত মহিলাদের কাছে বিএনপি'র চেয়ে বেশি access পাবে বা পাচ্ছে। এই এক জায়গাতে মনে হচ্ছে বিএনপি ফেইল করে গেছে। বিএনপি'র আলাদা যেই মহিলা শাখা আছে সেটা পুরুষের সাথে পাশাপাশি কাজ করে। এরা পুরুষের নেতৃত্বেই পুরুষের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে, ঘরের বাইরে। আলাদাভাবে আমাদের বাংলাদেশের পুরুষ-প্রেজন্সে-আনকম্ফোর্টেবল ৫০% এর বেশি নারী ভোটারকে এরা এজন্য মিস করে গেছে। জামায়াত ইসলামীর সাথে ইসলাম নাম আছে জন্য যে তারা ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের, আকর্ষণ বেশি করতে পারবে বা পারছে এটা সম্ভবত না। এর বড় কারন হয়ত এই ঘরোয়া পরিবেশে পুরুষদের থেকে দূরে আলাদাভাবে তারা রাজনৈতিক কথা শুনছে বা দাওয়াত পাচ্ছে এজন্য। বিএনপি তাদের এই গ্যাপ ফিলআপ না করতে পেরে প্রতিপক্ষের এই কাজ দেখে তাই হয়ত মাথা গরম করে অতি উৎসাহী হয়ে হামলা করার কারনে তারা তাদের ইমেজ যা আছে সেটা আরও নষ্ট করছে। আমার মনে হয় বিএনপি'র উচিৎ এই গ্যাপটা পূরণ করা, আলাদাভাবে ঘরে ঘরে তাদের নারী-অনলি কর্মীদের পাঠানো, সাথে পুরুষ পুরুষ ভাবওয়ালা নারী হইলে আবার হবে না।

#JusticeForHadi

Read more →

গণভোট

Feb 8, 2026

নাবিলা ইদ্রিস লিখেছেন - ‘’’আমি বারবার একটা বিভ্রান্তি দেখছি, সেটা হলো - গণভোটে অনেকগুলো আলাদা আলাদা বিষয়কে জোর করে একসাথে মাত্র চারটা প্রশ্নে বেঁধে দিয়ে, তারপর চারটাকে বান্ডেল করে শুধুমাত্র একটা হ্যাঁ বা না বলতে হচ্ছে। এ তো মহা বাটপারি! এতগুলো প্রশ্নের উত্তর কি শুধুমাত্র একটা হ্যাঁ বা না-এ বলা সম্ভব? এই ফ্রেমিঙে যেটা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে তা হল - নির্বাচন তো ঠিক এভাবেই কাজ করে। সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে গেলেও আপনি প্রতিটা পলিসির জন্য আলাদা আলাদা ব্যালট পান না। আপনি এমন একটা দলকে বেছে নেন, যার সামগ্রিক দিকনির্দেশনার সাথে আপনি সবচেয়ে বেশি একমত। এর মানে এই না যে দলটার প্রতিটা নীতি আপনি জানেন, পছন্দ করেন, বা শতভাগ সমর্থন করেন... এবং অবশ্যই এর মানে এও না যে দলটির সাথে আপনার কোন দ্বিমত নেই। ইন্সটেড এর মানে হলো, মোটের ওপর আপনি মনে করেন যে ব্যালটে যে বিকল্পগুলো আছে, তার তুলনায় এই দলটাই বেটার। গণভোটও একইভাবে কাজ করে। টেবিলে যে বিকল্প আছে, তার মধ্যে কোনটা সামগ্রিকভাবে ভালো? যদি মোটা দাগে মনে হয় হ্যাঁ ভাল, তো হ্যাঁ-তে সিল দিবেন; মোটা দাগে না মনে হলে, না-তে দিবেন। সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বভাবটাই এমন; বড় প্রশ্নগুলোকে অনেক সময় বাস্তবে একটা সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারণ করতে হয়। (সত্যি বলতে, বিয়ের প্রস্তাব পেলেও কিন্তু একই কাজ করেন, হেহে! এজ এ হোল মানুষটাকে জাজ করেন, তাঁর নাক ডাকার বিরক্তিকর স্বভাবটা মেনে নেন।) এটা নতুন কিছু না, অস্বাভাবিকও না। ব্রেক্সিটের কথাই ধরেন। যুক্তরাজ্যে ২০১৬ সালের গণভোটে ব্যালটে প্রশ্ন ছিল: “যুক্তরাজ্য কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য থাকবে, নাকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করবে?” কত ভোটার ছিল না যারা ইকনমিক কোঅপারেশন চাচ্ছিল কিন্তু ইমিগ্রেশান চাচ্ছিল না? বা ডিফেন্স প্যাক্ট চাচ্ছিল কিন্তু ইকনমিক ইন্টেগ্রেশান চাচ্ছিল না? কিন্তু এমন সাব-অপশনের কোন তালিকা ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই ব্যালটের ওই মাত্র একটা প্রশ্নের ভেতরেই বাণিজ্য, অভিবাসন, আইন, সার্বভৌমত্ব, আর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিশাল বড় বড় প্রভাব একসাথে “বান্ডলড” হয়ে ছিল। বাস্তবে এটাকে ডজন ডজন আলাদা ভোটে ভাগ করার কোনো উপায় ছিল না - করতে গেলে পুরো প্রক্রিয়াটাই অচল হয়ে যেত। তাই আপনি যদি ভাবেন, “কিছু অংশে আমি একমত, কিছু অংশে না, তাহলে আমি কী করব?” উত্তরটা হলো: নরমাল নির্বাচনে আপনি যেটা করেন, এখানেও সেটাই করবেন। পুরো প্যাকেজটাকে একসাথে বিবেচনা করবেন, বিকল্পটার সাথে তুলনা করবেন, আর যেটাকে সামগ্রিকভাবে ভালো মনে হবে সেটাই বেছে নেবেন। সব কিছু মন মত হবে না, হওয়া সম্ভব না, এবং যুক্তিসঙ্গতও না; আপনার ডিল ব্রেকার থাকতেই পারে। আমার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটা পরিষ্কার: আমি হ্যাঁ ভোট দেব। এত রক্তের বদলে খানিকটা সংস্কারের চেষ্টাটা অন্তত করব না? ক্যামনে কি? অবশ্যই করব। চেষ্টা করবই করব।’’’

#JusticeForHadi

Read more →