ninja

notebook

personal thoughts and stories.

সমৃদ্ধ সালতানাতে বাঙ্গালা

Feb 11, 2026

পাল, সেন, সুলতানী, মুঘল, ব্রিটিশ সকল পিরিয়ডেই বাংলা ভূখন্ড এতই ধনী আর উন্নত ছিল যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বণিকেরা তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাংলায় আসত। প্রাচীনকাল থেকেই সব শাসকেরা তার ভূখন্ডের অভ্যন্তরের ব্যবসা প্রসারের জন্য, আর ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসা করতে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য সকল বন্দোবস্ত করে দিত। শাসক তার শাসিত ভূখন্ডের সব প্রধানত কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন আর রপ্তানীতে সকল সাহায্য করত। কারণ এটা থেকেই আয়। বাংলা ভূখন্ড প্রাচীনকাল থেকেই কৃষি বিভিন্ন পণ্য রপ্তানী থেকে বিপুল অর্থ আয় করত। তখন চট্টগ্রাম, যেটাকে আরব সহ প্রাচীন অনেক পরিব্রাজক সামান্দর নামে আখ্যায়িত করেছে তাদের বইতে, বরিশাল, নারায়নগন্জ, নোয়াখালী সহ বেশ কয়েক প্রধান আর অভ্যন্তরীন নৌঘাঁটি ছিল, যেগুলো ছিল রপ্তানীর হাব। পাল, সেন, সুলতানী, মুঘল, ব্রিটিশ সকল পিরিয়ডেই এমন অবস্থা ছিল। তখন বাংলা ভূখন্ড এতই ধনী আর উন্নত ছিল যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বণিকেরা তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাংলায় আসত। শাসক যে ই হোক, সেন বা পাল বা তুর্কী বা পার্সি বা আফগান, তারা বাংলায় এসে বাংলায় থেকেই বাংলাকে শাসন করত। এখানেই তারা বংশানুক্রমে থেকে যেত, এবং লোকাল বাঙালীদের সাথেই তারা বিয়ের সম্পর্ক করত। তার মানে তারা নিজেদেরকে বাঙালীদের বা লোকালদের থেকে উন্নত জাত মনে করত না। কিন্তু ব্রিটিশরা যখন আসে তারা এই ধারা পরিবর্তন করে। তারা বাংলা ভূখন্ড দখল করে বাংলাকে শাসনের নামে শোষণ করে। আর তাদের অর্জিত সকল অর্থ তারা ইংল্যান্ডে পাঠায়। তৎকালীন ব্রিটিশ সৈন্য, নাবিক এমন অনেকের চিঠি থেকে জানা যায় তারা বাংলায় যাচ্ছে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে, কারন ইংল্যান্ডে তারা ছাপোষা জীবনযাপনে অতিষ্ট। এমনকি রবার্ট ক্লাইভও এমনই একজন ছিল। তাদের খুব সামান্যই এদেশে স্হায়ী ভাবে থেকে যায়। ব্রিটিশ, পর্তুগীজ, ডাচ সবাই ই এই কাজ করে। বাংলা ভূখন্ড থেকে পলাশীর পরাজয়ের পর এত বেশি সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হয় এবং ক্রমাগত হতে থাকে যে এর ভয়াবহ ফলাফল এক দশকের ভেতরেই পাওয়া যায়, বাংলায় ভয়াবহ দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যেটা তখন থেকে বিগত পাল পর্যন্ত ইতিহাসেও নেই। যেই দূর্ভিক্ষের ফলে সমৃদ্ধ বাংলার কাঠামো একদম ভেঙে পরে। একটু বড় লেখাটার কারন হল, আগামীকাল ভোট। আপনি যদি এমন কাওকে ভোট দেন যে এইদেশের শাসক হয়ে কানাডা, লন্ডন, দুবাইয়ে বেগম পাড়া গড়বে, যেটা আওয়ামীলীগ গত ১৭ বছর করে গেছে, তাহলে অর্থনৈতিক মূল্যস্ফীতি যেটা এখনও কন্ট্রোলের ভেতর রাখতে পেরেছে প্রফেসর ইউনুসের নেতৃত্বের সরকার, সেটা আর সম্ভব হবে না। আপনি অন্যের ভবিষ্যৎ মেরে নিজে লাখ কোটি টাকার মালিক হলেও সেটা মূল্যহীন হয়ে যাবে মূল্যস্ফীতির কারনে। ভোট দেওয়ার আগে শাপলার গণহত্যা, জুলাই ম্যাসাকার সহ আরও অসংখ্য লেবেল না পাওয়া ম্যাস গুম খুনের কথাগুলো মনে রাখবেন। সূরা আর রাদ এর ১১ নাম্বার আয়াত মনে রাখবেন - "আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের/জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরাই তাদেরকে পরিবর্তন করতে চায়"। আযাদি না জিল্লতি?

Read more →

The real "Unbowed"

Feb 10, 2026

বাংলাদেশকে টি-টুয়েন্টি থেকে বাদ দিয়েছিল ভারত নিয়ন্ত্রিত বর্তমান আইসিসি, এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরুপ পাকিস্তান তার ভারতের বিরুদ্ধের ম্যাচ বয়কট করে। ভারত পরে যায় বিপদে, কারন শুধু ওই ম্যাচ থেকেই ভারত aka আইসিসি তাদের লাভের সিংহভাগ আয় করত। আইসিসির রিকোয়েস্টেও কাজ না হলে তারা পাকিস্তানকে তাদের সাথে আলোচনায় বসতে বলে। পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ইনসিস্ট করে শুধু তাদের সাথে বসলেই হবে না, বরং বাংলাদেশকেও এখানে ইনক্লুড করতে হবে। অবশেষে লস থেকে বাঁচতে আইসিসি বাংলাদেশকেও আমন্ত্রণ জানায়। এবং সিদ্ধান্ত হয় বাংলাদেশ টুর্নামেন্টের পরিপূর্ণ টাকা পাবে, সাথে একটা কম্পেনসেশনও পাবে এবং ভবিষ্যতে কোন এক টুর্নামেন্টের হোস্ট হবে বাংলাদেশ। এরপর আইসিসি বাংলাদেশকে রিকুয়েস্ট করে পাকিস্তানকে রাজি করাতে। বাংলাদেশ পরে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানায় এবং তারপরই পাকিস্তান রাজি হয়। এনাদার লেভেল অব জিও পলিটিক্যাল রেসপন্স ফ্রম বাংলাদেশ এ্যন্ড পাকিস্তান ফর দ্য মুই-কি-হনু-রে ভারতীয়-আইসিসি। This is called the real "Unbowed".

Read more →

পোলাপাইনের মাথায় এত্ত বুদ্ধি!

Feb 9, 2026

পোলাপাইনের মাথায় এত্ত বুদ্ধি! বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশন এখন সব দেখে আর বুঝে। জাতীয়তাবাদী দল যদি মনে করে আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ কপি করে সেই হাজার বছরের পুরান রীতি নীতিতেই চলে বিরোধী দল আর সাধারণ মানুষকে ট্রিট করবে তাহলে এদের পরিণতিও আওয়ামীলীগ থেকে ভিন্ন হওয়ার কথা না। খুবই কষ্ট লাগে যখন দেখি বিএনপি যেন পড়িমড়ি করে লেগে গেছে বিরোধীদলের বিরুদ্ধে নিজেদের হ্যাডম দেখাতে। বুঝতে কষ্ট হয় না এদের প্রথম সারির অনেক নেতা দিল্লীর পদলেহনে ব্যাস্ত, এমনকি তারেক রহমানকেও এর ব্যাতিক্রম মনে হচ্ছে না। আহ্ বিএনপি।

Read more →

গণভোট - নাবিলা ইদ্রিস

Jan 27, 2026

নাবিলা ইদ্রিস লিখেছেন - ‘’’আমি বারবার একটা বিভ্রান্তি দেখছি, সেটা হলো - গণভোটে অনেকগুলো আলাদা আলাদা বিষয়কে জোর করে একসাথে মাত্র চারটা প্রশ্নে বেঁধে দিয়ে, তারপর চারটাকে বান্ডেল করে শুধুমাত্র একটা হ্যাঁ বা না বলতে হচ্ছে। এ তো মহা বাটপারি! এতগুলো প্রশ্নের উত্তর কি শুধুমাত্র একটা হ্যাঁ বা না-এ বলা সম্ভব? এই ফ্রেমিঙে যেটা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে তা হল - নির্বাচন তো ঠিক এভাবেই কাজ করে। সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে গেলেও আপনি প্রতিটা পলিসির জন্য আলাদা আলাদা ব্যালট পান না। আপনি এমন একটা দলকে বেছে নেন, যার সামগ্রিক দিকনির্দেশনার সাথে আপনি সবচেয়ে বেশি একমত। এর মানে এই না যে দলটার প্রতিটা নীতি আপনি জানেন, পছন্দ করেন, বা শতভাগ সমর্থন করেন... এবং অবশ্যই এর মানে এও না যে দলটির সাথে আপনার কোন দ্বিমত নেই। ইন্সটেড এর মানে হলো, মোটের ওপর আপনি মনে করেন যে ব্যালটে যে বিকল্পগুলো আছে, তার তুলনায় এই দলটাই বেটার। গণভোটও একইভাবে কাজ করে। টেবিলে যে বিকল্প আছে, তার মধ্যে কোনটা সামগ্রিকভাবে ভালো? যদি মোটা দাগে মনে হয় হ্যাঁ ভাল, তো হ্যাঁ-তে সিল দিবেন; মোটা দাগে না মনে হলে, না-তে দিবেন। সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বভাবটাই এমন; বড় প্রশ্নগুলোকে অনেক সময় বাস্তবে একটা সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারণ করতে হয়। (সত্যি বলতে, বিয়ের প্রস্তাব পেলেও কিন্তু একই কাজ করেন, হেহে! এজ এ হোল মানুষটাকে জাজ করেন, তাঁর নাক ডাকার বিরক্তিকর স্বভাবটা মেনে নেন।) এটা নতুন কিছু না, অস্বাভাবিকও না। ব্রেক্সিটের কথাই ধরেন। যুক্তরাজ্যে ২০১৬ সালের গণভোটে ব্যালটে প্রশ্ন ছিল: “যুক্তরাজ্য কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য থাকবে, নাকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করবে?” কত ভোটার ছিল না যারা ইকনমিক কোঅপারেশন চাচ্ছিল কিন্তু ইমিগ্রেশান চাচ্ছিল না? বা ডিফেন্স প্যাক্ট চাচ্ছিল কিন্তু ইকনমিক ইন্টেগ্রেশান চাচ্ছিল না? কিন্তু এমন সাব-অপশনের কোন তালিকা ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই ব্যালটের ওই মাত্র একটা প্রশ্নের ভেতরেই বাণিজ্য, অভিবাসন, আইন, সার্বভৌমত্ব, আর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিশাল বড় বড় প্রভাব একসাথে “বান্ডলড” হয়ে ছিল। বাস্তবে এটাকে ডজন ডজন আলাদা ভোটে ভাগ করার কোনো উপায় ছিল না - করতে গেলে পুরো প্রক্রিয়াটাই অচল হয়ে যেত। তাই আপনি যদি ভাবেন, “কিছু অংশে আমি একমত, কিছু অংশে না, তাহলে আমি কী করব?” উত্তরটা হলো: নরমাল নির্বাচনে আপনি যেটা করেন, এখানেও সেটাই করবেন। পুরো প্যাকেজটাকে একসাথে বিবেচনা করবেন, বিকল্পটার সাথে তুলনা করবেন, আর যেটাকে সামগ্রিকভাবে ভালো মনে হবে সেটাই বেছে নেবেন। সব কিছু মন মত হবে না, হওয়া সম্ভব না, এবং যুক্তিসঙ্গতও না; আপনার ডিল ব্রেকার থাকতেই পারে। আমার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটা পরিষ্কার: আমি হ্যাঁ ভোট দেব। এত রক্তের বদলে খানিকটা সংস্কারের চেষ্টাটা অন্তত করব না? ক্যামনে কি? অবশ্যই করব। চেষ্টা করবই করব।’’’

#JusticeForHadi

Read more →

রাজনীতিতে নারী - নির্বাচন ২০২৬

Jan 25, 2026

মাস দুয়েক হবে হয়ত, এমন সংবাদ একটু পর পরই দেখা যাচ্ছে যে জামায়াত ইসলামীর মহিলারা হয়ত কারোও বাড়িতে নির্বাচনের জন্য হোক বা তাদের দাওয়াতী কাজের জন্য হোক গিয়েছে, আলোচনা করেছে। তখন সেখানে বিএনপির স্হানীয় কর্মীরা সেখানকার জামায়াতের মহিলাদেরকে মৌখিক হুমকি সহ বেশ কিছু যায়গায় গায়েও হাত তোলার চেষ্টা করেছে দেখা গেছে। নির্বাচন যত কাছে আসছে ততই এটা মনে হচ্ছে বাড়ছে। এটার আমি নিজে একটা হাইপোথিসিস বের করলাম।

জামায়াতের আলাদা মহিলা শাখা আছে, এবং এরা এ্যক্টিভ। মানে প্রায় প্রতি উপজেলা, থানা, জেলা, বিভাগে জামায়াতের পুরুষ-মহিলা দুই শাখার আলাদা সাংগঠনিক presence আছে, হয়ত প্রায় সব মাইক্রোলেভেলেই কার্যকরভাবে এরা এক্টিভ। এ্যটলিস্ট ছেলেরা এ্যক্টিভ, মহিলারা ১০০% না হলেও কাছাকাছিই হবে আমার ধারণা। যেহেতু এরা ইসলামি সংগঠন তাই এরা আলাদা ভাবেই কাজ করে। এবং একারণেই এদের আলাদা presence টা জরুরী। এভাবে একই পরিবারের পুরুষ-মহিলা দুই লিঙ্গের কাছে সমানভাবে কাজ করতে পারার সাংগঠনিক সিস্টেম আছে তাদের। আরও একটা ব্যাপার হল জামায়াতের মহিলা শাখার কার্যক্রম ঘরোয়া। বাংলাদেশের নারী সমাজের সিংহ ভাগই পুরুষ presence এ, ঘরের বাহিরে কম্ফোর্টেবল না। এই সব কারণে জামায়াত মহিলাদের কাছে বিএনপি'র চেয়ে বেশি access পাবে বা পাচ্ছে। এই এক জায়গাতে মনে হচ্ছে বিএনপি ফেইল করে গেছে। বিএনপি'র আলাদা যেই মহিলা শাখা আছে সেটা পুরুষের সাথে পাশাপাশি কাজ করে। এরা পুরুষের নেতৃত্বেই পুরুষের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে, ঘরের বাইরে। আলাদাভাবে আমাদের বাংলাদেশের পুরুষ-প্রেজন্সে-আনকম্ফোর্টেবল ৫০% এর বেশি নারী ভোটারকে এরা এজন্য মিস করে গেছে। জামায়াত ইসলামীর সাথে ইসলাম নাম আছে জন্য যে তারা ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের, আকর্ষণ বেশি করতে পারবে বা পারছে এটা সম্ভবত না। এর বড় কারন হয়ত এই ঘরোয়া পরিবেশে পুরুষদের থেকে দূরে আলাদাভাবে তারা রাজনৈতিক কথা শুনছে বা দাওয়াত পাচ্ছে এজন্য। বিএনপি তাদের এই গ্যাপ ফিলআপ না করতে পেরে প্রতিপক্ষের এই কাজ দেখে তাই হয়ত মাথা গরম করে অতি উৎসাহী হয়ে হামলা করার কারনে তারা তাদের ইমেজ যা আছে সেটা আরও নষ্ট করছে। আমার মনে হয় বিএনপি'র উচিৎ এই গ্যাপটা পূরণ করা, আলাদাভাবে ঘরে ঘরে তাদের নারী-অনলি কর্মীদের পাঠানো, সাথে পুরুষ পুরুষ ভাবওয়ালা নারী হইলে আবার হবে না।

#JusticeForHadi

Read more →

নাহিদ - ঢাকা ১১

Jan 25, 2026

আমি থাকি নাহিদ ইসলাম যেই আসনের জন্য মনোনীত সেই এলাকায়, ঢাকা ১১। দীর্ঘকাল ভোট যেহেতু দিতে পারা যায় নাই, তাই এই এলাকায় ৬-৭ বছর হইছে আসছি তাও এখানে ভোটারের জন্য স্হানান্তর করা হয় নাই। এখনও আগে যেই এলাকায় ছিলাম দীর্ঘকাল সেই এলাকার ভোটার, সেটা ঢাকা ১৪। সেখানের বি.এন.পির মনোনীত প্রার্থী গুম ও খুনের স্বীকার সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন মায়ের ডাকের অন্যতম কোঅর্ডিনেটর সানজিদা ইসলাম। আর জামায়াত ইসলাম মনোনীত প্রার্থী মীর কাসেম আলীর ছেলে আয়নাঘরের গুমের শিকার মীর আহমাদ বিন কাসেম ওরফে ব্যারিস্টার আরমান। সব হেভিওয়েট লোকজন। আপনার নিজের ভোটার নাম্বার, সিরিয়াল কত, ভোট কেন্দ্র সহ সারা দেশের সব আসনের সব প্রার্থীর তথ্য জানার জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল Smart Election Management BD এই এ্যপটা গুগল এ্যপস্টোর বা এ্যপল স্টোর থেকে ডাউনলোড করে জানতে পারবেন (কমেন্টে লিংক দেওয়া আছে)। এনআইডি আর জন্ম তারিখটা দিয়ে ভেরিফাই করে আপনার ভোটিং সংক্রান্ত সব তথ্য পাবেন। আমি নিজেও কয়েকদিন ভাবতেছিলাম আমার ভোটের এলাকা যেহেতু আলাদা সেখানে কে কে প্রার্থী সেটা জানার জন্য। আজকে তখন এ্যপটার ব্যাপারে পাইলাম। আপনি আপনারটা বের করে ফেলেন। আর ভোট যারেই দেন, হ্যাঁ তে অবশ্যই ভোট দিয়েন। কিভাবে ভোট দিবেন এটা নিয়ে কনফিউশান থাকলে অন্তর্বতীকালীন সরকারের বানানো ভিডিও কমেন্টে দিয়ে দিলাম সেটা দেখতে পারেন। #JusticeForHadi

Read more →

চট্টগ্রামের ওয়ালী বেগ খান মসজিদ

Jan 12, 2026

ওয়ালী বেগ খান মসজিদ, স্থানীয়ভাবে যাকে সবাই ওয়ালী খান মসজিদ বলেই চেনে। যদিও বলার সময় "অলি খা" বলে। শুরুতে যেটাকে আবার আমি শুনতাম অলিখা বা অলেখা মসজিদ। আমি আবার বুঝতাম না এমন নাম কেন। যাইহোক, চট্টগ্রামের মানুষের "এ" বলতে একটু কষ্ট হয়, "এ্যা" বলে। যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে - যেটাকে সবাই "ফেভার" বলবে, সেটাকে চাটগাঁইয়ারা "ফ্যাভার" বলবে, আবার সবাই যেটাকে "লেইক" বা "লেক" বলবে চাটগাঁইয়ারা সেটাকে "ল্যাক" বলবে। কিন্তু আরেকটা বড় ব্যাপার হল চাটগাঁইয়ারা যখন তাদের নিজেদের লোকাল এ্যাকসেন্টে বাংলায় কথা বলে সেখানে আমি একটা রিদম পাই। একটা সুন্দর ওয়েভের মত লাগে। শব্দ একটু জোরে আবার একটু পরেই আস্তে হবে, আবার জোরে হবে, আবার আস্তে হবে, এভাবে চলতে থাকে। কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটা একটু বেশি হয়। রাস্তাঘাটে যাতায়াতের সময় এমন টোন শুনলে আমি খুবই পুলকিত হই। বইঙ্গা হয়ে এভাবে বলা ঠিক হইল কিনা বুঝতেছিনা, তাও আবার আমার শ্বশুরবাড়ি এখানে। এতবছর পর আজকে প্রথম মসজিদটার আদি অংশের ভেতরে ঢুকতে পারলাম। সম্ভবত রেনোভেশনের জন্য বন্ধ ছিল। . . . . . #JusticeForHadi

Read more →

ইউ এস এ এ্যাবাডাক্টস ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট

Jan 4, 2026

আমারা অনেকেই মনে করি ইরাক, ইরান, ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার আগ বাড়িয়ে হস্তক্ষেপ শুধু তেলের জন্যই। ব্যাপারটা একদমই আংশিক সত্য। পুরোটাই আসলে চীনকে ঘিরে। কি অবাক হলেন? দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে দিব, আই প্রমিজ। একটা ব্যাপার কেওই জিজ্ঞেস করে না আর সেটা হল, চীনের সাথে ইরাকের মিল ঠিক কোথায়? আমাদের প্রচলিত সো-কল্ড প্রচার মাধ্যম যেটাকে দিন রাত ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বলে সেটা একদমই না। এটা শুধুই যে তেল এমন না। তেলকে ঘিরে পুরো ব্যাবস্থা যন্ত্র, পুরো সিস্টেমটা। ২০০০ সালের দিকে ইরাক শুধু যে তেলই বিক্রি করছিল ব্যাপারটা এমন না, ইরাক তেল কিভাবে এবং কোন মুদ্রায় বিক্রি করবে সেটাকে চ্যালেন্জ করা শুরু করে। তখন থেকেই আমেরিকার কাছে ইরাক ভয়ংকর একটা হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। আবার বর্তমানে ফিরে আসা যাক। চীন এমন একটা দেশ যাদের জন্য অন্য কোন দেশের তেলের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে আক্রমণ করতে হয় না। চীন এভাবে তেলের নিয়ন্ত্রন করে- -দীর্ঘমেয়াদী ক্রয় চুক্তি -তেলের বিনিময়ে ঋণ পদ্ধতি -গোপন সামুদ্রিক নেটওয়ার্ক -ডলার বিহীন স্থানীয় মুদ্রা পদ্ধতি ইরান এবং ভেনেজুয়েলা উপরের বর্ণিত পদ্ধতির সুন্দর উদাহরন। ইরান দৈনিক মোটামোটি দেড় বিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানী করে, যেটার সিংহভাগই চীনে যায় অনেক কমমূল্যে এবং গোপন বা অপ্রচলিত সামুদ্রপথে। ভেনেজুয়েলা দৈনিক ৭ থেকে ৯ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানী করে, যেখানে চীন এর প্রধান আমদানীকারক এবং তেলের বিনিময়ে ঋণ দানকারী দেশ। এটা যে শুধুই এনার্জীর বিনিময় এমন না, এটা জিওপলিটিক্যাল ইস্যু। চীন শুধুই তেলের ক্রেতা না। ইউএসএ যখন ভেনেজুয়েলাকে স্যাংশন দেয় তখন চীন এই তেল ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সেই স্যাংশনের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলাকে প্রায় সকল সুযোগ সুবিধা দেওয়ার ব্যাবস্থা করে দেয়। এখন তাহলে কি হল? ইউএসএ যুদ্ধ শুরু করছে ব্যাপারটা তা না। ইউএসএ উপরে বলা ক্রয়-বিক্রয় পদ্ধতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করেছে। আস্তে আস্তে সব বলছি- প্রথমত, স্যাংশনগুলো কোন দেশকে টার্গেট করে না, এটার মূল লক্ষ্য: -শিপিং কোম্পানীগুলো -ইন্স্যুরেন্স -পোর্টগুলো -তেল শোষনাগারগুলো -লেনদেনের বর্তমান পদ্ধতি এটা কোন সামরিক কারসাজি না, এটা ফিনানসিয়াল warfare। এগুলোর পর শুরু হয় ব্লকেইড, স্হাপনার পূর্ন কন্ট্রোল, এবং সমুদ্র পথে প্রেসার তৈরী করা - ঠিক যেখানে তেল লুকিয়ে রাখার আর কোন জায়গা নেই, কারন সেখানেই তেল উৎপন্ন হয়। সর্বশেষ শুরু হল রাজনৈতিক আক্রমণ। কারন যখনই - তেল কে পরিবহন করছে, কে প্রতিরক্ষা দিচ্ছে আর কে ক্রয় ব্যাবস্থা ঠিক করছে এটার পূর্ণ নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করা হবে তখনই আর তেলের উৎসের কন্ট্রোল আর প্রয়োজন নেই। কারন পুরো সিস্টেমের মাধ্যমে কে টাকা পাচ্ছে সেটার কন্ট্রোল নেওয়া হয়ে গেছে। এই একই শিক্ষা ইরাককে দেওয়া হয়েছে অনেক আগেই। পুরো ব্যাপারটা শুধুই তেলের জন্য না, আসল ব্যাপার হল মুদ্রার নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ শক্তি আর বিশ্বের মুদ্রা পদ্ধতির ওপর নিয়ন্ত্রণ। তেল শুধুই অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ, আসল যুদ্ধ কে এই প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। একারনেই ইরান এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে ইউএসএ’র কাছে, একারনেই ভেনেজুয়েলাও গুরুত্বপূর্ন। এবং একারনেই চীন সব কিছুর মাঝে রয়ে গেছে, প্রচলিত সংবাদ মাধ্যম প্রকাশ করুক আর না করুক। ধনীরা রাজনীতি নিয়ে তর্ক বিতর্কে জড়ায় না, তারা সিস্টেমের এ টু জেড নখদর্পনে রাখে। কারণ সিস্টেম পরিবর্তনের সাথে সাথে ধনীদের ভাগ্যও পরিবর্তন হয়ে যায়। -Robert Kiyosaki’র পোস্টের ভাষান্তর (without using কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা) (কমেন্টে আসল পোস্ট লিংক দেওয়া হল) . . . #JusticeForHadi

Read more →

শহীদ শরীফ ওসমান হাদী আর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা

Dec 31, 2025

শহীদ শরীফ ওসমান হাদী আর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা কেও খেয়াল করলে বুঝবেন যে বাংলাদেশের মানুষ এখন প্রচন্ড রকম ঐক্যবদ্ধ, দল মত নির্বিশেষে। দুইজনের জানাজাতেই সকল দলের লাখ লাখ লোকের অংশগ্রহণ অবিস্মরণীয় একটা ঘটনা। বেগম জিয়া বিএনপি'র চেয়ারপার্সন হলেও উনি দলের উর্ধ্বে উঠে সকলের হয়ে ছিলেন। এই ঐক্যকে রাজনৈতিক দলকেই সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে, পরবর্তী সরকার যে ই গঠন করুক না কেন, তাদের ওপর এই দায়িত্বের অংশ সবচেয়ে বেশি। দেশের উন্নয়নের প্রশ্নে, বহিরাগত সকল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে এখন মানুষ অনেক অনেক বেশি সচেতন, আগের চেয়েও অনেক বেশি আগ্রহী এসব ব্যাপারে জানতে। স্যোশাল মিডিয়ার কল্যাণে আট-দশজনের মতামত দেখে নিজেরা ভাল একটা উপসংহারে এত সহজেই চলে যেতে পারে এই দেশের মানুষ, সেটা আগে দেখা যায় নাই। পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য বিরাট একটা চ্যালেন্জ এখন এই ঐক্য কাজে লাগিয়ে দেশকে সব ধরনের উন্নয়নের দিকে ধাবিত করতে। এটা না পারলে তার পরিণতি সম্ভবত অনেক কঠোর হবে। I really wish good luck to the NEXT ELECTED government of the country.

Read more →

এ্যান্টি ইন্ডিয়ান সেন্টিমেন্ট

Dec 20, 2025

এ্যান্টি ইন্ডিয়ান সেন্টিমেন্ট ৫ই আগস্টের পর থেকে এখনও অসম্ভব রকম চাঙ্গা। সাথে এখন বিএনপির প্রতি মানুষের অবিশ্বাস এত বেশি কল্পনা করার মত না। এনসিপিও এত তাড়াতাড়ি মাঠ থেকে হারায় যাবে আমি ভাবতে পারি নাই। সবাই এত বেশি পিছাইতেছে যে জামায়াত শুধু জায়গায় দাঁড়ায় থেকে এখন সবার থেকে আগায় আছে। আল্লাহ ওসমান হাদীকে জান্নাতুল ফেরদাউসে কবুল করুক, তার শাহাদাত কবুল করুক। বাংলাদেশকে দিল্লি নামক শকুনের থাবা থেকে রক্ষা করে আজাদীর আন্দোলন যেটা হাদী ধরে রেখেছিল তার ধারাবাহিকতা আমরা যেন ধরে রাখতে পারি, আল্লাহ আমাদের কবুল করুক।

Read more →

July Revolutionary Alliance Posted

Dec 19, 2025

হাদি ভাই , একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন , জি আর ই প্রিপারেশন নিতেছিলেন , বিদেশ চলে যাবেন , ফ্যাসিবাদ থাকাকালীন নিজের দেশে আমাদের মনে হতো রোহিঙ্গা।
এরপর জুলাই আসলো , হাদি ভাই তার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে জুলাইতে অংশ নিলেন । জুলাইয়ের শেষে রাজনৈতিক দল হিস্যা বুঝে নেয়া শুরু করলো , আমরা ঘরে ফিরে গেলাম । তবে হাদী ভাই পড়ে রইলেন , ঘরে গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে হাদী শহর-নগর-বন্দর ঘুরে ইনকিলাব মঞ্চ গড়ে তুললেন । হাদী ভাই স্বপ্ন দেখলেন কালচারাল বিপ্লবের , ইন্ডিয়ান হেজেমনি থেকে বাঙ্গালি মুসলিম কালচারাল সত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলতে। এর মধ্যে হাদী ভাইয়ের ফুটফুটে একটা বাচ্চা হলো , নিষ্পাপ এই বাচ্চার দিকে তাকিয়েও হাদী ভাই ঘরে ফিরলেন না । সমাজের সকল বোঝা , আমাদের সকল দায়িত্ব নিজের কাধে নিলেন । স্বপ্ন দেখলেন এক ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার। আধিপত্য বিরোধী এই মিছিলের প্রথম পতাকাটা হাদি ভাই হাতে তুলে নিলেন । অবশেষে হাদী ভাই চলেই গেলেন । এতো ভারী কফিনের ভার কিভাবে সইবে বাংলাদেশ । হাদী ভাই , আপনি আমাদেরকে ঋনী করে দিয়ে গেলেন। আপনার সংগ্রাম তো ছিলো আমাদের জন্য, আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের জন্য , আমাদের সন্তান দের জন্য । যেই আপনি ১০ মাসের সন্তান কে হয়তো ১০ ঘন্টা কোলে নেন নি হাদী ভাই । হাদী ভাইয়ের সংগ্রাম সব তাদেরই জন্যে , যারা মাটির পিঁপড়ের মত সমুদ্রের মাছের মত আকাশের পাখির মত অগণন, যারা ভীরু, যারা বীর যারা নিরক্ষর, যারা শিক্ষিত যারা শিশুর মত সরল যারা ধবংস করে যারা সৃষ্টি করে ।

Read more →

আমাদের হাদি

Dec 19, 2025

-:July Revolutionary Alliance:- হাদি ভাই , একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন , জি আর ই প্রিপারেশন নিতেছিলেন , বিদেশ চলে যাবেন , ফ্যাসিবাদ থাকাকালীন নিজের দেশে আমাদের মনে হতো রোহিঙ্গা।
এরপর জুলাই আসলো , হাদি ভাই তার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে জুলাইতে অংশ নিলেন । জুলাইয়ের শেষে রাজনৈতিক দল হিস্যা বুঝে নেয়া শুরু করলো , আমরা ঘরে ফিরে গেলাম । তবে হাদী ভাই পড়ে রইলেন , ঘরে গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে হাদী শহর-নগর-বন্দর ঘুরে ইনকিলাব মঞ্চ গড়ে তুললেন । হাদী ভাই স্বপ্ন দেখলেন কালচারাল বিপ্লবের , ইন্ডিয়ান হেজেমনি থেকে বাঙ্গালি মুসলিম কালচারাল সত্ত্বাকে জাগিয়ে তুলতে। এর মধ্যে হাদী ভাইয়ের ফুটফুটে একটা বাচ্চা হলো , নিষ্পাপ এই বাচ্চার দিকে তাকিয়েও হাদী ভাই ঘরে ফিরলেন না । সমাজের সকল বোঝা , আমাদের সকল দায়িত্ব নিজের কাধে নিলেন । স্বপ্ন দেখলেন এক ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার। আধিপত্য বিরোধী এই মিছিলের প্রথম পতাকাটা হাদি ভাই হাতে তুলে নিলেন । অবশেষে হাদী ভাই চলেই গেলেন । এতো ভারী কফিনের ভার কিভাবে সইবে বাংলাদেশ । হাদী ভাই , আপনি আমাদেরকে ঋনী করে দিয়ে গেলেন। আপনার সংগ্রাম তো ছিলো আমাদের জন্য, আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের জন্য , আমাদের সন্তান দের জন্য । যেই আপনি ১০ মাসের সন্তান কে হয়তো ১০ ঘন্টা কোলে নেন নি হাদী ভাই । হাদী ভাইয়ের সংগ্রাম সব তাদেরই জন্যে , যারা মাটির পিঁপড়ের মত সমুদ্রের মাছের মত আকাশের পাখির মত অগণন, যারা ভীরু, যারা বীর যারা নিরক্ষর, যারা শিক্ষিত যারা শিশুর মত সরল যারা ধবংস করে যারা সৃষ্টি করে ।

Read more →

দ্যা ডিসেন্ট ফাইন্ডস

Dec 14, 2025

continuous news of BNPs tops downgrading hurts, hurts to the core -::the dissent::- ওসমান হাদীর ওপর গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিম মাসুদের পিটিশন ফাইলকারী আইনজীবী মো. মাহফুজার রহমান ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ঘনিষ্ঠ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ-আইন সম্পাদক। আদালত থেকে ফয়সালের জামিনের জন্য দায়েরকৃত পিটিশনের কপি এবং ওকালতনামা সংগ্রহ করে এডভোকেট মো. মাহফুজার রহমানের ফেসবুক প্রোফাইলের একাধিক ছবি ও তথ্যের সাথে মিলিয়ে দ্য ডিসেন্ট এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে। গতকাল শনিবার দ্য ডিসেন্ট সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের ওয়েবসাইট থেকে মাহফুজার রহমানের (Md Mahfujar Rahman) নম্বর সংগ্রহ করে তার সাথে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছিল, ফয়সাল করিমের পিটিশন দায়েরকারী আইনজীবী হিসেবে যেই মাহফুজার রহমানের নাম রয়েছে সেই ব্যক্তি তিনি কিনা? উত্তরে তিনি জানিয়েছিলেন তিনি সেই ব্যক্তি নন। আরও প্রশ্ন করা হয়েছিল, "জামিন আদেশের কপিতে Kaisar Kamal, Advocate বলে যার নাম রয়েছে তিনি কি বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কিনা? উত্তরে মাহফুজার রহমান বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, "স্যার এত বড় মাপের আইনজীবী, তিনি আমার মতো জুনিয়র আইনজীবীর পক্ষে হায়ার করা সম্ভব না।" গতকাল শনিবার আদালত বন্ধ থাকায় দ্য ডিসেন্ট এর পক্ষে পিটিশনের কপি এবং ওকালতনামা সংগ্রহ করে মাহফুজার রহমানের বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে আজ রোববার আদালত থেকে উল্লিখিত দুটি নথি সংগ্রহ করে দেখা গেছে মাহফুজার রহমান শনিবার দ্য ডিসেন্টকে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। কারণ, ফয়সাল করিম মাসুদের জামিনের জন্য দায়েরকৃত পিটিশনে 'মো. মাহফুজার রহমান' (Md Mahfujar Rahman) এর নামে যেই আইনজীবীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং মেম্বারশিপ আইডি রয়েছে তার সাথে সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে থাকা 'মো. মাহফুজার রহমান' এর মোবাইল নম্বর এবং মেম্বারশিপ আইডি হুবহু মিলে যায়। এছাড়া ফয়সাল করিম মাসুদের জামিনের জন্য দাখিল করা এফিডেভিটেও আইনজীবী হিসেবে জনাব 'মো. মাহফুজার রহমান' (Md Mahfujar Rahman), মোবাইল নম্বর, মেম্বারশিপ আইডি এবং ছবি যুক্ত রয়েছে। এফিডেভিটে যুক্ত পোট্রেইট ছবিটি "Md Mahfujar Rahman (Eliyash)" নামে একটি ফেসবুক আইডির প্রোফাইল ছবির সাথে হুবহু মিলে যায়। ওই ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা গেছে জনাব মাহফুজার রহমানের সাথে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। মাহফুজার বিভিন্ন সময়ে কায়সার কামালের সাথে নিজের ছবি পোস্ট করেছেন এবং তাকে 'স্যার' ও 'প্রিয় অভিভাবক' বলে সম্বোধন করেছেন একাধিক ফেসবুক পোস্ট, যেগুলো দ্য ডিসেন্ট আর্কাইভ করেছে। ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর কায়সার কামালের ছবি পোস্ট করে মাহফুজার রহমান লিখেছেন, "অভিনন্দন প্রিয় অভিভাবক Barrister Kayser Kamal স্যার। স্পেশাল এ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্যা চেয়ারপার্সন ফরেন অ্যাফেয়ার্স এডভাইজরি কমিটির সম্মানিত সদস্য। আপনার সফলতা কামনা করছি।" আজ রোববার সকালে মাহফুজার রহমানকে কল করে আদালত থেকে সংগৃহীত জামিন পিটিশন ও এফিডেভিটের কপিতে তার নাম, আইডি ও ছবি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি আদালতে আছি, বের হয়ে কল দিচ্ছি।" এর আধা ঘণ্টা পরে একাধিকবার কল করে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার দ্য ডিসেন্ট সুপ্রীম কোর্টের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত ফয়সালের জামিন আদেশের কপি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যে, দেখা যায় "এডভোকেট কায়সার কামাল" এবং "এডভোকেট মাহফুজুর রহমান" নামক দুইজন আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকার্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী এবং বিচারপতি এসকে তাহসিন আলী ফয়সাল করিম মাসুদের ৬ মাসের জামিনের আদেশ দেন। এরপর "এডভোকেট কায়সার কামাল" এর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে অনলাইনে বিতর্ক দেখা দেয়। কেউ দাবি করেন, তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারস্টিার কায়সার কামাল। আবার অনেকে সেটি অস্বীকার করেন। এর প্রেক্ষিতে দ্য ডিসেন্ট অনুসন্ধান করে দেখে যে, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের মেম্বার্স ডিরেক্টরিতে ‘কায়সার কামাল’ নামে মাত্র একজন আইনজীবীই আছেন যিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

Read more →

দ্যা ডিসেন্ট অন হাদী

Dec 12, 2025

::The Dissent:: পুলিশের কাছ থেকে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং ওসমান হাদীর জনসংযোগ টিমের কাছ থেকে প্রাপ্ত দুটি ছবি বিশ্লেষণ করে দ্য ডিসেন্ট নিশ্চিত হয়েছে যে, বাইক থেকে গুলি ছোঁড়া দুই ব্যক্তি আজ দুপুরে মতিঝিল ওয়াপদা মাদ্রাসা (জামিআ দারুল উলুম মতিঝিল) এলাকায় হাদীর সাথেই মাস্ক পরা অবস্থায় জনসংযোগে অংশ নিয়েছিল। গুলিকারী দুইজনের মধ্যে একজনের গায়ে কালো পাঞ্জাবি, কালো মাস্ক, গলায় চাদর এবং পরণে আকাশি রঙের প্যান্ট ছিল। অন্যজনের গায়ে কালো ব্লেজার, কালো মাস্ক, চোখে চশমা, পায়ে চামড়া রঙের জুতা ছিল। হামলাকারী দুই বাইক আরোহীর পোশাকের সাথে জনসংযোগে অংশ নেয়া ওই দুই ব্যক্তির পোশাক মিলে যায়। গুলিকারীদের চিহ্নিত করতে আজকের জনসংযোগের আরও ছবি ও ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন আপডেট পেলে দ্য ডিসেন্ট এর পেইজে জানানো হবে।

Read more →

নির্বাচনের পোস্টারগুলা

Dec 7, 2025

নির্বাচনের পোস্টারগুলা খেয়াল করলে বোঝা যায় একমাত্র জামাত বাদে বাকি সব দলের একটা ভালো রকমের hierarchy complexity ধরে রাখতে হয়। এটাকে কোনোভাবেই ইগনোর বা স্কিপ করা তাদের কোনও নেতার জন্যে পসিবল না, যদি কেও উপরের নেতাদের স্কিপ করে পোস্টার ছাপায়, সেটার মানে সে বিদ্রোহী। জামাতের এসব ঝামেলা নাই। দলের চেয়ারম্যান বা আমীর, সাথে সেই চেয়ারম্যান বা আমীরের মা বাবা ছেলে মেয়ে কারও ছবি পোস্টারের উপরে ছোট বা বড় কোনও ভাবেই রাখতে হয়না। Its more like they are independent. Is this not interesting! Plus, দেখলাম একমাত্র জামাতের পোস্টারেই প্রচারে এলাকাবাসী টাইপের মিথ্যা কথাটা লেখা নাই। এমনকি VP নূর ওরফে পিপিনুল এর দলের নেতার পোস্টারেও এই হাস্যকর কথাটা লেখা আছে।

Read more →

গগ এ্যান্ড মেগগ বা ইয়াজুজ-মাজুজ

Dec 2, 2025

কয়েক মাস আগে একটা ভিডিও সামনে আসলো ইউটিউবে - গগ এ্যান্ড মেগগ বা ইয়াজুজ-মাজুজ এর সম্ভাব্য আবাসস্হল হয়ত পাওয়া গিয়েছে। পুরা ভিডিও থ্রিল্ড মুডে দেখতেছিলাম, পুরা জার্নিটা। এক বা দুইজন ইসলামিক স্কলার, কয়েকজন সামরিক বাহিনীর লোক, আর কয়েকজন লোকাল গাইড নিয়ে তাদের জার্নিটা ছিল। তাদের ভাষ্যমতে কিরগিজস্তানের লোকাল কোন এক পশুচারী ইন্টারেস্টিং একটা পাহাড়ের সন্ধান পেয়েছে, যেটা কোন ভাবে একজন স্কলার শুনতে পেরে ধারণা করেছেন যে ওই পাহাড় হয়ত ক্বোরআনে বর্ণিত ইয়াজুজ মাজুজের আটকে পরা বাসস্থান। ভিডিওটার একদম শেষে দেখা যায় যে পাহাড়টার এক পাশে একদম মসৃণ এমনকি কোন কিছু ওই সাইডে ওপর থেকে ফেললে একদম সোজা ভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে, কোন এব্রোথেব্রো বা উঁচুনিচু অংশও নেই, যেটা পাহাড়ের জন্য খুবই অস্বাভাবিক। আরও শিওর হওয়ার জন্য তারা পাহাড়ের ওপর জমে থাকা শক্ত বরফ মেশিন দিয়ে কেটে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে টেস্টও করে দেখে যে সাইন ইজ পজিটিভ। এই সময়টায় আরও বেশি থ্রিলড ছিলাম আমি আর মনে মনে বকা দিচ্ছিলাম এক্সপেডিশনের লোকদের যে তোদের বরফ কাটা দরকার কি, যদি বাই চান্স তোরা মেটাল ওয়ালটা কেটে ফেলিস। বাট এখন আর আমি আসল ভিডিওটা অনেক খুঁজেও পাচ্ছি না আর, কোনওভাবেই না। কিন্তু এই ভিডিওটা পাইলাম, যেটা ওই আসল ভিডিওটাকে দেখিয়ে একজন ইসলামিক স্কলার, আসরার রশিদ, ট্রান্সলেশন সহ বর্ণণা দিচ্ছেন তার দর্শকদের। আসল ভিডিওটা বেশি ইন্টারেস্টিং ছিল, যদিও ভাষা ইংরেজীতে না। তবুও এই ভিডিওটা দেখতে পারেন ইন্টারেস্টিং মনে হলে। [লিংক কমেন্টে দিলাম।] আপডেট: আসল ভিডিওটার প্রায় পুরো অংশ পাওয়া গেল, যদিও এটাও রিআপলোড, তবে প্রায় পুরো জার্নিটা আছে এখানে। কমেন্টে লিংকটা দিলাম। (ধন্যবাদ টু Hasan Ahmed)

Read more →

All the betrayers to the motherland

Nov 30, 2025

All the betrayers to the motherland, may Allah keep you all in hell, let us learn from our mistakes. [ মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পোস্ট থেকে] বিডিআর হত্যাকাণ্ডে দলগতভাবে জড়িত আওয়ামী লীগ, মূল সমন্বয়কারী তাপস: কমিশন ঢাকা, ৩০ নভেম্বর ২০২৫: বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের বিষয় তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্যান্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন: মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ যুগ্মসচিব (অব.), ড. এম. আকবর আলী ডিআইজি (অব.), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন। এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে ছিলো। আপনারা সত্য উদ্‌ঘাটনে যে ভূমিকা রেখেছেন জাতি তা স্মরণে রাখবে। জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” তিনি বলেন, ইতিহাসের এই ভয়াবহতম ঘটনা নিয়ে জাতির অনেক প্রশ্ন ছিলো, এই কাজের মধ্য দিয়ে সেসব প্রশ্নের অবসান ঘটবে। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদনে শিক্ষণীয় বহু বিষয় এসেছে। জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে এটি। কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তকাজ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার স্বার্থে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যখন কাজ শুরু করি তখন ১৬ বছর আগের এই ঘটনার বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে বিদেশে চলে গেছেন। “আমরা দুটো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছি। সাক্ষীদের ডাকলাম, কারো কারো ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বক্তব্য শুনেছি আমরা। যতক্ষণ তিনি বলতে চেয়েছেন। যারা তদন্তে জড়িত ছিল তাদের সঙ্গে কথা করেছি। তাদের তদন্তের রিপোর্ট কালেক্ট করেছি, অন্যান্য এলিমেন্ট কালেক্ট করেছি।” তিনি বলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে, উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে কার কী ভূমিকা ছিল। কেন সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে থাকল অ্যাকশন নিল না। তিনি বলেন, তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে। এসময় কমিশনের ফাইন্ডিংস সম্পর্কে জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, এই ঘটনা কিছু বাহ্যিক ও প্রকৃত কারণ বের করেছে কমিশন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এর পেছনে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিল তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তারা ২০-২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢুকেছে এবং বের হবার সময় সেই মিছিলে দুই শতাধিক মানুষ ছিলো। তিনি বলেন, পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিলো। তিনি এই ঘটনার দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে বলেন, দায় তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধানেরও। এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও রয়েছে চরম ব্যর্থতা। তিনি বলেন, ওই ঘটনার সময় কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ভূমিকা ছিলো অপেশাদার। তিনি বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) যেসব বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করেছে, তাদের সঠিক নাম পরিচয় ও তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি। কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ করে, যাতে করে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায় এবং এই ঘটনার ভিকটিমরা ন‍্যায় বিচার পায়। বৈঠকে অন্যান্যের উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ ও স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি।

Read more →

এলিজাবেথ স্কুলের কদবেল

Nov 28, 2025

খুলনায় এলিজাবেথ স্কুলে পড়ার সময় স্কুলের সামনে বিক্রি করা কদবেল খেতাম অনেক, অনেক পছন্দের একটা খাবার ছিল এটা। কদবেলের বোটার জায়গাটা ছিদ্র করে, ওই ছিদ্র দিয়ে মশলা ঢুকিয়ে একটা বাঁশের ছোট চিকন কাঠি দিয়ে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কদবেলের পেটের ভেতর মশলা ভাল মত মাখিয়ে দিত কদবেলওয়ালা মামা। এরপর ওই ছিদ্র দিয়ে কাঠি ঢুকিয়ে যতটুকু ওঠে ততটুকুই অনেক সময় ধরে খেতাম। যতদূর মনে পড়ে ৫ টাকার একটা নিতাম, মাঝে মাঝে বড়টা ১০ টাকায় কিনতাম, ১০ টাকারটা নেওয়া মানে বিড়াট ব্যাপার ছিল। স্কুল থেকে বাসায় যাওয়া পর্যন্ত খেতাম। খাওয়া শেষ হলে কদবেলটা ফাটানোর পর আরও যত পারা যায় চেঁছে খেতাম। আহ্ সেই ট্যাশ 🫠। অনেক সময় এমন হয়েছে কদবেলটা ফাটানোর পর আবিষ্কার করতাম যে কদবেলটা আসলে পঁচা ছিল। মশলা এত ভাল ভাবে মাখিয়ে দিত মামা যে পঁচা টের পেতাম না। না টের পাওয়ার আরও একটা কারন হয়ত তাজিম, ড্যানি ভাই, সানি ভাইদের সাথে রাজ্যের বিচিত্র সব গল্প করতে করতে বাসায় যাওয়াটা। তখন যদিও স্কুল থেকে বাসায় যাওয়ার রাস্তাটা অনেক দীর্ঘ মনে হত, অনেক পরে আবিষ্কার করি ওই রাস্তাটা আসলে অত বেশি না।

Read more →

পলাতক শেখ হাসিনা

Nov 26, 2025

পলাতক শেখ হাসিনা আসলে টুঙ্গি পাড়ায় বিমান বন্দর করার জন্য উদ্যোগ নেয়, কিন্তু বাস্তবায়ন যে হয় নাই সেটা ভুলে গেছিল। এজন্য তিনি আসলে মনে করেছেন যে বিমানে করে তাকে টুঙ্গি পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যে কারনে বিমান বন্দরের অস্তিত্ব না থাকায়ও টুঙ্গি পাড়ায় বিমান নিয়ে ল্যান্ড করার কথা তিনি ভেবেছিলেন। এটা শুনে মনে পড়ে গেল লক্ষণ সেনের ব্যাপারটা। বিখ্যাত অস্তিত্বহীন চৈনিক ঐতিহাসিক ঘ্যাচাং পং তার অস্তিত্বহীন ইতিহাসের বই পংচংবং-এও এমনই একটা ঘটনার কথা লিখেছেন লক্ষণ সেনের ব্যাপার নিয়ে। লক্ষণ সেনও জানতেন না নৌকায় করে তাকে আসলে ভূল বুঝিয়ে নদী পার করে তার রাজ্যের পূর্বাংশে নেওয়া হচ্ছে। লক্ষণ সেন ভেবেছিলেন নৌকায় করে আসলে তাকে ইখতিয়ার উদ্দিনের সৈন্য বাহিনীর পশ্চাৎ ভাগে নেওয়া হচ্ছে, যেন লক্ষণ সেন বীরত্বের সাথে ইখতিয়ার উদ্দিনের বাহিনীকে পেছন থেকে অকস্মাৎ আক্রমণ করে পর্যদুস্ত করে দিতে পারে। পরে যখন জানতে পারেন আসল ঘটনা তখন সেন রাজা আফসোস করে বলেন যেন তার ফেলে আসা সাম্রাজ্যের পশ্চিম অংশের সকল সম্পদ তার গরীব অধিবাসীদের বিলিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনা পরবর্তীতে ঘ্যাচাং পং এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে পলাতক রাজা লক্ষণ সেন নাকি জানান। এভাবেই ইতিহাসে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। আহারে!

Read more →

ফেইলিওর অফ চালডাল

Nov 16, 2025

Chaldal is THE WORST when it comes to deliver items to their users. I am not talking about something a very recent or random or even a rare issue, rather this is happening for “at least 3-4 YEARS”. Many times I order some emergency items at the morning or the night before, hoping I will get them delivered as they promise during ordering time. They miss their promised slot and deliver more than 4-5 hours later, even at night many times. And this is even more crazy that sometimes I get the products delivered the next day 🤯, what is this!?!? I have provided 2 screenshots. 1 is of the SMS I received right after I ordered some items yesterday. As you can see they promised that they will deliver them by 11pm yesterday night. The second screenshot is right after I actually got the items delivered, which is today at 2pm. Again, trust me this is not just one random and rare issue. I am writing this after literally being fed up facing this issue so many times by their fuchkaed up delivery system.

Read more →

ইমাম ইন জুমু'আ স্পিচ

Nov 7, 2025

ইমাম ইন জুমু'আ স্পিচ: বিফোর কিয়ামাহ্, পিপল উইল কম্পিট উইথ ইচ আদার ফর মোর বিউটিফুল হাই স্টোরিইড মাসজিদ। দ্যাট সেইম ইমাম ইন এনাদার জুমু'আ স্পিচ: লেটস বিল্ড এ ম্যাগনিফিসেন্ট মাসজিদ ইন আওয়ার লোকালিটি দ্যাট উইল স্টান এভরি আদারস। হু উইল ডোনেট ব্লা ব্লা বিগ এমাউন্ট, রেইজ ইওর হ্যান্ড।

Read more →

ফ্রম নাবিলা ইদ্রিস: গুমঘর

Nov 3, 2025

ফ্রম নাবিলা ইদ্রিস:- গুমঘরের এক প্রহরীর সাথে আলাপের সময় তিনি আমাকে একটা কথোপকথন ন্যারেট করেছিলেন, যা আমাকে অনেক ভাবিয়েছে। ওনার এক কলিগকে উনি একবার বলেন, "আচ্ছা, আপনার কি মনে হয় এখানে আপনি যা করছেন তা ভাল কাজ?" তখন সেই কলিগ উত্তর দিয়েছিল, "হ্যাঁ, আমি তো বন্দীদের দেখে রাখছি, খাবারদাবার দিচ্ছি, বাথরুমে নিয়ে যাচ্ছি। আমি তাদের পরিচর্যা করছি। আমার অবর্তমানে তো তারা কস্ট পেত।" যেই ভদ্রলোক আমাকে বর্ণনা করছিলেন, তিনি কথাটা মেনে নিতে পারেননি। আমাকে বলেছিলেন, "আমার এরকম মনে হয় নাই। আমাদের কমান্ডে কিছু ছিল না বটে, কিন্তু আমার মনে হত আমরাও যুলুমের অংশীদার।" সম্পূর্ণ অজান্তেই, খুব ছোট এই অভিব্যক্তির মাধ্যমে হ্যানা আরেন্টের 'আইখম্যান ইন জেরুজালেম' বইয়ের সেন্ট্রাল ডিলেমা ফুটিয়ে তুলেছিলেন এই সাধারণ প্রহরী। (বাই দ্য ওয়ে, এই কারণেই প্রশ্ন করা আর উত্তর শোনা আমার ফেভারিট কাজ, যদিও পৃথিবীতে খুব কম মানুষই এই অতি কৌতূহল সহজ ভাবে নেয়। যারা আমার নিরন্তর প্রশ্ন সহ্য করেন, তাদের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা!) আরেন্ট নাৎসি অফিসার এডলফ আইখম্যানের বৈপরীত্য এক্সপ্লেইন করার চেষ্টা করছিল - এই লোক যে এত মানুষের মৃত্যুর লজিস্টিকাল আয়োজন করেছে, সে রিয়েল লাইফে কীভাবে একজন বোরিং আমলা মাত্র, কোন অতি ইভিল মনস্টার না কেন? আইখম্যানও নিজেকে ডিফেন্ড করেছিল এই বলে যে, "আমি তো কখনও কাউকে মারিনি, কারও মৃত্যু অর্ডারও করিনি। যারা মারা গিয়েছে তাদের চিনি না, কোন ব্যক্তিগত বিরোধও নেই। আমি শুধু আমার ডিউটি পালন করেছি।" আরেন্ট বলেছেন আইখম্যানের ইভিল জন্ম নিয়েছে "চিন্তার অনুপস্থিতি" থেকে; অন্ধ আনুগত্যের বশে তার কাজের মানবিক পরিণতি নিয়ে অচেতনতা থেকে। এইটুক তো একাডেমিক জগতে আমরা প্রায় সবাইই অল্প বিস্তর জানি। কিন্তু এখানে আমি আরেকটা ইস্যু যোগ করতে চাই। "বোরিং আমলা" আইখম্যানের চারপাশের মানুষ তাকে কীভাবে দেখত? গত এক বছরের অভিজ্ঞতা আমাকে বলে আইখম্যানকে সুপার ইভিল কিছু না, তারা ঠিক "বোরিং আমলা" হিসেবেই দেখত। কারণ কথাচ্ছলে অনেক নিরেট ভাল মানুষদের কাছ থেকেও শুনি, "আপনারা চমৎকার কাজ করছেন। কিন্তু অমুক ভাইকে আমি চিনি। আসলে উনি খারাপ মানুষ না। বদ নসিব যে আপনাদের ইনকোয়ারিতে জড়িয়ে পড়েছেন।" আই বিলিভ দেম। ডে টু ডে লাইফে আমার মনে হয় অনেক অভিযুক্তই ঠিক ডিপজলের "আহো ভাতিজা" মার্কা ইভিল ছিল না, "বোরিং আমলা" ইভিলই ছিল। তাই সিনেমার আইডিয়াল ভিলেনকে না পেয়ে, চারপাশের মানুষ বিস্তর ধাক্কা খাচ্ছে। আমিও প্রথমে খেয়েছি। অনেক অভিযুক্তরা সিম্পলি চার্মিং, ইন এনাদার লাইফ হয়ত দিব্যি গল্প করা যেত। প্রথম যেদিন জেলে গিয়ে গুম-খুনের জন্য মৃতুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের একের পর এক নরমাল দিনেও রোজাদার পাচ্ছিলাম, ব্যাপক কনফিউজড ছিলাম। কী হচ্ছে এখানে? আমি আসছি বলেই কি রোজার ভান করছে? উহু - পরে বুঝেছি ওনারা আসলেই বছরের পর বছর স্বেচ্ছায় নফল রোজা রাখছেন। নিজের মুসলিমনেস নিয়ে কিঞ্চিৎ চিন্তিত হলাম বটে। তাদের নফল ইবাদত আমি কীভাবে রিড করব? আমারই যদি রিড করতে প্রব্লেম হয়, যার কাছে এভিডেন্স স্প্রেড ক্লিয়ার, তাহলে তাদের চেনা পরিচিতজনদের রিড করা হয়ত আরও কঠিন হতে পারে। এর মানে কিন্তু তার ক্রাইমের গভীরতা কমে যাওয়া না - আইখম্যান ইজ স্টিল আইখম্যান - কিন্তু এতে চারপাশের কনফিউশানের একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। একবার একটা জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত ছিলাম যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী (উনি স্বেচ্ছায় এসেছিলেন, কেউ ডাকিনি) ইন্সিস্ট করেছিলেন তাঁর স্বামী একেবারেই নির্দোষ। টিম লিডার ঘুরে ভদ্রলোককে বলেছিলেন, "আমাদেরকে যা বলেছেন, ভাবীকে জানান।" ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ভদ্রলোক আমাদের যা বলেছিলেন, তা বলার সময় আমি মনোযোগ দিয়ে ভাবীকে দেখছিলাম। শি রিয়েলি হ্যাড নো ক্লু। আমি বিশ্বাস করি এই ভদ্রলোক সত্যিই একজন ভাল স্বামী, অসাধারণ বাবা, এবং দরদী প্রতিবেশী। উনি আইডিয়াল ইভিল না। আইডিয়াল ইভিল নাই, বা খুব কম আছে পৃথিবীতে (পলাতক মহিলাটা এক্সসেপশান)। কিন্তু এতে ভদ্রলোকের ক্রাইমের বোঝা লাঘব হয় না। আমার ভয় বাংলাদেশে অচিরেই আমরা আইডিয়াল ইভিল-আইডিয়াল ভিক্টিমের একটা কন্সেপচুয়াল চক্করে পড়তে যাচ্ছি। আইডিয়াল ইভিলের মূলা ঝুলিয়ে আমাদের ডিস্ট্র্যাক্ট করা হবে। আমাদের এই ট্র্যাপ এভয়েড করা উচিত। আমরা গডের সিটে নাই। আমরা মানুষের এটারনাল লাইফের আউটকাম নির্ধারণ করছিনা। বাংলাদেশে একটা স্পেসিফিক সময়ের একটা স্পেসিফিক অপরাধের বিচার করার আপ্রাণ চেষ্টা হচ্ছে। এখানে আইডিয়াল ইভিল প্রয়োজন নেই, খোঁজাও উচিত না। খুঁজলে, ভিক্টিম আর ভিলেন, দুজনের প্রতিই অনর্থক অবিচার হবে। (আইডিয়াল ভিক্টিম নিয়ে সামনের দিন বলব, হ্যাঁ?)

Read more →

রকিব হাসান ডাইড

Oct 15, 2025

মেরী চাচী প্রথম কাঁদো কাঁদো গলায় কিশোরকে জানাল খবরটা। খবরটা শুনেই একদম থমকে গেল সে। কিশোরকে এভাবে চুপসে যাওয়া দেখে রবিন, মুসা সোফা থেকে এক লাফে উঠে গেল। এদিকে মেরী চাচী অঝোরে কান্না শুরু করে দিয়েছে। তখনই ঘরে ঢুকল ওকিমুরোর ওমর ভাই আর জিনা পার্কার। এদের দুইজনকে দেখেই রবিনই প্রথম জোরে বলে উঠল "কি হয়েছে?"। জিনা একদম কেঁদে মেরী চাচীকে জড়িয়ে ধরেই বলল রকিব দাদা আর নেই। মুসা তার ব্যায়াম করা ভারী শরীর নিয়ে একদম ধপাস করে পড়ে গেল সোফার কোনায়, সোফা মুসার ভার না সইতে পেরে এক পা ভেঙে কাত হয়ে পড়ে গেল। রবিন একদম সটান দাঁড়ানো। মুসাকে কেও তুলতেও গেল না। ওমর ভাই তার পিঠ থেকে হ্যাট আর শিকারী বন্দুক রুমের এক কোনায় রেখে চুপচাপ চোখের পানি ফেলছে। টেরী, মি: ফগও কোনওভাবে খবরটি পেয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরে ঢুকে এসেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদা শুরু করল। আজ সবাই যেন সব শত্রুতা ভুলে এক হয়ে গেছে। এখন আর জলদস্যুর দ্বীপেও যাওয়া হবে না, কাকাতুয়াও আর হারিয়ে যাবে না। আমার স্কুল জীবনের বইয়ের নেশার কারিগর তিন গোয়েন্দার লেখক রকিব হাসানকে আল্লাহ জান্নাত বাসী করুক। ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রজিউন।

Read more →

[আরিফ রহমান]

Oct 13, 2025

[আরিফ রহমান] “””আমি চিফ এডভাইজারের পেইজে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ‍্যের উপর বানানো প্রামাণ্যচিত্রটা দেখতেসিলাম। সম্ভবত আপনারা সবাই এতক্ষণে দেখে ফেলসেন। ওখানে মাঝামাঝি জায়গায় ১৫ বছর বয়সী একটা ছেলের গল্প আছে। না, ছেলেটার পরিবার থেকে কোন অভিযোগ করা হয় নাই। কিন্তু সে যেই সেলে ছিলো তার আশেপাশের সেল থাকা ভিকটিমরা একটা বাচ্চা ছেলের কান্নার আওয়াজ পাইতো। একটা ছেলে নাকি সারাদিন কাঁদতো। ঐ আশেপাশের সেলের ভিকটিমরা গুম কমিশনে এসে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এই ছেলে কথা বলতো। কমিশনের কাছে অনুরোধ করতো ছেলেটার খোঁজ বের করতে। তারপর বিরাট কাহিনী। কীভাবে তাকে খুঁজে পাওয়া গেলো ইত্যাদি। সব ঐ প্রামাণ্যচিত্রে আছে, আমি সেসব আরেকবার না বলি। আমি বলি গতকাল মধ্যরাতে কেন আমার ব্রেকডাউন হইলো। তো ছেলেটার বাবা বলতেসে যখন ওনারা ছেলেটারে যখন পাইসেন, তার দুই পায়ে আর দুই হাতে কোন নখ ছিলো না। প্রতিটা নখ টেনে টেনে তোলা হইসে। চিন্তা করেন ১৫ বছরের একটা ছেলে। তাকে প্রতিদিন পেটানো হচ্ছে। হাতের নখ তুলে ফেলা হচ্ছে। প্রামাণ্যচিত্রের বাকিটা আমি আর দেখতে পারি নাই।

কমিশন গুম হওয়া মানুষদের ভেতর প্রেগন্যান্ট, বৃদ্ধ, তরুণ, রিকশাচালক, ধনী সবই পেয়েছে। একটা সাক্ষ্য আছে ছয় বছরের একটা বাচ্চা মেয়েকে মায়ের সাথে নিয়ে গেছে, মেয়েটা বলতেসে যে তার মা'কে কালো টুপি পরাইয়া নিয়া যাওয়া হইতো। যারা গুম ছিলেন অনেকদিন- তারা এখন অনেক কিছুতে ট্রিগার হন। কেউ হাইস গাড়ি দেখলে, কেউ লাক্স সাবানের গন্ধ পেলে, কেউ তাকে নির্যাতনের সময় যে গান বাজানো হতো সেটা শুনলে।

আসলে এই লেখা ঐ প্রামাণ্যচিত্রে কি কি আছে সেসবের কাহিনী বলার জন্য লিখতেসি না। সেটা আপনারা দেখেই নিতে পারবেন। বরং নখ তুলে ফেলার কাহিনীটা তো অন্যতম কম নির্মম একটা ঘটনা। আসলে এটা দেখার সময়কার আমার অভিজ্ঞতার কথা আমি বলতে চাই। যখন ১৫ বছর বয়সী ছেলেটার কাহিনী শুনতেসিলাম তখন আমার শরীরে প্রচন্ড খিঁচুনির মতো দেখা দিলো। আমি শোয়া থেকে বসে পড়লাম এবং দীর্ঘ সময় কাঁদলাম। সেদিন আমাদের দ্য পোস্টের অফিসে সহকর্মীদের সাথে আওয়ামী আমলে আমাদের দালাল মিডিয়ায় চাকরি করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিজেদের মেধা আর কর্ম দিয়ে সাহায্য করার অপরাধ কতোটা বড় বা ছোট অপরাধ ছিলো তা নিয়ে আলাপ করতেসিলাম। আমি প্রায়শই বাংলাদেশের সিনিয়ার সাংবাদিকদের 'মননের আওয়ামী লীগ' নিয়ে ফেসবুকে লেখালিখি করি, আমার বহু সাবেক সিনিয়ার কলিগরা মনঃক্ষুণ্ণ হন।
তো আমাকে এক সহকর্মী বললেন- তুইও তো কাজ করেছিস। আমি বললাম হ্যা আমি করসি তো। করসি দেখেই তো সাব-এডিটরের উপরের কোন পদে আমাকে কোন প্রতিষ্ঠান যোগ্যই মনে করে নাই। সবচেয়ে নিম্ন থেকে নিম্নতম পদে থেকেও সিনিয়ারদের কাছে বেয়াদব, শিবির, মৌলবাদী হেন তকমা নাই যেটা আমাকে দেয়া হয় নাই। এবং এতোকিছুর পরেও তো আমি এখন দোষ স্বীকার করি। আমি একনলেজ করি আমার অপরাধ। আমি মনে করি কোন না কোন লেয়ারে আমার কি বোর্ডে দুইটা লাইন নিউজ লেখা আওয়ামী লীগের দমনের হাতকে আরও শক্তিশালী করসে। আমার এক্টিভিজম মানুষকে রাক্ষস বানানোর রসদ জোগাইসে। আপনারা কয়জন এই বীক্ষণ করেছেন? এই তর্ক সেদিন করা গেছে। মনে হয়েছিলো জিতেই গেছি। কিন্তু গতকাল মধ্যরাতে যখন অশ্রু আমার মুখ থেকে গড়িয়ে পায়জামার উপর এসে পড়েছে- তখন এই তর্ক টেকে নাই। আমরা প্রগতির নামে, মুক্তবুদ্ধির চর্চার নামে কি করি নাই? হোয়াট নট? আমার বাচ্চার আঙুল থেকে নখ তুলে নেয়া হইতেসে একটা একটা করে- আর আমরা স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জঙ্গি, শিবির এইসব আউড়ে গেছি।

পনেরো বছর বয়সী সেই ছেলেটি এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। ছেলেটির দরিদ্র পিতা না তার চিকিৎসা করতে পারছে না মামলা করতে পারছে। দুই বছর পর তার 'পুত' ফিরে আসছে এইটা নিয়েই সে সন্তুষ্ট। আল্লার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি এক সময় বাম রাজনীতি করতাম। কৃষকের কাটারিভোগ ধান কৃষক নিজেই খাইতে পারে না, কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডলের বক্তব্য শেয়ার করে আবেগে ভাসতাম। ঐ অদেখা কন্সেপচুয়াল কৃষকের জন্য আমি আবেগপ্রবণ হতাম, কিন্তু এই দরিদ্র পিতার পনেরো বছরের কিশোর সন্তানের প্রতি আমার আবেগ জন্মাতো না। আমরা গুমের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, খুনের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, আবার আমরাই কয়েকজন মনের ভেতরে ঠিকই ভাবতাম কিছু শিবিরের পোলাপানের সাথে এমনটা হওয়াই উচিত। এই যে ধরেন এই লেখাটা পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই আওয়ামী লীগ আর ছাত্রলীগের সমর্থকেরা এসে প্রমাণ করে দেবে ইউনুস সরকারের ঐ রিপোর্ট ভুয়া, ছেলেটা কতো ভয়াবহ জঙ্গি ছিলো ইত্যাদি।
আরে এরা তো আবরারকে শিবির বানিয়েছেই বিশ্বজিৎকেও শিবির বনিয়েছে। আসলে এই আওয়ামী লীগ-যুবলীগের সদস্যদের, দেশের সাংবাদিক সুশীল সমাজ কিংবা বিদ্যান বুদ্ধিজীবী সমাজের তো কখনো বিচার হবে না। সেই বিচারের ওয়াক্ত পারও হয়ে গেছে বহু আগে।

কিন্তু আমি আমার বিচার চাই। আমার কয়েকটি নখ উপড়ে ফেলা হোক, আমাকে তিন ফুট বাই সাড়ে চারফুটের অন্ধকার রুমে কিছুদিন রাখা হোক, আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে উলঙ্গ করে ঝুলিয়ে রেখে কিছুদিন পেটানো হোক। একটা প্রতীকী বিচার অন্তত হোক। আমি উইশফুলি চাইতেসি আমার ইন্টেলেকচুয়াল ক্রিমিনাল এক্টিভিটির জন্য আমাকে বিচারের আওতায় আনা হোক। এই নিষ্ঠুর ক্লেদ থেকে আমি মুক্ত হতে চাই। ঐ পনেরো বছরের ছেলেটি যদি আমাকে ক্ষমা না করে- তাহলে আমার আল্লাহর কেয়ামত কিংবা আমার নফসের কেয়ামত, আমার বিবেকের বিচার- কেউ আমাকে ক্ষমা করবে না। আমি আমার সন্তানের দিকে কখনো চোখ তুলে তাকাতে পারবো না।”””

Read more →

ড. নাবিলা ইদ্রিস

Oct 9, 2025

আল্লাহর প্রতি মানুষের দায়িত্ব, আর আল্লাহর সৃষ্ট প্রতিটি মানুষের প্রতি অন্য মানুষের দায়িত্ব - দুইটা আলাদা। আল্লাহর প্রতি মানুষের যেই দায়িত্ব সেটার অবহেলা করলে সেটার ক্ষমা কেবল আল্লাহ করতে পারে। কিন্তু এক মানুষের প্রতি অন্য মানুষ যে কোন ভাবে ক্ষতি করলে সেই ক্ষতির জন্য ক্ষমা কেবল ওই মানুষই করতে পারবে, এই পূর্ণ অধিকার আল্লাহ তার সৃষ্ট মানুষকে দিয়ে দিয়েছেন।

---ড. নাবিলা ইদ্রিস (সদস‍্য, গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশন) লিখেছেন--- “আমরা রেগুলারলি ভিক্টিমদের থেকে গোপন ডিটেনশন সেলে ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা শুনি। এসব নির্যাতন প্রায়ই এতটা নিষ্ঠুর হয় যে তাদের শরীর ও মনে স্থায়ী ক্ষত রেখে যায়। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু ভিক্টিম এমন ঘটনার বর্ণনাও দেন যেখানে আচমকা এক ধরনের অস্বাভাবিক মানবতার ঝলক দেখা যায় – কখনও কোন প্রহরীর থেকে, কখনও কোন অফিসারের থেকে। ভুক্তভোগীরা এসব মুহূর্ত ভোলেন না। এবং, তাদের মাধ্যমে, আমরা এখন এমন অনেক স্মৃতির রিপজেটরি হয়ে গিয়েছি যা আমাদের যথেস্ট ভাবায়। একজন তরুণ ছাত্র, যিনি টর্চারের চোটে আজ স্থায়ীভাবে অসুস্থ, আমাকে বলেছিলেন যে টর্চারিং অফিসার মারতে মারতে দুটো ইন্সট্রুমেন্ট ভেঙে ফেলে পরবর্তীতে তৃতীয়টি দিয়ে টর্চার চালিয়ে যান। নির্যাতন এতটাই নৃশংস ছিল যে সেই ঘরে থাকা দুই নারী অফিসার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ঘর ছেড়ে চলে যান। যদিও তিনি অর্ধচেতন ছিলেন, সেই দুজনের কান্নার দৃশ্যটি তার আজও মনে গেঁথে আছে। আরেকজন বন্দি আমাকে বলেছিলেন এক রাতে তিনি তাহাজ্জুদ পড়ছিলেন। তার সুরেলা তিলাওয়াত শুনে এক প্রহরী খুব কাঁদতে থাকে। অতঃপর ক্ষমা চাইতে চাইতে বলে, “আমি জানি আপনারা নির্দোষ, কিন্তু আমি কিছুই করতে পারছি না।” পরিবর্তীতে যখন বন্দিকে কিছু সময়ের জন্য সেল থেকে সরিয়ে নিয়ে আবার ফেরত আনা হয়, সেই প্রহরী আবেগাপ্লুত হয়ে যায়, “আপনি বেঁচে আছেন! আমি ভেবেছি আপনাকে মেরে ফেলতে নিয়ে গিয়েছে। তাই আমি বাড়ি ফিরে নামাজে দাঁড়িয়ে আপনার জন্য অনেক কান্না করেছি।” একজন অফিসারকে বলা হয়েছিল তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকার একটিভ রাজনৈতিক কর্মীদের তালিকা জমা দিতে। পরে যখন তিনি জানতে পারেন সেই তালিকার প্রতিটি মানুষকে এলিমিনেট করা হয়, তিনি প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন, ইন ফ্যাক্ট সুইসাইডাল হয়ে যান। কিছু গোপন বন্দিশালায় বন্দিদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের পরিমাণ ছিল প্রহরীদের আনুমানিক অর্ধেক। কিন্তু এসব বন্দিশালার কিছু ভিক্টিম আমাদের বলে, “নিষ্ঠুর প্রহরী বহুত ছিল কিন্তু ভাল প্রহরী ডিউটিতে থাকলে আমরা একটু বেশি খাবার পেতাম।” প্রথমে ব্যাপারটা আমার কাছে কনফিউজিং ছিল কারণ রেশন তো নির্দিষ্ট, এই অতিরিক্ত খাবার কোথা থেকে আসে? কিছু সাক্ষ্য নেয়ার পর বুঝতে পারি সম্ভবত অল্প সংখ্যক প্রহরী তাদের নিজেদের খাবার বন্দিদের দিয়ে দিত। হয়তো এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জেশচারের মাধ্যমে কিছু মানুষ অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছে, এক রকম নীরব প্রায়শ্চিত্ত করেছে। এই "প্রায়শ্চিত্ত" বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। একজন জুনিয়র অফিসারকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়, “আপনি কি হত্যা করেছেন?” তিনি ইতস্তত করে বলেন, “দুইজনকে করতে হয়েছে, আর চারজনকে হতে দেখেছি।” তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, “এই কাজের বিনিময়ে যে টাকা পেয়েছিলেন, কী করেছেন?” তিনি বলেন, “গ্রামের মসজিদে দান করে দিয়েছি।” তার উত্তরটা আমাকে অনেক ভাবিয়েছে। ক্রিমিনাল এলিমেন্টটা তো সহজেই বোধগম্য, কিন্তু আমি চিন্তা করেছি তার মনের ভেতরের সেই দ্বন্দ্বটি নিয়ে। যেই দ্বন্দ্বের তাড়নায় ২৭ বছরের ছেলেটা চেষ্টা করেছে হ্যাপহ্যাজার্ড ভাবে হলেও নিজের অন্তরকে শোধরানোর। একজন সিনিয়র অফিসার আমার কাছে স্মৃতিচারণ করেছিলেন যে এমন এক অপরাধীকে তিনি বলেছিলেন: “তুমি এখন যেসব নামাজ-কালাম করছ, তা আল্লাহর হক। কিন্তু যে ক্রাইম এর আগে করেছ, সেটা মানুষের হক। আল্লাহ মানুষের হক নিজে ক্ষমা করে না, তোমার বান্দার থেকে ক্ষমা চাইতে হবে। নামাজ is not enough." প্রায়শ্চিত্ত করতে চাইলে আপনাকে এখন কথা বলতে হবে। কমিশনে আমরা সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনি – সে যে-ই হোক – প্রত্যেককে কনফিডেনশিয়ালিটি অফার করি। যদি আপনার আত্মা কোনো ক্ষত বহন করে, তবে এটাই সময় সেই ক্ষত নিরাময়ের। আমাদের কাছে আসুন, কথা বলুন। বুঝতেই পারছেন অনেকেই এরই মধ্যে বলেছেন। এই সুযোগ চিরকাল থাকবে না। এখন মুখ না খুললে আপনার soul-এর wound তো unhealed রয়ে যাবেই, আপনি নিজেও নিজের কাছে coward প্রমাণিত হবেন। আগস্ট ৫ তারিখ কবে পার হয়ে গিয়েছে, তবুও আপনি সত্য বলার সাহস করতে পারেননি? নিশ্চিত থাকুন ন্যায়বিচার একদিন হবেই — হয় আমাদের মাধ্যমে, বা পরকালে আল্লাহর দরবারে। It is unavoidable."

Read more →

গুম ইন বাংলাদেশ

Oct 8, 2025

গুমের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকলেই আল্লাহ যেন তাদের প্রাপ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ফিরিয়ে দেন। ‘বাংলাদেশে কখনো কেউ গুম হয় নাই’- বলে পতিত ফ‍্যাসিস্ট এক ধরনের অস্বীকারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। এখনো তারা মিথ্যা প্রচার ও বিকৃত বয়ানের মাধ্যমে তাদের শাসনামলে সংঘটিত বিস্তৃত ও পরিকল্পিত গুমের সত্যকে আড়াল করে দায় এড়াতে চায়। The Commission of Inquiry on Enforced Disappearances (গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন) দীর্ঘ তদন্ত শেষে উদঘাটিত তথ‍্য এবং অকাট‍্য প্রমাণের ভিত্তিতে নির্মাণ করেছে প্রামাণ্যচিত্র ‘Unfolding The Truth’। গুম কারা করতো, কীভাবে করতো, গুম করার পরে কোথায় কীভাবে রাখা হতো, গুম হয়ে যাওয়া মানুষদের কী পরিণতি হতো, কারা কারা এই কাজে জড়িত ছিল? এই সব প্রশ্নের প্রমাণসহ উত্তর খুঁজে পাবেন এই প্রামাণ্যচিত্রে যা ফ‍্যাসিস্টের সত‍্য লুকানোর সব অপচেষ্টাকে প্রতিহত করবে। তথ‍্য-প্রমাণোর ভিত্তিতে গোপন আটক কেন্দ্র উন্মোচন, ধ্বংস বা লুকিয়ে রাখা প্রমাণ উদ্ধার করা-সহ এই অপরাধের পুরো সাইকেলটা উদ্ধার করেছে গুম কমিশন, যা আদালতের বিচারে অকাট‍্য প্রমাণ হিসাবে বিবেচিত হবে। আমাদের কালের জঘন্য অপরাধের বিপরীতে গা শিওরে ওঠা এক অকাট‍্য দলিল হয়ে থাকবে গুম কমিশনের তদন্তে উঠে আসা এইসব তথ্য। প্রামান‍্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। সহযোগিতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। #JulyUprising #JulyUprisingFilms #EnforcedDisappearances #Bangladesh

Read more →

আমার নিন্জা ইনভয়েস

Sep 28, 2025

আমার develop করা simple invoice web appটার registration এখন সবার জন্য উন্মুক্ত। অনেক অনেক ধন্যবাদ তাদেরকে যারা গতবারের পোস্টের পর এ্যাপটা ব্যাবহারের চেষ্টা করেছে। এবং তাদের কাছে দু:খিত এইজন্য যে তখন registration সবার জন্য উন্মুক্ত করতে পারিনাই। আসলে পোষ্টটা করার পর আমার মনে পড়ছিল যে registration অপশনটাই এ্যাড করা হয় নাই 😬। ছোট খাট bug পাইতে পারেন, আছে যেটা আমিও জানি। সময় অনুযায়ী তাড়াতাড়ি ঠিক করার চেষ্টা করব। সব একবারে ঠিক করার চিন্তা করলে আর রিলিজ করা হইত না। ফিডব্যাক দিলে খুবই উপকৃত হব, যত খারাপই হোক, ইনবক্স বা পোষ্ট বা যে কোন ভাবে, I'm always open to criticism, ট্রাস্ট মি। ...আমার UI/UXএর ধারণা খুবই খারাপ। কিছু কিছু জায়গায় সিম্পল ইউআই ইউএক্স রাখার চিন্তা করতে যেয়ে সম্ভবত ভজঘট পাকায় ফেলছি। ...UI/UX এর ইম্প্রুভমেন্টের জন্য UI/UX Guru Shamol এর সাহায্য চাইছিলাম, এখন পর্যন্ত পাই নাই। সুতরাং ওই পার্টের দায় কিছুটা হলেও ওই ব্যাডার। আপডেট ২: Dedicated ইমেইল সার্ভিস নেওয়া হয়েছে। ইনবক্সে ইমেইল ডেলিভারি অনেক বেশি গারন্টিড। আপডেট ১: কিছু ছোটখাটো আপডেট রিলিজ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে UI এবং UX এর উন্নতি এবং বেশ কয়েকটি মেজর বাগ ফিক্স। পরবর্তী রিলিজে থাকবে: একের বেশি আইটেম যুক্ত করতে পারা https://invoice.rafi.ninja

Read more →

মেসোপটেমিয়ার কিউনিফর্ম ট্যাবলেট রহস্য

Sep 12, 2025

মেসোপটেমিয়া গ্রীক শব্দ, যেটা দিয়ে আধুনিক ইরাককে বোঝানো হয় (ছবি ১)। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ানরা (সুমেরিয়ান, ব্যাবিলনিয়ান) নরম মাটির ওপর লেখালেখি করত, আঁকত। এই লেখার পদ্ধতিকে বলা হয় কিউনিফর্ম (Cuneiform)। এই পদ্ধতি মূলত সুমেরিয়ানদের আবিষ্কার। এই নরম মাটি, যেটা পরে শুকিয়ে শক্ত হয়, যেটা ট্যাব বা ট্যাবলেটের মত দেখতে সেটাকে বলা হয় ক্লেয় বা মাটির ট্যাবলেট। যেগুলো আসলে শক্ত কিন্তু ভঙ্গুর ছিল, যে কারনে এসব মাটির ট্যাবলেট এখন একদম সম্পূর্ন অরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায় না, টুকরা টুকরা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। এই কিউনিফর্মে লিখিত ভাষা এখনও পুরোপুরি বোঝা না গেলেও সিংহভাগই ডিসাইফার করা গেছে। ব্যাবিলনিয়ানদের ক্লেয় ট্যাবলেটে তৈরী করা একটি ম্যাপ, যেটা ১৮৮০ সালে ইরাকের বাগদাদে পাওয়া গেছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে পুরাতন ম্যাপ। এটাকে বলা হয় Imago Mundi। সেই ক্লেয় ট্যাবলেটের সামনে (ছবি ১-১) ও পেছনের দুটো অংশের সামনের অংশের নিচের দিকে (ছবি ১-২) সেই ম্যাপ আঁকা, আর ওপরের অংশে কিছু কিউনিফর্মে লেখা এবং পেছনে দিকে আরও কিছু লেখা পাওয়া গেছে (ছবি ২)। সামনের ওপরের অংশের লেখায় রয়েছে পৃথিবীর শুরুর দিকের ইতিহাস, কিভাবে প্রাণীদেরকে জলে স্হলে ডিস্ট্রিবিউট করা হল। নিচের অংশের ম্যাপটি এভাবে আঁকা - ডাবল সার্কেল (ছবি ১-৩) আর সার্কেলের বাইরের চারিদিকে ৮টা ত্রিভূজ (ছবি ৩ ও ৪)। ডাবল সার্কেলের দুই সার্কেলের মাঝেে তিনটি জায়গায় একই লেখা, ‘তিক্ত নদী’ (ছবি ৫ ও ৬-১)। এটার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে ‘জানা পৃথিবী’টাকে বা তাদের ব্যাবিলনকে এই তিক্ত নদী ঘিরে রয়েছে এবং সার্কেলের ভেতরের অংশ দিয়ে প্রাচীন মেসোপটেমিয়াকে বোঝানে হয়েছে। সার্কেলের ভেতরে উত্তর থেকে দক্ষিণ জুড়ে একটি নদীকে দেখানো হয়েছে, যেটা ইউফ্রেটিস নদী (ছবি ৬-২)। এই নদীর একটা অংশে আড়াআড়িভাবে ব্যাবিলন শহর দেখা যায় (ছবি ৬-৩)। সার্কেলের ভেতরে ছড়িয়ে রয়েছে অনেকগুলো ছোট রিং (ছবি ৭), যেগুলোতে বিভিন্ন শহর বা জাতির নাম লেখা। একদম ওপর থেকে ডানে নামগুলো পড়লে এমন - (ছবি ৮ ও ৯) পাহাড়, কোন এক শহর, উরারতু, এ্যাসিরিয়া, দার, একটা জলাশয়, সুসা, বিত ইয়াকিন, কোন এক শহর, হাব্বান। ডাবল সার্কেলের বাইরের চারিদিকে যেই ত্রিভূজগুলো রয়েছে, সেগুলো ব্যাবিলনিয়ানদের কাছে রহস্যময়, যাদুর দ্বীপ, পাহাড় ইত্যাদি বিভিন্ন স্থান। যদিও ম্যাপটির পুরো অংশের অস্তিত্ব নেই, তবে বোঝা যায় এখানে এমন ৮টি ত্রিভূজ আঁকা ছিল (ছবি ৪)। যেই ৮টি ত্রিভূজের প্রতিটির ব্যাপারে ছোট্টকরে বর্ণনা রয়েছে ট্যাবলেটের পেছনে। এই ত্রিভূজ দিয়ে যেসব স্থানকে বোঝানো হয়েছে সে স্থানের একটা স্থানে কখনই সূর্য দেখা যায় না, আরেকটার গাছে ফলের বদলে হীরা পাওয়া যায়, অন্য এক স্থানে বড় পাখি আছে যেগুলো উড়তে পারে না। যদিও তাদের কেওই এসব জায়গায় যায় নি তবুও তারা এসবে ব্যাপারে বিভিন্ন তত্ব উপাত্বের ওপর ভিত্তি করে এসব ধারণা করেছে। ম্যাপটি আবিষ্কারের শুরুতে দীর্ঘদিন সঠিকভাবে ধারনা করা যায় নি কোন ত্রিভূজের জন্য কোন বর্ণনা করা হয়েছে, কারন ম্যাপটির একটি অংশ ভাঙা ছিল। ব্যাবিলনের বা আধুনিক ইরাকের আর্কিওলজিক্যাল বিভিন্ন স্থানগুলোয় পাওয়া মাটির ছোট ভাঙা বিভিন্ন টুকরার সাথে ঐ হারানো অংশের মিল খোঁজার অনেক চেষ্টা করা হলেও ব্যার্থ হতে হয়েছে দীর্ঘদিন। এরপর ১৯৯০সালের পর সেই ভাঙা হারানো ত্রিভূজটির অংশ খুঁজে পাওয়া যায়। সেই ত্রিভূজে কিউনিফর্মে লেখা ছিল “গ্রেট ওয়াল” (ছবি ১০)। এই অংশের ব্যাপারে ট্যাবলেটটির পেছনের বর্ণনার লেখাটা এমন - “পঞ্চম ত্রিভুজদ্বারা নির্দেশিত জায়গায় যেতে হলে তোমাকে ৭লিগ (২৪মাইল) যেতে হবে, যেটার মানে ওই তিক্ত নদী পার হতে হবে। ৭লিগ যাওয়ার পর তুমি একটা পাহাড়ের নিচে পৌঁছাবে। গ্রেট ওয়াল, এটার হাইট ৮৪০কিউবিট (৩৭৮মিটার), সেখানের গাছ ১২০কিউবিট (৫৪মিটার)। সেখানে দিনের বেলায় তুমি তোমার সামনে কি সেটাও দেখতে পাবে না, রাতে শুয়ে…(এরপরের অংশ ভাঙা) এরপর তোমাকে আরও ৭লিগ (২৪মাইল) যেতে হবে বালির (বা মরুভূমির) ওপর দিয়ে এবং তোমাকে অবশ্যই…..(আবারও ভাঙা অংশ)”। ম্যাপের ওই হারানো ত্রিভূজের অংশ উদ্ধার হওয়ায় এখন বাকি বর্ণনার কোনটা কোন ত্রিভূজের জন্য সেটা জানা সম্ভব হয়েছে, কারন এখন তিনটি ত্রিভূজ পরপর সাজানো সম্ভব হয়েছে। আরেকটি ব্যাপার হল এই বর্ণনার ধারাবাহিকতা এক ত্রিভূজ থেকে আরেক ত্রিভূজে ঘড়ির কাঁটার উল্টোদিকে করা হয়েছে। এই ম্যাপের ৪ নাম্বার ত্রিভূজটি সম্ভবত সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং। ওই ৪ নাম্বার ত্রিভুজে বাকিগুলোর মতই রুপকথার মতকরে বলা হয়েছে - “তোমাকে ৭লিগ (২৪মাইল) পার হতে হবে সমুদ্র পার হতে হলে…” এরপরের অংশ নেই, এরপর লেখা - “…এরপর তুমি এমন জিনিস দেখতে পাবে যেটা পার্সিক্তু নৌযানের মত মোটা ।” এই পার্সিক্তু নৌযানের ব্যাপারে ব্যাবিলনিয়ান বিভিন্ন ট্যাবলেটগুলোতে অহরহ পাওয়া যায়, কিন্তু এটা আসলে কি সেটা জানা যায় নি এখনও। এরপর যেই বর্ণনা রয়েছে সেটা নূহ (আ:) এর সময়ের সেই ভয়ংকর বন্যার ঘটনার সাথে মিলে যায়, পুরো পৃথিবীগ্রাসী যেই বন্যা থেকে নূহ (আ:) তার জাতিকে রক্ষার জন্য বিরাট বড় নৌকা তৈরী করেন আল্লাহর নির্দেশে। এই নৌযান ব্যাবিলনিয়ানদের তথ্য অনুযায়ী ১৮০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে তৈরী। যেটা আমাদের ধারনা করা হিসাবের সাথে মেলে না। আবার তাদের ভার্সনে একটু অন্য ভাবে ঘটনাকে বলা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ নূহ (আ:) কে এটা সেটা করতে আদেশ করছেন, নূহ (আ:) বলছেন হ্যাঁ আমি এটা করেছি, ওটা করেছি, আমি কাজটা শেষ করেছি ইত্যাদি। এবং ঘটনাটি নূহ আ: নিজে বলছেন এমনভাবে লেখা। ৪নাম্বার ত্রিভূজের বর্ণনায় আরও লেখা - “তুমি যদি বিরতি দিয়ে, বিশ্রাম নিয়ে পাহাড়ের ওপর ওঠ তবে তুমি দেখবে কালো রঙের পাঁজড়ের হাড়ের মত দেখতে বাঁকা কাঠের নৌকা, যেটা পার্সিক্তু যানের মত মোটা, যেটা নূহের (আ:) নৌকার ধ্বংসাবশেষ, যেটা সেই পাহাড়ের ওপর পরে রয়েছে। এরপর তুমি পাহাড় থেকে নেমে, সমুদ্র পার হয়ে মাতৃভূমির (ব্যাবিলন) দিকে আসলে প্রথমেই যেখানে আসবে সেটা হল উরারতু (ছবি ১১)।” চমক লাগানো একটা ব্যাপার হল বাইবেলে নূহ (আ:) এর নৌকা যেই পাহাড়ের ওপর থামে বলে বলা হয়েছে সেটা হল আরারাত, যেটা হিব্রু শব্দ। আরারাতের এ্যাসিরিয়ান অনুবাদ বা কাছাকাছি হল উরারতু। ব্যাবিলনিয়ানদের বর্ণনায় এমন ভাবে লিখিত যে নূহ (আ:) এর নৌকাটা দেখতে পারা একটা স্বাভাবিক ঘটনা, মানে ওরা জানত নৌকাটার অস্তিত্ব ও অবস্থানের ব্যাপারে। এখন একটা বিষয় মনে হওয়াটা স্বাভাবিক যে এই ট্যাবলেটের লেখক আসলে কে? ট্যাবলেটের একদম নিচে যদিও ভেঙে যাওয়ায় পুরোপুরি বোঝা যায় না তবুও যতটুকুই আছে তা থেকে লেখকের বাবার নাম পড়া যায়। ব্যাবিলনিয়ানরাও লেখার শেষে নিজের নাম লিখত। যেই লেখাকে বাবার নাম হিসেবে ধারণা করা হয়েছেে সেটা হল “ইস্সুরু”, যার মানে হল পাখি। কিন্তু অবাক করা বিষয় হল ব্যাবিলনিয়ানদের নাম কখনই পাখি বা এই ধরনের কিছু হয় না। ব্যাবিলন থেকে পাওয়া কোন লেখা থেকেই এমন কোনই তথ্য পাওয়া যায় না যেখানে কারও নাম পাখি হতে পারে। তাদের নাম অনেকটা এমন হয় - অমুক যার সৌন্দর্য অতুলনীয়, তমুক যে তার অমুক প্রভুর দাস, অমুক ইত্যাদি। কখনই পাখি বা এই জাতীয় নাম হয়না। সন্দেহের বিষয়। এই ব্যাপারটাও অবশেষে উদঘাটন করা গেছে চমৎকারভাবে। ম্যাপটা যেকেও হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করলে একটু দুরে থেকে খেয়াল করলেই আবিষ্কার করতে পারবেযে ওই পাখি আসলে কারও নাম না। সেটা হল পাখির চোখে দেখা ব্যাবিলন, পাখি ব্যাবিলনকে ঠিক যেভাবে দেখে এমন একটা চিত্র। যেটা আমরা ড্রোন দিয়ে ছবি তুলে বা ভিডিও করে লিখি ‘বার্ডস আই ভিউ’। ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার না? ব্যাবিলনিয়ানরাও আমাদের মতই বার্ডস আই ভিউ এর ধারণা পোষণ করত। ছোট্ট একটা মাটির খন্ড, সেটা থেকে ব্যাবিলনিয়ানদের ধ্যান, ধারনা, জ্ঞান কত কিছু জানা গেল।

Read more →

বিএনপির ডাকসুতে চরম পরাজয়

Sep 10, 2025

বিএনপির জন্য ডাকসুতে এই চরম পরাজয়ে বিএনপির চোখ খুললে ভাল হইত। বেশ কয়েকজন এটাকে পরাজয় হিসেবে মেনে নিতে পারছে। কিন্তু বড় অংশ এখনও ষড়যন্ত্র হিসেবে "দেখতেছে"। এর পক্ষে কি সব অতিশয় লেইম প্রমাণ হাজির করতেছে যে দেখলেও বিএনপির জন্য মায়া হইতেছে। বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় পরাজয় নির্বাচনে হেরে যাওয়া না, আওয়ামীলীগের কাছ থেকে সাপোর্ট পাওয়া। এর থেকে লজ্জা আর নাই। ছাত্রদলের হামিমের বেশ কিছু টকশো দেখে অবাক হইছিলাম তার সুন্দর যুক্তিপূর্ণ কথা শুনে, কারন ছাত্রদল বা বিএনপিতেও এমন আর কেও সামনে নাইই এখন। কিন্তু নির্বাচনের সময় সেও দেখি বেশ কিছু উল্টাপাল্টা কথা বলছে। তবুও সে এই পরাজয় দেখলাম মেনে নিছে, গুড মুভ। আবিদ ভাল ছেলে। এদের গ্রুমিং করার কেও নাই। যাদের গ্রুমিং করার কথা তাদেরই জরুরী ভিত্তিতে গ্রুমিং দরকার। বিএনপি দলের এখন লিটারেলি জামায়াতের বিরোধীতা করা ছাড়া আর কোন ন্যারেটিভই নাই। সেই কাজ করতে যেয়ে আর আওয়ামীলীগের ভোট পকেটে নিতে যেয়ে তাদের আদর্শ কোন সময় কর্পুরের মত উড়ে গেছে নিজেরাও হয়ত জানেনা। আর এনসিপির ত পাত্তাই নাই, অথচ জুলাইতে আন্দোলন করা নেতা সব। বিএনপি, জামায়াত ইসলাম, এনসিপি এরা আপন ভাইয়ের মত। সারা জীবন ভাল ছিল, যেই জমি ভাগাভাগির সময় হইছে তখনই একজন আরেকজনের শত্রু হইছে। আর আওয়ামীলীগ আর জাতীয় পার্টি হইল পাশের বাড়ির দুই ইবলিশ পরিবার। যারা চায় ওই তিন ভাই যেন এক না থাকে, যেন ফাক তালে তারা ওই তিন ভাইয়ের জমি দখলে নিতে পারে। ঐক্য না থাকায় আল আন্দালুস হাতছাড়া হইছিল, মোঘল সাম্রাজ্যের মুকুট বাংলা সুবাহ ব্রিটিশদের অধীনস্ত হইছিল। আর ঐক্য থাকায় শক্তিশালী মোঘলদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা মুলুকের ছোট ছোট সামন্ত রাজারা ঈসা খাঁর নেতৃত্বে লড়াই করে স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হইছিল। আমাদের হয়ত এখন একজন ঈসা খাঁ মসনদ ই আলা দরকার।

Read more →

Shafin Rahman: ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট

Sep 6, 2025

আজ ৬ সেপ্টেম্বর। ১৯৬৫ সালের আজকের এই দিনে আমাদের (বর্তমান বাংলাদেশ) ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের হাতে পরাজিত হয় ভারতীয় সেনাবাহিনী ৬৫'এর ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে আইয়ুব খানের নির্দেশ মোতাবেক পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তিনটি রেজিমেন্ট শ্রীনগর অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে ভারতীয় সেনাবাহিনী লাহোর অভিমুখে পাল্টা মার্চ করে। হতবাক আইয়ুব সেই মুহূর্তে ম্যাগের দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নিয়ে পুরো ফর্মেশনকে অর্ডার দেন ভারতীয় সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করতে। যেহেতু ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সবার শেষে ছিল তাই পেছন ঘুরতেই তারা পড়ে সবার অগ্রভাগে। ৬ সেপ্টেম্বর, সকাল ৯:৩০ মিনিট ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের আলফা কোম্পানির উপর আক্রমণ শুরু করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৫ম গার্ড রেজিমেন্ট, ১৫তম ক্যাভালরি রেজিমেন্ট ও ৯ম জম্মু ও কাশ্মীর রেজিমেন্ট। এসময় বিআর ক্যানেলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতিকুল হক ও ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংকারে মর্টার, লাইট আর্টিলারি, এন্টি ট্যাংক ওয়েপন, হেভি মেশিনগান নিয়ে অবস্থান নেয় সিনিয়র টাইগার্স খ্যাত বেঙ্গল রেজিমেন্টের আলফা কোম্পানির সেনারা। প্রথম দফায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ সেনা নিহত ও ৪০ টি ট্যাংক ধ্বংস হয়। দ্বিতীয় দফায় ভারতীয় সেনারা ভয়াবহ হামলা শুরু করলে পাল্টা জবাবে মেশিনগান থেকে বৃষ্টির মত গুলি ছুড়তে শুরু করে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনারা। প্রায় ৩০০ ভারতীয় ট্যাংক ধ্বংস হয় সেই যুদ্ধে। পাকিস্তানের দাবি অনুসারে তা প্রায় ৬০০। ৬৫' এর যুদ্ধে শ্রীনগরে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (সিনিয়র টাইগার্স) এর কাছে চরমভাবে পরাজিত হওয়ার পর ভারতীয় সেনারা পালিয়ে যায়। copied from Shafin Rahman’s post

Read more →

বিএসসিওয়ালারা ডিপ্লোমাদের অছ্যুৎ ভাবে

Aug 28, 2025

বিএসসিওয়ালারা ডিপ্লোমাদের অছ্যুৎ ভাবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়রা প্রাইভেটদের অছ্যুৎ ভাবে। ডাক্তাররা এইদেশের বাকি জনগনকে ফোর্থ ক্লাস সিটিজেন ভাবে। বিসিএসওয়ালারা প্রাইভেটওয়ালাদের অছ্যুৎ ভাবে। জমিদাররা চলে গেলেও সেই ভাব যায় নাই এইদেশ থেকে। তাই মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা নিজেদেরকে ডাক্তার ঘোষনা দিয়ে ডাক্তারদের সমান হতে চায়, ডিপ্লোমারা নিজেদেরকে বিএসসি ঘোষনা দিয়ে বিএসসিদের সমান হতে চায়। এর বাইরের জনগন তো মানুষের পর্যায়েই পরেনা। As a human being, আমরা একে অপরকে সম্মান দিতে না জানলে আরও উল্টাপাল্টা আন্দোলন দেখব ভবিষ্যতে। footnote: আমার লেখা পড়েও যারা ……। থাক আর বললাম না। শেষে আন্দোলন হইলে দোয়া ইউনুস পড়তে হবে আমার। এমনিতেও কয়েকগাদা লোকজনরে খোঁচা দিছি। বি.দ্র: সংযুক্ত ছবিটার কথাটা অসাধারণ, তাই আনরিলেটেড হইলেও দিলাম।

Read more →

টেক্সটাইল কলেজে আব্বু

Aug 20, 2025

টেক্সটাইল কলেজে(বর্তমান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুটেক্স) পড়ার সময় আব্বুর একজন বন্ধু ছিল যিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। উনি আব্বু সহ আরও বেশ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে একদিন শেখ মুজিবরের সাথে দেখা করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। আব্বু তখনও আওয়ামীলীগ সাপোর্ট করতেন। তখন শেখ মুজিবের সাথে দেখা করা একদম সহজ ছিল, কড়াকড়ি, নিয়ম নীতি ছিল না বললেই চলে। উনারা ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বাড়ির সামনের লনে ঘাসের ওপর বসে গল্প করেন শেখ মুজিবের সাথে বেশ কিছু সময়। মুজিব উনাদের সাথে কথা বলার ফাঁকে বলেন "তোরা তো আমাকে মারবি না?"। মুজিব নিজেই বুঝতে পারছিলেন উনাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা হচ্ছে। এটা একটা ওপেন সিক্রেট ছিল তখন দেশের প্রায় সব রাজনীতিবিদদের কাছেই। এরপরও অনেক বছর পর্যন্ত আব্বু আওয়ামীলীগই সাপোর্ট করতেন। আব্বুর বই পড়ার অভ্যাস থাকায় ফৌজী জুট মিলসে চাকুরীরত অবস্থায় আমিনুল ইসলাম (যতদূর মনে পড়ে) নামের একজন সহকর্মী আব্বুকে বেশ কিছু বই দেন, যেই বই পড়ে আব্বুর চিন্তাধারায় একদম বড় পরিবর্তন আসে, আব্বু আর আওয়ীমীলীগ সাপোর্ট করতে পারে নাই। আঙ্কেল বেঁচে থাকলে উনার সাথে দেখা করার ইচ্ছা আমার। . আব্বু টেক্সটাইলের ছাত্র অবস্থায় আমার ছোট মামা ঢাকা আসতেন আর আব্বুর হোস্টেলে যেয়ে দেখা করতেন। একবার ঢাকায় আব্বুর হোস্টেলে এসেই মামা শুনতে পান জিয়াউর রহমান কে মেরে ফেলা হয়েছে। আব্বু জানাযায় গেলে ছোট মামাও সাথে যান। উনার জানাযায় এত বেশি মানুষ হয়েছিল যেটা দেখে মামা অনেক বেশি ইম্প্রেস্ড হয়ে যায়। এরপর আব্বুর কিছু মোটিভেশন আর মামার নিজের ইনভেস্টিগেশনের পরে ছোট মামা বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে যান (আব্বু কিন্তু বিএনপি সাপোর্ট করত না)। এরপর আমাদের উপজেলায় মামা নিজ উদ্যোগে সর্বপ্রথম বিএনপির কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় জানতে পারি আমার ছোট চাচাও বিএনপির সাথে যুক্ত। সামরিক বাহিনীর বিরাট অংশ এমনিই জিয়ার ভক্ত থাকে, বিএনপি সাপোর্ট করে। ছোট চাচা সাম্প্রতিক সময়ে আবার উপজেলা কমিটিতে সদস্য হয়েছেন। বিএনপি'র প্রতি যথেষ্ট সহমর্মিতা আছে আমার। আশা করি নতুন বাংলাদেশে চাচা বিএনপিকে পুরনো ধ্যান ধারণা ফেলে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করতে পারবেন। . . . বি.দ্র.: টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিংয়ে আব্বুর সময় বিশাল সেশন জট থাকত। শিক্ষক পাওয়া যেত না। তখনকার বিভিন্ন পাট/বস্ত্র শিল্পের টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদেরকে প্রায় পা ধরে এনে ক্লাশ নিতে বলা হত শিক্ষক হিসেবে। তাও প্রায়ই তারা রাত ১০/১১ টায়ও সময় দিয়ে ক্লাশ নিতেন। যে কারনে তখন ৮ বছর লেগেছিল আব্বুদের ব্যাচ বের হতে।

Read more →

ওয়েল, অগাষ্টের ১ তারিখে আমি একটা ফেইসবুক পোষ্ট করি

Aug 18, 2025

ওয়েল, অগাষ্টের ১ তারিখে আমি একটা ফেইসবুক পোষ্ট করি যেইখানে ছোট্ট একটা লেখার সাথে ২০২৩ সালের একটা বিয়ের দাওয়াতের আমার ৩টা ছবি দিছিলাম - মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আর সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীমের সাথে। সেইটা দেখে অনেকের ধারণা হইতে পারে যে বি এন পি'র আগামী নির্বাচনে জয়ী(!) হবার প্রবল সম্ভাবনার জন্য আমি আসলে এই কাজ করছি, হয়ত ভবিষ্যতে সুবিধা আদায়ের জন্য। মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক না। এই ব্যাপারে একটা কথা বলে রাখা ভাল। ২০২৩ এরও বেশ কয়েক বছর আগে, যখন দেশে প্রবল প্রতাপে আওয়ামী দু:শাসন চলতেছিল, আওয়ামীলীগের ক্ষমতা থেকে সরার কোন লক্ষনই ছিল না, তখন একটা বিয়েতে আমি ছিলাম যেখানে আওয়ামী একজন এম পি ছিল, মির্জা আজম, আমাদের এলাকার। বিডিআর বিদ্রোহের সাথে জড়িত অন্যতম আওয়ামী পান্ডা, সেনা হত্যাকারী, এন্ড মোর ইম্পরট্যান্টলি একজন দেশদ্রোহী। তো সেদিন আমি তার সাথে একটা ছবি তোলার ইচ্ছাও করি নাই। আমার হাতে ক্যামেরা দিয়ে এমন লোকও মির্জা আজমের সাথে ছবি তুলে নিছে যাদের ব্যাপারে আমি জানি সে আওয়ামীলীগ করে না। কোন এক কারনে উনি উনার শিডিউলের চেয়ে বেশ কিছুক্ষণ বেশি সময় দেন। তখন উনি একটা চেয়ারে বসা, উনার সামনে টেবিল, পিছে এক ঝাঁক লোক। আর টেবিলের সামনে আমি লিটারেলি একা দাঁড়ায়া। তার পিছে থেকে সবাই ই তার সাথে এক খানা ছবি তুলে রাখতে চায়, যদি লাইগা যায়। আমি ঠিক উনার সামনে দাঁড়ানো, হাতে ফোন-ক্যামেরা, কিন্তু আমি একটা ছবিও খেচি নাই। মির্জা আজম বেশ কয়েকবার আমার দিকে তাকাইলেন, হয়ত বুঝতেছিলেন না কেন আমি ছবি না তুইলা দাঁড়ায়া আছি। আমার সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্য থাকলে মির্জা আজমের সাথেও আমার ছবি ফেইসবুকে পোষ্টাইতাম।

আচ্ছা এইটা যখন বললাম তখন আরও আগের আরেকটা ঘটনার কথা বলি। তখন আমি নোকিয়া লুমিয়া ১০২০ এই ঝাক্কাস ফোনটা ইউজ করি। ওইটার ওয়্যার্ড হোডফোনটা এতই ভাল বিল্ড ছিল যে, সেটা কানে দিলে কোন মিউজিক/সাউন্ড ফোনে না চললেও আশেপাশের কোন শব্দ কানে আসে না বললেই চলে। তো হেডফোনটা কানে দিয়ে আমি জামালপুর রেইলস্টেশনের প্লাটফর্মে দাঁড়ানো, কারোও কাছে সম্ভবত ফোন দিব। আমার দুই পায়ের মাঝে আমার প্রিয় লম্বা ব্যাগটা, বেশ ভারী। বেশ কিছুক্ষন পরে আমার পিছন থেকে বেশ ভালো জোড়ে ধাক্কা লাগল। কিন্তু আমি এক চুলও নড়ি নাই, এটাতে আমি নিজেই বেশ অবাক হইছি, এত জোড়ে ধাক্কাতেও আমি একটুও নড়লাম না কেমনে। যাই হোক আমার মেজাজ সেই বিগড়ে গেল, ঘুড়ে যারে পাব তারে মাইর দিব কিনা জানি না একেবারে এটলিস্ট বিশাল ঝাড়ি দিব। কিন্তু পিছনে তাকায়া আমি পুরা হতবাক। মানুষের বিরাট বড় এক লাইন, যেটার সামনে বেশ কয়েকজন পুলিশ। পুলিশের পিছেই মির্জা আজম। মূলত পুলিশ আমারে জোরে ধাক্কা দিছে রাস্তা ক্লিয়ার করার জন্য। পরে শুনি মির্জা আজম আমি যেই ট্রেনে ঢাকা থেকে জামালপুর গেছিলাম সেই ট্রেনে উনিও ছিল। আমার কিন্তু সেই খুশি লাগছিল কারন আমারে সরাইতে পারে নাই এক বিন্দুও, যেটা তখন আমার কাছে বেশ অবাক লাগছে।

Read more →

মেজর সাদিক আর তার স্ত্রীকে গ্রেফতার

Aug 14, 2025

মেজর সাদিক আর তার স্ত্রীকে গ্রেফতার আর সাথে এতগুলা অস্ত্র উদ্ধার করা হল অথচ এটা নিয়ে দায়সারা নিউজ ছাড়া আর কিছু দেখছেন? কোন আলোচনা বা কিছু? নাই। আওয়ামীলীগ আর তার দোসর সংবাদমাধ্যমগুলা যতটা না ধর্মগ্রন্থ বিশ্বাস করে তার চেয়ে বেশি এটা বিশ্বাস করে যে তাদের মা হাসিনা আবার ফেরত আসবেন। এজন্য এটাকে তারা হাইড করে ফেলছে। অথচ একটা খেলনার পিস্তলও বিএনপি-জামায়াতের কারও বাসা থেকে হাসিনা তার অপশাসনের সময় পাইলে সেটা নিয়ে সব মিডিয়া ফাটায় ফেলত। কাকতালীয়ভাবে দুই হাজার চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় যখন তৎকালীন অবৈধ সরকারের অর্ডারে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলতেছিল তখন আমার কম্পিউটারে জমে থাকা পিডিএফ বই থেকে একটা বই পড়া শুরু করলাম, মতিউর রহমান রেন্টুর লেখা আমার ফাঁসি চাই। আমার ছোটবেলার বন্ধু স্বনন এই বইটা পড়ার জন্য অনেক আগে বলছিল, সাথে এটাও বলছিল যে বইটার লেখক তার খালু। যাইহোক, এই বইতে মাফিয়া হাসিনার ব্যাপারে এত বেশি তথ্য দেওয়া এবং সেগুলো এত বেশি হতবাক করা যে আমি literally বিশ্বাস করিনাই, ধরে নিছি যে উনাকে দেশ থেকে বের করে দিছে দেখে উনি প্রতিহিংসাবশত এসব লিখছেন। কিন্তু বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নাই বইটার পরতে পরতে যে সত্য লেখা সেটা বুঝতে। দেশের ভেতরে একজন মেজর সপরিবারে সশস্ত্র প্রশিক্ষন দিতেছে দেশটাকে আবারও হাসিনা এন্ড গংয়ের সম্পত্তিতে পরিণত করার উদ্দেশ্যে আর ডিজিএফআই বসে আছে তার মধ্য লাঠিটাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে দিল্লীর হাতে তুলে দিয়ে। প্রফেসর ড: ইউনুস হয়ত বুঝতেছেন না বা স্টেপ নিতে ভয় পাইতেছেন ক্যাজুয়ালটির কথা ভেবে গুটিকয়েক সামরিক বাহিনীর আর প্রশাসনের লোকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর পদক্ষেপ নিতে। উনার যে এত বিরাট জনসমর্থন, সামরিক বা অসামরিক কোন ক্যু এর সামান্য ছটাক শুরু হইলেও মানুষ ওইসব জাতীয় গাদ্দার, দিল্লীর দাসদের শরীরের একটা লোমও আস্ত রাখবে না। ৯৬এর জেনারেল নাসিরের ক্যু এর ব্যার্থ চেষ্টা বা কাদের সিদ্দীকির মত গাদ্দারদের দিয়ে দেশে সশস্ত্র অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা আওয়ামীলীগের জন্য নতুন না। কিন্তু নতুন হইল এই দেশে যুগ যুগ ধরে দূষিত গঙ্গাবিধৌত দুর্গন্ধযুক্ত দিল্লীর দ্বারা নির্যাতিত এই দেশের সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধভাবে জ্বলে ওঠা। যারা চব্বিশের জুলাইয়ে একবার আগ্নেয়গিরির মত অগ্নুৎপাত ঘটাইছে। আর আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত একবারেই শেষ হয়ে যায় না।

Read more →

শিহাব আহমেদ তুহিন হ্যারী পটারের থ্রিলার দিয়ে শেখ হাসিনার রাজত্বকে চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন

Jul 10, 2025

শিহাব আহমেদ তুহিন হ্যারী পটারের থ্রিলার দিয়ে শেখ হাসিনার রাজত্বকে চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন। """ হ্যারি পটারের গল্পটা পড়েছেন? পড়ে থাকলে এখন যা বলবো, বুঝতে পারবেন। না পড়ে থাকলে সাড়ে তিন হাজার পৃষ্ঠার গল্প এক স্ট্যাটাসে লিখে বুঝানো কঠিন। কৈশোরে বলা যায়, আমি হ্যারি পটার নিয়ে এক প্রকার অবসেসড ছিলাম। সাতটা বইয়ের সাতটাই পড়েছি। তা-ও ইংরেজিতে। বেশ কয়েকবার। মুভিগুলো তো অসংখ্যবার দেখেছি। যে জন্যে হ্যারি পটার নিয়ে এতো বকবক করবো, সেটার কথা বলি এখন। হ্যারি পটারের জগতে খুব খারাপ একটা জাদুকর ছিলো। নাম তার টম রিডল। নিজেকে সে অবশ্য ডাকে ‘লর্ড ভোল্ডেমর্ট’ নামে। প্রত্যেক নার্সিস্টেরই নিজের বাপ-মায়ের দেয়া নাম পছন্দ হয় না। তার দরকার অন্য নাম। অন্য টাইটেল। যেমনঃ বঙ্গবন্ধু, দেশরত্ন, সুপ্রিম লিডার, গণতন্ত্রের মানস-কন্যা— ইত্যাদি, ইত্যাদি।
নিজেকে ভোল্ডেমর্ট নাম দিলেও মানুষ তাকে সে নামে ডাকতে ভয় পেতো। ভাবতো, এ নাম প্রকাশ্যে নিলে অকল্যাণ আসবে। ফুডপান্ডার ডেলিভারি আসবে। তাই তারা তাকে ডাকতো ‘ইউ-নো-হু’ নামে। তো ভোল্ডেমর্ট একবার জানতে পারে, জুলাইয়ের শেষে এক শিশু জন্ম নেবে। যে শিশু তার পতনের কারণ হতে পারে। তাই সে চলে যায় তাকে হত্যা করতে। সেই শিশুটার নামই হ্যারি পটার। হ্যারি পটারের মা তাকে বাঁচাতে খুব প্রাচীন একটি জাদুর আশ্রয় নেন। জাদুটা এভাবে কাজ করে— কেউ যখন কাউকে হত্যা করতে চাইবে, তখন অন্য আরেকজন যদি যাকে হত্যা করা হচ্ছে তাকে বাঁচানোর জন্যে কোনো জাদুর প্রয়োগ না করে হত্যাকারীর সামনে দাঁড়িয়ে যান, তাহলে যে হত্যা করতে চাচ্ছে, সে আর তাকে হত্যা করতে পারবে না। জাদুটা অনেকটা আবু সাইদের মতো কাজ করে। ফ্যাসিস্টের হাত থেকে জাতিকে বাঁচাতে গুলির সামনে বুক পেতে কোনো অস্ত্র ছাড়াই দাঁড়িয়ে যেতে হবে। হ্যারির মা সেটাই করেন। ভোল্ডেমর্ট, হ্যারি পটারকে হত্যা করার জন্যে কিলিং কার্স প্রয়োগ করলেও সে কার্স ব্যাকফায়ার করে ভোল্ডেমর্টের দিকেই ফিরে আসে। নিজের কিলিং কার্স নিজের দিকে ফিরে আসলেও ভোল্ডেমর্ট মারা যায় না। কেন জানেন? কারণ, বহু আগেই সে তার আত্মাকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করে ফেলেছিলো। হ্যারি পটারের দুনিয়ায় এগুলোকে বলে ‘হরক্রক্স’। হরক্রক্স বানাতে হলে প্রথমে কাউকে খুন করতে হয়। আইরনি হচ্ছে, ভোল্ডেমর্ট নিজের প্রথম হরক্রক্স বানিয়েছিলো নিজের বাবাকে হত্যা করে। নিজের আত্মার টুকরো টুকরো অংশগুলোকে সে বিভিন্ন জায়গায় রেখে দিয়েছিলো। কোথাও আংটিতে, কোথাও লকেটে, কোথাও ডাইরিতে। এই সবগুলো হরক্রক্স ধ্বংস না হলে ভোল্ডেমর্ট ধ্বংস হবে না। সহজ কথায়, সে মারা যাবে না। ভোল্ডেমর্ট এ কাজ কেন করেছিলো? অমরত্বের জন্যে। সে মৃত্যুকে, ক্ষমতা হারানোকে খুব ভয় পেতো। হ্যারি পটারকে মারতে গিয়ে ব্যর্থ হলেও যেহেতু সে তার আত্মাকে হরক্রক্স বানিয়ে রেখেছিলো, চৌদ্দ বছর পর সে আবার ফেরত আসে তার অনুগত অনুসারীদের (ডেথ ইটারদের) সহযোগিতায় পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে। পুরো জাদুর দুনিয়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা শুরু করে— পিওর ব্লাড আর মাড ব্লাডের নামে। বাংলায় তর্জমা করলে— মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, বিপক্ষের শক্তির নামে। ভোল্ডেমর্টের মতোই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বেশ কয়েকটা হরক্রক্স রেখে গেছে। তার বানানো পুলিশ, র‍্যাব, ডিজিএফআই, বিচার-ব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র— এগুলো সব একেকটা হরক্রক্স। এগুলো সব শেখ হাসিনার আত্মার একেকটা অংশ। এগুলোকে ধ্বংস করে নতুন করে তৈরি না করা হলে শেখ হাসিনা আবার ফিরে আসবে। আসবেই। তাকে ধ্বংস করা সম্ভব হবে না। হ্যারি পটারের দুনিয়ায় হরক্রক্স ধ্বংসের আরেকটা উপায় অবশ্য আছে। সেটা হচ্ছে অনুশোচনা। ভোল্ডেমর্ট, হ্যারি পটারের বাবা-মাকে হত্যা করেছিলো। কাছের প্রায় সব মানুষকে মেরে ফেলেছিলো। তাও শেষ বইয়ের একেবারে শেষ যুদ্ধে (ব্যাটল অফ হগওয়ার্টসে) হ্যারি, ভোল্ডেমর্টকে পরামর্শ দিয়েছিলো অনুশোচনা করতে। নিজেকে রক্ষা করতে। কিন্তু অনুশোচনা যে রাস্তা দিয়ে হাঁটে, জালেম সবসময় তার উল্টো দিকেই হাঁটে। তাই সর্বকালের অন্যতম ভয়ঙ্কর জাদুকর লর্ড ভোল্ডেমর্টের পতন হয়েছিলো মাত্র সতেরো বছরের এক কিশোর হ্যারি পটারের হাতে। অনেকটা শেখ হাসিনার মতোই। বাচ্চাদের লাত্থি খেয়ে এখন ভারতে যেয়ে পালিয়েছে। ভোল্ডেমর্ট অনুশোচনা করে নি। শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামীলীগ অনুশোচনা করে রাজনীতিতে ফিরে আসবে— যারা শেখ হাসিনাকে চেনেন, তারা সম্ভবত কেউ এটা বিশ্বাস করেন না। যারা করেন তারা কল্পনার জগতে বাস করেন। তার কিছু নেতাকর্মী হয়তো অনুশোচনার ভান করতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করা নিয়ে তারা একটুও অনুতপ্ত নন। আমি মাঠ পর্যায়ে বেশ কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে কথা বলেছি। গুটিকয়েক ছাড়া কারো মাঝে বিন্দুমাত্র অনুতাপ দেখি নি। তারা এখনো মনে করে বাচ্চাদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানো হয়েছিলো। আমরা আগেই ভালো ছিলাম। তখন পিওর ব্লাডরা (মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিরা) দেশ চালাতো। এখন রাজাকাররা (হাফ-ব্লাড আর মাড ব্লাডরা) দেশটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ক'দিন পর হয়তো রিটা স্কিটাররা শেখ হাসিনার স্বর্ণযুগের কথা মনে করিয়ে দিতে পত্রিকায় বিশাল বিশাল কলাম ছাপা শুরু করবে। তাই যারা হাসিনার রেখে যাওয়া হরক্রক্সগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে, তার প্রশাসনে নামমাত্র সংস্কার করে এই স্বপ্ন দেখছেন যে, একদিন শেখ হাসিনা সত্যিই মাসুদের মতো ভালো হয়ে যেয়ে ক্ষমা চেয়ে সবকিছু ঠিক করে দেবেন কিংবা যারা বিশ্বাস করেন তার রেখে যাওয়া ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে শেখ হাসিনাকে সত্যিই ধ্বংস করা সম্ভব, তাদের জন্যে সমবেদনা ছাড়া দেয়ার মতো আমার আর কিছুই নেই। এখনো সময় ফুরিয়ে যায় নি হরক্রক্সগুলো ধ্বংস করার। জুলাইয়ের সবচে' সুন্দর মেমোরিটা ব্যবহার করে সবচে' শক্তিশালী পেট্রোনাস সৃষ্টি করে দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা ডেমেন্টরদের ধ্বংস করার। তা না হলে আমাদের সকল হ্যাপি মেমোরি ওরা কেড়ে নিবে। তা না হলে একদিন ডেমেন্টররা আযকাবান (জেল) ভেঙ্গে শেখ হাসিনার অনুগত নেতাদের (ডেথ ইটারদের) ঠিকই মুক্ত করবে। বন্দী করবে আমাদের। তাই যতো দ্রুত সম্ভব ডেথ ইটারদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে দেখা যাবে দশ-পনেরো বছর পর ঠিকই শেখ হাসিনা কিংবা শেখ হাসিনার মতো কেউ আবার ফিরে এসেছে এই বাংলাদেশে। রাতের বেলা সরল বিশ্বাসে ফুডপান্ডার ডেলিভারি নিতে গিয়ে দরজা খুলতেই আমরা শুনবো কেউ শীতল গলায় বলছে, ‘আভাদা কেদাভ্রা’। """

Read more →

আরিফ আজাদের লেখার প্যারাগ্রাফ সামান্য ওপর নিচ করে

Jul 4, 2025

কী দুর্ভাগ্য আমাদের, আজ আমাদের এতো দুর্দশা যে, চারপাশে যারা অধিক মিথ্যা কথা বলে, তাদেরকেই আমরা অবলীলায় মেনে চলছি, নেতা বানাচ্ছি, অগ্রাধিকার দিচ্ছি। কোথায় হারালো মুসলমানদের সত্যের প্রতি সেই প্রতিশ্রুতি? মিথ্যা আর মিথ্যাবাদীকে ইসলাম কীভাবে ডিল করে, সেই উসুলটা নিচের এই ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারি। হাদিস শাস্ত্র ইসলামের ইলম তথা জ্ঞানের এক সুবিশাল এবং সুবিস্তৃত ক্ষেত্র। নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটা কথা, দাঁড়ি-কমা সহ নির্ভুলভাবে কীভাবে যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেটা এক অপার রহস্য। এই কাজে মহান রব এমনকিছু মানুষকে নিয়োজিত করেছিলেন যারা নিজেদের জীবনকে শুধুমাত্র এই কাজের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। যাদের আমরা হাদিস শাস্ত্রের ইমাম বলে চিনি। ইমাম বোখারি, ইমাম মুসলিম, নাসায়ী, ইমাম তিরমিজি সহ অসংখ্য হাদিসের ইমাম এই ধারাটাকে সমৃদ্ধ করে গিয়েছেন। এইসকল ইমামগণ সেই সুপ্রাচীন আমলে, যখন গাড়ি ছিল না, বিমান ছিল না, ইলেকট্রিসিটি ছিল না, কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো জাহাজে চড়ে, কখনো ঘোড়া বা গাধার পিটে সরওয়ার হয়ে, দুর্গম মরুভূমি পথ পাড়ি দিয়ে, রুক্ষ আবহাওয়ার সাথে পাঞ্জা লড়ে দেশ বিদেশে পাড়ি জমাতেন হাদিস সংগ্রহের জন্য। তারা পথের ক্লান্তিকে গায়ে মাখাতেন না, দুর্গম পথে বিপদের চোখ রাঙানিকেও তারা আমলে নিতেন না, খাবারের কষ্ট, পানির কষ্ট, ঘুম আর আরামের অভাব—কোনোকিছুই তাদেরকে এই অদম্য যাত্রা থেকে বিরত করতে পারত না। তবে একটা জিনিস তাদেরকে আটকে দিতো হাদিস সংগ্রহের যাত্রায়। আপনি জানেন সেটা কি? সেটা হলো—মিথ্যা। হাদিস সংকলনের ইতিহাসে মুহাদ্দিসদের এমন ঘটনাও আছে, একজন হাদিসের ইমাম কোনোভাবে জেনেছেন যে অমুক দেশে এক লোক আছে যার কাছে বিশুদ্ধ সূত্রের বরাতে আল্লাহর রাসুলের একটা হাদিস পৌঁছেছে। সেই ইমাম বহু কাঠখড় পুড়িয়ে, বহু পথ মাড়িয়ে সেই দেশে গিয়ে সেই লোকটার ঠিকানা খুঁজে বের করলেন শুধুমাত্র সেই হাদিসটা শোনার জন্য, যে হাদিসটা বিশুদ্ধ সূত্রের মাধ্যমে তার কাছে এসে পৌঁছেছে। তবে, তার ঠিকানায় গিয়ে উক্ত ইমাম জানলেন যে, যদিও তার কাছে যে হাদিস পৌঁছেছে সেটার সূত্র বিশুদ্ধ, কিন্তু লোকটার মিথ্যা কথা বলার বাতিক আছে। অর্থাৎ, সেই লোকটা লোকসমাজে মিথ্যাবাদী বলে খ্যাত ছিল। তারপর কী করেছেন সেই হাদিসের ইমাম, জানেন? সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা দেশ, ভিন্ন একটা ভূখণ্ড থেকে এতো কষ্ট করে যাওয়ার পরেও, যে হাদিসটা সংগ্রহের জন্য গিয়েছেন সেটার সনদ অত্যন্ত মজবুত আর বিশুদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, উক্ত ইমাম সেই হাদিসটা সংগ্রহ না করে ফেরত চলে এসেছিলেন শুধুমাত্র এই কারণে যে—লোকটার মিথ্যা কথা বলার বদ-অভ্যাস ছিল। [আরিফ আজাদের লেখার প্যারাগ্রাফ সামান্য ওপর নিচ করে]

Read more →

আজগর আলী চৌধুরী জামে মসজিদ

Jun 28, 2025

মোগল আমলে ১০ শতক জমির ওপর তৈরি চট্টগ্রামের উত্তর হালিশহরের চৌধুরীপাড়ায় অবস্থিত আজগর আলী চৌধুরী জামে মসজিদ। নগরীর আগ্রাবাদ থেকে আনুমানিক ৭-৮ কিলোমিটার দূরে হালিশহরের চৌধুরীপাড়া। ১৭৯৫ সালে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম নকশা আর চুন-সুরকির দৃষ্টিনন্দন সংমিশ্রণে নির্মাণ করা হয় মসজিদটি। মসজিদটি নির্মাণ করেন হালিশহরের সম্ভ্রান্ত চৌধুরী পরিবারের প্রয়াত আজগর আলী চৌধুরী। ইমামসহ প্রায় ৩১ জন মুসল্লি এই মসজিদে নামায আদায় করতে পারেন। ভারতের তাজমহলের আদলে নির্মিত আজগর আলী মসজিদটির সামনেই রয়েছে পুকুর, পাশেই কবরস্থান। এ ছাড়া মসজিদের ছাদে রয়েছে বড় তিনটি গম্বুজ ও বেশ কয়েকটি মিনার। মসজিদের দেওয়ালে পোড়ামাটির বিভিন্ন কারুকাজে নির্মিত নানা রকম নকশা। বর্তমানে আজগর আলী চৌধুরীর উত্তরসূরিরাই মসজিদটির দেখাশোনা করছেন। তবে মসজিদটিতে এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় বন্ধ রয়েছে। ঐতিহ্য ধরে রাখতে মসজিদ ভবনটি অক্ষুণ্ন রেখে পাশে গড়ে তোলা হয়েছে নতুন একটি মসজিদ।

Read more →

ওরে বসন্ত, তুই আগুনের ফুলকি

Jun 25, 2025

ফিলিস্তিনিদের জায়গা চুরি করা এস্রাএল ইরানে বোম ছুঁড়ে ঝামেলার শুরু করল, যে ব্যাপারে ইউএস জানত। সম্ভবত এস্রাএল ভাবছিল গতবারের মত এবারও ইরান এস্রাএলের রাস্তাঘাটে বোমা ফেলে দূর্বল প্রতিবাদ জানাবে। কিন্তু ইউএস এস্রাএল চিন্তাও করে নাই ইরান এত সফলতার সাথে পাল্টা জবাব দিবে। ইরানের বোম্বিং এতই সফল যে পিগ্রায়েলের এখন পর্যন্ত নাকি দেড় বিলিয়ন ইউএস ডলারের ক্ষতি হইছে (আমার মনে হয় আরও বেশি)। হাজার গুনে আরও বেশি যেই ক্ষতি হইছে সেটা হইল সবাই জেনে গেছে আয়রন ডোম ভূয়া, এটলিস্ট ইরানের কাছে। এমনকি seems like ইরান ভূয়া ডোমের ফাঁক ধরে ফেলছে। এত বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে জিউদেরকে এস্রায়েলের চুরি করা জায়গায় নিয়ে এসে সেটেল করা সব ভেস্তে গেছে, আনঅফিসিয়ালি ১মিলিয়ন ভেগে গেছে। শেষে ভিতুনিয়াহু ইউএসের হস্তক্ষেপ চাইছে ইরানের বোম্বিং বন্ধ করার জন্য। এস্রায়েল, ইউএস, আর ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা রেজা পাহলভি ভাবছিল ইরানে রেজিম পরিবর্তন করবে। উল্টা ইরানীরা এক হয়ে গেছে, রেজিম পরিবর্তন ত দূরের কথা। সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হইল, ট্রাম্প তার বিরাট সাপোর্ট হারাইছে, X এ ইউএস সিনেটররা সবাই ট্রাম্পের এগেইন্স্টে টুইট করতে করতে ফাটায় ফেলছে। ইউএসের বিভিন্ন জায়গায় শুধু ট্রাম্পের করা ইরানে হামলারই প্রতিবাদ করে নাই, ট্রাম্পের অপসারনও চাইছে! জোহরান মামদানি নামের অপরিচিত একজন মুসলিম ডেমোক্রেটিক মেয়োরাল প্রাইমারিতে জয়ী হইছে। যেটার বড় কারন বাকি candidateদের গাজায় এস্রায়েলের হামলার অন্ধ সমর্থন দেওয়া। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জিউরা বিগ ডোনার হওয়ায় তাদের নির্দেশে সেখানের ছাত্রদের ওপর হামলার জন্য মে বি সবার চোখ খুলে যাওয়া শুরু হইছে, স্পেশালি ছাত্রদের, এটা বড় ফ্যাক্ট। আমি কেন জানি এসবের সাথে আমাদের দেশের হাসিনা-রেজিমের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলনে পতনের আগের মুহুর্তের সাথে মিল পাই। Seems like world is on the verge of a huge political shift, ideological shift. বসন্ত খুব কাছেই। ওরে বসন্ত, তুই আগুনের ফুলকি, কোকিলের কুহুতে জাগা বিদ্রোহী মুক্তি! পলাশের রাঙা আগুনে জ্বালাস তুই বন, দাসের বুকে ফোটাস মরণ-জয়ী গান। -কাজী নজরুল ইসলাম

Read more →

Air India plane crashed: Rahman Hasnah

Jun 14, 2025

When the Air India plane crashed into a relatively ordinary building, the structure remained mostly intact — made of just concrete and bricks. Even the tail and wreckage of the aircraft were clearly visible. But during the 9/11 incident, when the airplane hit the World Trade Center (WTC), the entire building collapsed all the way to the ground. We're talking about a heavily reinforced steel-and-concrete skyscraper. Not one, but three buildings collapsed — and strangely, the third building (WTC 7) wasn’t even directly hit by a plane, yet it came down in a similar manner. To make it even more suspicious, there was no trace of the airplane debris — no wings, no tail, no seats — just pulverized dust. And somehow, a passport belonging to one of the hijackers was magically recovered intact, supposedly ejected from the inferno. And yet, people still believed the official story. It makes you wonder — were people just conditioned not to ask questions, or was it something deeper? If a plane crash typically leaves behind large visible wreckage — wings, tail, engines, debris — how did two massive commercial jets completely vanish into dust upon hitting the Twin Towers, leaving almost no aircraft remnants behind, yet a hijacker's paper passport was found unscathed and intact near Ground Zero? 📝 Rahman Hasnah

Read more →

১৯৭১ সালের মুজিব বাহিনী সম্পর্কিত কিছু তথ্য

Jun 11, 2025

১৯৭১ সালের মুজিব বাহিনী সম্পর্কিত কিছু তথ্য শেখ হাসিনার মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকার বা এ কে খন্দকার এর লিখিত '১৯৭১: ভেতরে বাইরে' বইটি থেকে কিছু অংশ তুলে দিলাম। মুজিব বাহিনী:- অস্থায়ী সরকার গঠনের আগে, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ বাহিনী বা মুক্তিবাহিনী গঠিত হয়। অস্থায়ী সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ বাহিনীর নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো সরকার দ্বারা অনুমোদিত হয়েছিল। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মুক্তিবাহিনী সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের সব কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়েছে। কিন্তু মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরেও কিছু বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে তৎপর ছিল। এদের বেশির ভাগই ছিল স্থানীয় পর্যায়ের এবং তাদের অভিযানের এলাকা ছিল সীমিত। তারা কিছুটা স্বাধীনভাবে তাদের অভিযান পরিচালনা করলেও স্থানীয় সেক্টর কমান্ডার সাথে সব সময় সমন্বয়তা করে চলত। তাদের সাথে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ কোনো যোগাযোগ ছিল না। তবে তারা সরকারের বিপক্ষেও ছিল না। মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে আরও দুটি বাহিনী ছিল, যারা তুলনামূলকভাবে জনবল ও সামরিক দিক দিয়ে বড় ছিল। এ দুটির মধ্যে প্রথমটি ছিল টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনী, যারা কাদের সিদ্দিকী সাহেবের পৃথকভাবে পরিচালিত হলেও সরকার ও মুক্তিবাহিনীর সাথে সুসম্পর্ক রাখত। দ্বিতীয়টি ছিল মুজিব বাহিনী, যারা সম্পূর্ণভাবে অস্থায়ী সরকার ও বাংলাদেশ বাহিনী থেকে স্বতন্ত্র ছিল। প্রায়শই তারা অস্থায়ী সরকার ও মুক্তিবাহিনীকে অবজ্ঞা করত এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করত। মুজিব বাহিনী সৃষ্টি হয়েছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। শুরু থেকেই মুজিব বাহিনী ও এর কর্মকাণ্ড নিয়ে বহু বিতর্ক ছিল। অস্থায়ী সরকারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা দ্বন্দ্ব হয়ত মুজিব বাহিনী গঠনে অনুপ্রাণিত করেছিল। রাজনৈতিকভাবে তাজউদ্দীন সাহেব অস্থায়ী সরকারের সব মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও নেতৃস্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সমর্থন পাননি। অস্থায়ী সরকার গঠনকালে এক প্রকার চেষ্টা চলছিল তাজউদ্দীন সাহেবকে যেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া না হয়। কারণ হিসেবে বলা হতো যে তিনি বঙ্গবন্ধুর অনুগত নন। তাজউদ্দীনের বিরোধীরা এমন কাউকে প্রধানমন্ত্রী করতে চেয়েছিল, যাকে সামনে রেখে তারাই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে। তাজউদ্দীনের ব্যক্তিত্ব ও সততার কারণে বিরোধীরা সুবিধা করতে পারছিল না। এটা খুবই দুঃখজনক যে যখন আমরা স্বাধীন নই এবং অন্য দেশের ভূখন্ডে বসে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছি, যখন আমরা জানি না আমাদের ভবিষ্যৎ কী, যখন আমাদের সবচেয়ে বেশি ঐক্যের প্রয়োজন তখনই কিনা আমরা নানা দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মুক্তিবাহিনী ও এর সেক্টরগুলো অস্থায়ী সরকারের নির্দেশনায় পরিচালিত হলেও স্থানীয় ও অন্য বাহিনীগুলো তাদের নিজস্ব নিয়মে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাত। এটা হতে পেরেছিল মূলত অস্থায়ী সরকারের প্রথম দিকের একটি সিদ্ধান্ত থেকে। সিদ্ধান্তটি ছিল, আওয়ামী লীগ বা তাদের মনোনীত ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকে মুক্তিবাহিনীতে নেওয়া হবে না। অপর দিকে মুক্তিবাহিনীর ওপর ভারতীয়দের প্রভাবজনিত অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণও অন্যদের আলাদা বাহিনী গঠনে উৎসাহিত করে। কেননা ওসমানী চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সব বাহিনী মুক্তিবাহিনীর অধীনে যুদ্ধ করবে। কিন্তু তা হয়নি। ছোট ছোট বাহিনীগুলো তাদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে মুক্তিবাহিনীর সেক্টর অধিনায়কদের সাথে সমঝতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করত। কিন্তু মুজিব বাহিনীর বিষয়টি ছিল একেবারেই ভিন্ন। যুদ্ধের শেষ দিন পর্যন্ত মুজিব বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব ছিল। এই দ্বন্দ্ব অস্থায়ী সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের প্রতিফলন প্রভাব ছিল। ... মুজিব বাহিনীর গঠনপ্রণালী আলাদা ছিল। এ বাহিনীর সমন্বয়কারী ও প্রশিক্ষক ছিলেন ‘র’-এর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স বিভাগের মেজর জেনারেল সুজন সিং উবান। তিনি এস এস উবান নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব ও প্রত্যক্ষ সহায়তায় মুজিব বাহিনীকে প্রশিক্ষিত করা হয়।

Read more →

ঠাকুর অম্বিকা ভট্টাচার্য - হুমায়ূন আহমেদের মাতুল বংশের পূর্বপুরুষ

Jun 9, 2025

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের মাতুল(মায়ের) বংশের একটা শাখার পূর্বপুরুষ ছিলেন ঠাকুর অম্বিকা ভট্টাচার্য। বর্তমান পুরুষরা হিন্দুয়ানির সব ছেড়েছেন, ঠাকুর পদবি ছাড়েন নি এখনও। ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের এক নানার নাম আনিসুর রহমান ঠাকুর। তিনি কঠিন ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তাঁর রাত কাটতো এবাদত বন্দেগি করে। হুমায়ূন আহমেদের সেই নানার মুসলমান হবার কাহিনী! :এক: ...বৃষ্টির পানিতে দিঘির পাড় পিচ্ছিল হয়ে আছে। একটা লাল প্যান্ট ছেলে দিঘির অন্যপ্রান্তে। পাড় বেয়ে পানির দিকে নামছে ছেলেটা কি একটা দুর্ঘটনা ঘটাবে? পা পিছলে পানিতে পড়ে যাবে। হরিচরণ ডাকলেন, এই, এই— উঠে আস। উঠে আস বললাম। এই ছেলে, এই! ছেলেটা তাঁকে দেখল। কিন্তু তার দৃষ্টি দিঘির সবুজ পানিতে। তার হাতে কাদামাখা পেয়ারা। সে পেয়ারা পানিতে ধুবে। তিনি উঁচু গলায় আবারো ডাকলেন, এই ছেলে— এই। তখনি ঝপ করে শব্দ হলো। কিছুক্ষণ ছেলেটির হাত পানির উপর দেখা গেল। তারপরেই সেই হাত তলিয়ে গেল। হরিচরণ পুকুরে ঝাঁপ দিলেন। হরিচরণ কীভাবে দিঘির অন্যপ্রান্তে পৌঁছলেন, কীভাবে ছেলেটাকে পানি থেকে তুললেন তা তিনি জানেন না। শুধু এইটুকু জানেন— পানি থেকে তোলার পর দেখা গেল, ছেলেটার ডানহাত অনেকখানি কেটেছে। সেখান থেকে গলগল করে রক্ত পড়ছে। ও বাবু! বেঁচে আছিস তো! বলেই পুকুরপাড়ে জ্ঞান হারালেন। তাঁর জ্ঞান ফিরল নিজের খাটে গভীর রাতে। তাঁর চারপাশে মানুষজন ভিড় করেছে। নেত্রকোনা সদর থেকে এলএমএফ ডাক্তার সতীশ বাবু এসেছেন। তিনি বুকে স্টেথিসকোপ ধরে আছেন। পাশের ঘর থেকে বৃদ্ধা মায়ালতার কান্না শোনা যাচ্ছে। বৃদ্ধা কারণে অকারণে কাঁদে। হরিচরণ বললেন, ছেলেটা কি বেঁচে আছে? মুকুন্দ বলল, বেঁচে আছে। ছেলেটার নাম কী ? জহির। জহির তাহলে বেঁচে গেছে? জে আজ্ঞে। হরিচরণ পদ্মাসন হয়ে বসলেন। মুকুন্দকে বললেন, ছেলেটাকে নিয়ে আস, আমি একটু দেখব। ঠাকুরঘরে নিয়ে আসব? কী বলেন এইসব! হ্যাঁ, ঠাকুরঘরে নিয়ে আস। সে আমার কোলে বসবে। মুসলমান ছেলে তো! হোক মুসলমান ছেলে। জহিরের মা জহিরকে কোলে নিয়ে এসেছে। সে তার সবুজ শাড়ি দিয়ে ছেলেকে ঢেকে রেখেছে। তার চোখে উদ্বেগ। বাড়িতে এত লোকজন দেখে হকচকিয়ে গেছে। হরিচরণ উঠানের জলচৌকিতে বসেছেন। তাঁর নিঃশ্বাসে কষ্ট হচ্ছে। শরীর ঘামছে। তিনি জহিরের মায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, মাগো! আপনার ছেলে কি ভালো আছে ? জহিরের মা জবাব না দিয়ে ছেলেকে আরো ভালো করে শাড়ি দিয়ে ঢাকল। হরিচরণ বললেন, আমার এখানে ডাক্তার আছে। ছেলেকে দেন, ডাক্তার দেখুক। আমার ছেলে ভালো আছে। হরিচরণ মেয়েটির কণ্ঠস্বর শুনেও মুগ্ধ হলেন। কী সুরেলা কণ্ঠ। ঈশ্বর যার প্রতি করুণা করেন সর্ব বিষয়েই করেন। মেয়েটি খালি পায়ে উঠানে দাঁড়িয়ে আছে। হরিচরণের মনে হলো, মেয়েটির পায়ের কারণেই উঠান বঝলমল করছে। এত রূপবর্তী কেউ কি এর আগে উঠানে এসে দাঁড়িয়েছে ? মাগো। আপনার ছেলেকে আমার কোলে দেন। আপনার ছেলে কোলে নিয়ে আমি একটা প্রার্থনা করব। পরদিন সকালেই একটি মুসলমান ছেলেকে ঠাকুরঘরে প্রবেশ করানোর অপরাধে হরিচরণকে সমাজচ্যুত এবং জাতিচ্যুত করা হলো। দুপুরের মধ্যে তাঁর ঘর জনশূন্য হয়ে গেল। মুকন্দ চোখের জল ফেলতে ফেলতে বিদায় হলো। তাকে তিনি দুটো দুধের গাই দিয়ে দিলেন। রান্নাবান্নার জন্যে যে মৈথিলি ঠাকুর ছিল, সে চুলা ভেঙে চলে গেল। নিয়ম রক্ষা করল। পতিতজনের ঘরের চুলা ভেঙে দেয়া নিয়ম। যে কোনো একটা ঘরের চালাও তুলে ফেলতে হয়। আত্মীয়স্বজনরা সেই চালা মাড়িয়ে চলে যাবে। হরিচরণের আত্মীয়স্বজন কেউ নেই বলে চালা ভাঙা হলো না।। বৃদ্ধা মায়ালতাকে সন্ধ্যার মধ্যে তিনি নৌকায় কাশি পাঠাবার ব্যবস্থা করলেন। মায়ালতা সঙ্গে করে কষ্টিপাথরের রাধাকৃষ্ণ মূর্তি নিয়ে বিদায়ের সময় হবিচরণ জেঠিমা'কে শেষ প্রণাম করতে গেলেন। মায়ালতা আঁৎকে উঠে বললেন, খবরদার পায়ে হাত দিবি না। তুই ডুবছস, আমারে ডুবাইস না। মায়ালতার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে হরিচরণের বিশাল বাড়ি হঠাৎ খালি হয়ে গেল। সন্ধ্যা মিলাতে না মিলাতেই বৃষ্টি শুরু হলো। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস। হরিচরণ পাকা দালানের একপাশে বেতের ইজিচেয়ারে আধশোয়া হয়ে বৃষ্টি দেখছেন। ঘর অন্ধকার। সন্ধ্যার বাতি জ্বালানো প্রয়োজন। কোথায় হারিকেন কোথায় কেরোসিন তিনি কিছুই জানেন না। বাড়ির পেছনে ছপছপ শব্দ হচ্ছে। ভূত-প্রেত কি-না কে বলবে! ভূত প্রেতরা শূন্যবাড়ির দখল নিয়ে নেয় এমন জনশ্রুতি আছে। হাসনাহেনার ঝোপের কাছে সরসর শব্দ হচ্ছে। সাপ বের হয়েছে না-কি ? শূন্যবাড়িতে ভূত প্রেতের সঙ্গে সাপও ঢোকে। বাড়ি পুরোপুরি জনশূন্য হলে আসে বাদুড়। তারা মহানন্দে বাড়ির কড়ি বর্গা ধরে মাথা ঝুলিয়ে দুলতে থাকে। যে বাড়িতে সাপ ও বাদুর সহবাস করে সেই বাড়ির মেঝে ফুঁড়ে অশ্বত্থ গাছের চারা বের হয়। বাড়িও তখন হয় পতিত। মানুষের যেমন প্রাণ আছে, বসতবাড়িরও আছে। পতিতবাড়ি হলো প্রাণশূন্য বাড়ি। :দুই: হরিচরণের জন্যে কয়েকজন মানুষের খুবই খারাপ লাগে, তার মধ্যে একজন ধনু শেখ। সে লঞ্চঘাটের টিকেট বাবু। মাঝে মাঝে টুকটাক ব্যবসা করে। কোলকাতা থেকে এক ড্রাম লাল কেরোসিন নিয়ে এসে বান্ধবপুরে বিক্রি করে। লঞ্চে পাঠিয়ে দেয় শুকনা মরিচ। এতে বাড়তি আয় যা হয় তা সে ব্যয় করে নতুন বিয়ে করা স্ত্রীর পেছনে। পাউডার, স্নো, শাড়ি, রুপার গয়না। লঞ্চঘাটের কাছেই টিনের এক চালায় তার সংসার। স্ত্রীর নাম কমলা। ধনু শেখ স্ত্রীর খুবই ভক্ত। তার একমাত্র স্বপ্ন একদিন সে একটা লঞ্চ কিনবে। সেই লঞ্চ নারায়ণগঞ্জ সোহাগগঞ্জ চলাচল করবে। লঞ্চের নাম এমএল কমলা। এমএল হলো মোটর লঞ্চ। সেই লঞ্চে কমলা নামের যে-কোনো যাত্রী যদি উঠে সে যাবে ফ্রি। তার টিকেট লাগবে না। হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ লঞ্চের টিকেট কাটতে এলেই ধনু-শেখ কোনো না কোনো প্রসঙ্গ তুলে হরিচরণের জাত নষ্টের কথা তুলবে। বাবু, আপনে বলেন— মনে করেন সুন্দর একটা কুত্তার বাচ্চা রাস্তায় হাঁটতেছে। আপনে 'আয় তু তু' বললেন, সে লাফ দিয়া আপনের কোলে উঠল । আপনের জাইত কিন্তু গেল না। মুসলমানের এক বাচ্চা কোলে নিছেন— জাইত গেল। এখন মীমাংসা দেন— মুসলমানের বাচ্চা কি কুত্তার চাইতে অধম ? যে সব বাবুদের এ ধরনের প্রশ্ন করা হয় তারা বিব্রত হন না। বিরক্ত হন। কেউ কেউ বলেন, তুমি টিকেট বাবু। তুমি টিকেট বেচবা। এত কথা কী ? জাইত জিনিসটা কী বুঝায়া বলেন। শরীরের কোন জায়গায় এই জিনিস থাকে, ক্যামনে যায় ? জিনিসটা কি ধুয়াশা ? তুমি বড়ই বেয়াদব। তোমার মালিকের কাছে বিচার দিব। চাকরি চইল্যা যাবে। না খায়া মরবা। মরলে মরব। তয় জাইতের মীমাংসা কইরা দিয়া মরব। তুমি জাইতের মীমাংসা করার কে? জাইতের তুমি কী বুঝ ? আমি না বুঝলেও আপনেরা তো বোঝেন। আপনেরা মীমাংসা দেন। বেয়াদবির কারণেই ধনু শেখের টিকেট বাবুর চাকরি চলে গেল। লঞ্চ কোম্পানির মালিক নিবারণ চক্রবর্তী তাকে ধর্মপাশা অফিসে ডেকে পাঠালেন। বিরক্ত গলায় বললেন, ধনু, উঁইপোকা চেন? ধনু শেখ ভীত গলায় বলল, চিনি। উইপোকার পাখা কেন উঠে জানো ? উড়াল দিবার জন্যে। না। উইপোকার পাখা উঠে মরিবার তরে। তুমি উইপোকা ছাড়া কিছু না। তোমার পাখা উঠেছে। তুমি সবেরে জাইত পাইত শিখাইতেছ ? ধনু শেখ বলল, কর্তা ভুল হইছে। ভুল স্বীকার পাইলে কানে ধর। কানে ধইরা একশ' বার উঠবোস কর। ধনু দেরি করল না। কানে ধরে উঠবোস শুরু করল। সে ধরেই নিয়েছিল চাকরি চলে যাবে। কানে ধরে উঠবোসের মতো অল্প শাস্তিতে পার পেয়ে যাচ্ছে দেখে সে আনন্দ। তার হাঁটুতে ব্যথা, উঠবোস করতে কষ্ট হচ্ছে। এই কষ্ট কোনো কষ্টই না। নিবারণ চক্রবর্তী খাতা দেখছিলেন। খাতা থেকে মাথা তুলে বললেন, একশ'বার কি হইছে? জে কর্তা হইছে। এখন বিদায় হও। তোমার চাকরি শেষ। লঞ্চঘাটায় নতুন টিকেট বাবু যাবে। আইজ দিনের মধ্যে বাড়ি ছাড়বা নতুন টিকেট বাবু পরিবার নিয়া উঠবে। আমার চাকরি শেষ? এতক্ষণ কী বললাম ? ধনু শেখ বলল, চাকরি যদি শেষই করবেন কান ধইরা উঠবোস করাইলেন কী জন্যে ? নিবারণ চক্রবর্তী বললেন, আগেই যদি বলতাম চাকরি শেষ তাহলে কি কানে ধরে উঠবোস করতা ? এই জন্যে আগে বলি নাই। ধনু শেখ বলল, এইটা আপনের ভালো বিবেচনা। তোমার ছয়দিনের বেতন পাওনা আছে। নতুন টিকেট বাবুর কাছে থাইকা নিয়া নিবা। তার নাম পরিমল। যাও, এখন বিদায়। জটিল হিসাবের মধ্যে আছি। ধনু শেখ অতি দ্রুত গভীর জলে পড়ে গেল। স্ত্রীকে নিয়ে উঠার কোনো জায়গা নেই। নিজের খরুচে স্বভাবের কারণে সঞ্চয়ও নেই। সে কিছুদিন বাজে মালের দোকান চালাবার চেষ্টা করল। স্ত্রীর জায়গা হলো নৌকায় । ছইওয়ালা নৌকার দু'পাশ শাড়ি দিয়ে ঘিরে তার ভেতরে সংসার । ধনু শেখের দোকান চলল না। হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ তার দোকান থেকে কিছু কেনে না। আশ্চর্যের ব্যাপার, মুসলমানওরাও না। রাতে নৌকায় ঘুমাতে গিয়ে ধনু শেখ হতাশ গলায় বলে, বউ কী করি বলো তো। নতুন কোনো ব্যবসা দেখবেন? কী ব্যবসা ? ঘোড়াতে কইরা ধর্মপাশা থাইকা মাল আনবেন। এই ব্যবসা করব না বউ। যারা ঘোড়ার মাল টানাটানি করে তারার স্বভাব হয় ঘোড়ার মতো। ঘোড়া হওয়ার ইচ্ছা নাই। নিবারণ চক্রবর্তীর কাছে গিয়া তার পায়ে উপুড় হইয়া পইড়া দেখবেন। পুরান চাকরি যদি ফেরত পান। ধনু শেখ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, লাভ নাই। উনার নতুন টিকেট বাবু কাজ ভালো জানে। তার জায়গায় আমারে দিবে না। এখন উপায়? তাই ভাবতেছি। অতিদ্রুত অবস্থা এমন পর্যায়ে গেল যে চাল ডাল কেনার টাকায় টান পড়ল। এর মধ্যে আরেক বিপদ কমলা গর্ভবর্তী। তার সারাক্ষণ ভুখ লাগে। এটা সেটা খেতে ইচ্ছা করে। একদিন অর্ধেকটা মিষ্টি কুমড়া কাচা খেয়ে ফেলল । ধনু শেখ বলল, বৌ, তোমারে তোমার মায়ের কাছে পাঠায়া দেই? কমলা বলল, আপনেরে এতবড় বিপদে ফেইলা আমি বেহেশতেও যাব না। তাছাড়া আমার মা'র নিজেরই খাওন জুটে না। আমার কাছে স্বর্ণের একটা চেইন আছে। এইটা বিক্রি করেন। ধনু শেখ স্বর্ণের চেইন বিক্রি করতে পারল না। বাজারের একমাত্র স্বর্ণকারের দোকানের মালিক শ্রীধর বলল, এর মধ্যে সোনা বলতে কিছু নাই। সবই ক্ষয়া গেছে। ধনু শেখ বলল, কর্তা! না খায়া আছি। স্ত্রীর সন্তান হবে। শ্রী ধর বলল, তোমার সাথে বাণিজ্য করব না। তুমি জাত নিয়া অন্দ মন্দ কথা বলো। তোমার সাথে বাণিজ্য করলে শ্রী গণেশ বেজার হবেন। দোকান লাটে উঠব। আমিও তোমার মতো না খায়া থাকব। বন্দক রাইখা কিছু দেন। বন্দক রাখতে হয় ভগবানের নামে, তোমার আবার ভগবান কী ? ধনু শেখ বলল, তাও তো কথা। ভাদ্র মাসের একদিন ধনু শেখকে সত্যি সত্যি উপাসে যেতে হলো। সারাদিনে দুই মুঠ চিড়া ছাড়া খাওয়ার নেই। তাও ভালো কমলা খেতে পেরেছে। চাল যা ছিল তাতে একজনের মতো ভাত হয়েছে। ফ্যান ভাতে লবণ ছিটিয়ে কমলা এত আগ্রহ করে খেল যে ধনু শেখের চোখে পানি এসে গেল। সে গম্ভীর গলায় বলল, বউ, একটা জটিল সিদ্ধান্ত নিয়েছি? কমলা আগ্রহ নিয়ে বলল, কী সিদ্ধান্ত ? ডাকাতি করব। ডাকাতি বিনা পথ নাই। কমলা হাসতে শুরু করেই হাসি বন্ধ করে ফেলল। ধনু শেখের মুখ গম্ভীর।চোখ জ্বল জ্বল করছে। ডাকাতি করবেন ? ডাকাইতের দল থাকে, আপনের দল কই? দল লাগে না। কমলা বলল, আমার সন্তানের কসম দিয়া একটা কথা বলি। ধনু শেখ কিছু বলল না। আপনি সত্যই ডাকাতি করবেন ? এই সময় ঘাট থেকে কেউ একজন ডাকল, এটা কি ধনু শেখের নাও ? ধনু নৌকা থেকে বের হয়ে দেখে হরিচরণ পাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। ধনু বলল, বাবু আদাব। আদাব। তোমার সঙ্গে গল্প করার জন্যে আসছি। নায়ে উঠি? উঠেন। আমার সাথে কী গফ করবেন ? আমি একজন হলু। জুতার শুকতলি। হরিচরণ নৌকায় উঠলেন। ধনু শেখ পাটাতনে গামছা বিছিয়ে দিল। হরিচরণ বসতে বসতে বললেন, কুকুরের বাচ্চা এবং মানুষের বাচ্চা নিয়া তুমি যে এক মীমাংসা দিয়েছ, মীমাংসাটা আমার মনে লেগেছে। মীমাংসার উত্তর কি আপনের কাছে আছে ? আছে। বলেন শুনি। হরিচরণ বললেন, মানুষের তুলনা মানুষের সাথে হবে। অন্য কোনো প্রাণীর সঙ্গে হবে না। একটা মন্দ মানুষের সঙ্গে অন্য একটা মন্দ মানুষের বিবেচনা হবে। কোনো মন্দ প্রাণীর সঙ্গে হবে না। বুঝেছ? বোঝার চেষ্টা নিতেছি। হরিচরণ বললেন, আরো একটা কথা আছে। বলেন শুনি। মানুষের তুলনায় পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী তুচ্ছের তুচ্ছের তুচ্ছ। ধুলিকনার চেয়েও তুচ্ছ। ধুলিকনা গায়ে তুললেও কিছু না, গা থেকে ফেলে দিলেও কিছু না। ধনু বলল, আপনি জ্ঞানী মানুষ। জ্ঞানী মানুষের জ্ঞানী কথা। আমি তুচ্ছ, তুচ্ছের কথাও তুচ্ছ। শুনেছি তুমি দুদর্শায় পড়েছ। তোমার চাকরি চলে গেছে। আমার কাছ থেকে সাহায্য নিবে ? ধনু বলল, কী সাহায্য করবেন ? কী ধরনের সাহায্য তুমি চাও ? ধনু বিরক্ত গলায় বলল, পারলে একটা লঞ্চ কিন্যা দেন। সোহাগগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ রুটে চলবে। লঞ্চের নাম এমএল কমলা। কমলা কে ? আমার পরিবারের নাম। হরিচরণ বললেন, আমি তোমাকে লঞ্চ কিনে দিব। তুমি লঞ্চ ব্যবসার সঙ্গে অনেকদিন ছিলে। এই ব্যবসা তুমি জানো। তোমার বুদ্ধি আছে। চিন্তাশক্তি আছে। তুমি পারবে। আমি ব্যবসায়ী মানুষ। না বুঝে কিছু করি না। হতভম্ব ধনু শেখ বলল, সত্যি লঞ্চ কিনে দিবেন? হ্যাঁ। লা ইলাহা ইল্লালাহু। এইগুলা কী বলেন? পর্দার আড়াল থেকে কমলা মুখ বের করেছে। সে মনের উত্তেজনা চেপে রাখতে পারছে না। হরিচরণ বললেন, মা, ভালো আছো? কমলা হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল। তার মুখে কথা আটকে গেছে। ধনু শেখ বলল, আমার কেমন জানি লাগতেছে। শরীর দিয়া গরম ভাপ বাইর হইতেছে। আপনে কিছু মনে নিবেন না। আমি নদীতে একটা ঝাঁপ দিব। ধনু শেখ ঝাঁপ দিয়ে নদীতে পড়ে গেল। :তিন: এশার নামাজ শেষ করে স্থানীয় মাওলানা বাড়িতে ফিরে রান্না বসিয়েছেন। চাল ডালের খিচুড়ি। এক চামচ ঘি দিয়েছেন, সুন্দর গন্ধ ছেড়েছে। এমন সময় হঠাৎ তাঁর কাছে মনে হলো শুকনা পাতায় খসখস শব্দে কেউ একজন আসছে। মাওলানা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। শয়তানার উপদ্রব আবার শুরু হয়েছে। মাওলানা আয়াতুল কুরসি পাঠ করে হাততালি দিলেন। তখন মনে হলো উঠানে কে একজন কাশছে। মাওলানা ভীত গলায় বললেন, কে কে? আমি। আমি কে? আমি কে? মাওলানা হারিকেন হাতে বের হয়ে এলেন। চাদর গায়ে হরিচরণ দাঁড়িয়ে আছেন। একহাতে বেতের একটা লাঠি। অন্য হাতে হারিকেন। সঙ্গে আর কেউ নেই। কেমন আছেন মাওলানা সাহেব? জি জনাব, ভালো। আপনি এত রাতে! রাত তো বেশি হয় নাই। আপনি কি আমাকে দেখে ভয় পেয়েছেন ? মাওলানা বললেন, সামান্য ভয় পেয়েছি। আমার কাছে কোনো কারণে কি এসেছেন? হরিচরণ বললেন, ছোট্ট একটা কারণ আছে। শুনেছি আপনি পুরো কোরান শরীফ মুখস্থ করেছেন, এটা কি সত্য ? মাওলানা হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়লেন। লজ্জিত গলায় বললেন, হাফেজ টাইটেল এখনো পাই নাই। কোনো বড় মাদ্রাসায় গিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে, যেমন ধরেন দেওবন্দ মাদ্রাসা। পরীক্ষা দিতে যান না কেন? খরচপাতি আছে। আমি দরিদ্র মানুষ। অর্থের সংস্থান নাই। হরিচরণ বললেন, আমি খরচ দিলে কি যাবেন ? মাওলানা চুপ করে রইলেন। হরিচরণ বললেন, আপনাদের ধর্মে কি আছে যে অমুসলমানের সাহায্য নেয়া যাবে না? এরকম কিছু নাই। তাহলে আমার সাহায্য নিন। দেওবন্দ থেকে ঘুরে আসুন। জি আচ্ছা। বহুত শুকরিয়া। হরিচরণ সামান্য ইতস্তত করে বললেন, যদি কিছু মনে না করেন একটা অনুরোধ কি করতে পারি? মাওলানা বললেন, অবশ্যই। আপনার মুখস্থবিদ্যার একটা নমুনা কি আমাকে শোনাবেন? মাওলানা বললেন, অবশ্যই। অজু করে আসি। অজু করতে হবে? জি। নাপাক অবস্থায় কোরান মজিদ আবৃত্তি করা ঠিক না। হরিচরণ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। মাওলানা ইদরিস জায়নামাজে বসে কোরান আবৃত্তি করছেন। তাঁর চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে। একসময় কোরান পাঠ শেষ হলো। মাওলানা বললেন, খিচুড়ি পাক করেছি। আপনি কি আমার সঙ্গে খানা খাবেন? অমুসলিমকে খানা খাওয়াতে আপনাদের কোনো সমস্যা নাই? জি-না। সমস্যা কী জন্যে থাকবে? আপনাদের ধর্মের এই জিনিসটা ভালো। আমি আগ্রহের সঙ্গেই খানা খাব। একজনের জন্যে রেঁধেছেন। দুইজনের কি হবে? বেশি করে রেঁধেছি। যেটা বাঁচে সেটা দিয়ে সকালে নাশতা করি। হরিচরণ তৃপ্তির সঙ্গে খেলেন। হাত ধুতে ধুতে বললেন, আরাম করে খেয়েছি। ধন্যবাদ। মাওলানা বললেন, ধন্যবাদ কেন ? আপনার তো আজ রাতে আমার এখানেই খাওয়ার কথা। সব আগে থেকে ঠিক করা। হরিচরণ বিস্মিত হয়ে বললেন, কে ঠিক করেছে? আল্লাহপাক ঠিক করেছেন। মানুষ পশুপাখি সবার রিজিক আল্লাহপাক নিজে ঠিক করে রাখেন। কে কবে কোথায় খানা খাবে সেটা তার জন্মের সময়ই ঠিক করা। :চার: এরপরে বান্ধবপুরের আলোচনার বিষয় মাওলানা ইদরিসের বাড়িতে হরিচরণ গো-মাংস খেয়েছেন। বিষয়টা নিয়ে হৈচৈ শুরু করেছেন অম্বিকা ভট্টাচার্য। বিভিন্ন দিকে নানা দেনদরবার করছেন। হরিচরণ আগেই জাতিচ্যুত হয়েছেন। গো-মাংস ভক্ষণজনিত গুরুতর অপরাধে নতুন করে কিছু হবার কথা না। তারপরেও অম্বিকা ভট্টাচার্য যথেষ্ট ঘোঁট পাকিয়ে ফেলেছেন। হরিচরণ এবং মাওলানা ইদরিস দুজনেই গুরুতর অপরাধ করেছে। একজন গো-মাংস খেয়েছে, আরেকজন ধর্ম নষ্ট করার জন্যে খাইয়েছে। এই দুজনকেই অঞ্চল ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। বান্ধবপুরের সীমান্তে জাগ্রত বটগাছের নিচে যে বটকালি মন্দির সেই মন্দিরের মূর্তি মাথা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। অম্বিকা ভট্টাচার্য নিশ্চিত, এই ভয়াবহ অন্যায় কার্যের পেছনেও আছে মাওলানা ইদরিস। কারণ কয়েক দিনই তাকে এই রাস্তায় যাতায়াত করতে দেখা গেছে। তাছাড়া মা কালী স্বপ্নে দেখা দিয়ে ইশারায় তাকে বলেছেন, মূর্তি যে ভঙেছে তার মুখভর্তি দাড়ি। বিচার বসিয়ে মাওলানা ইদরিসকে চাকরিচ্যুত করা হল। :পাঁচ: বান্ধবপুরের পশ্চিমে মাধাই খালের দু'পাশে পাঁচমিশালি গাছের ঘন জঙ্গল। বাঁশঝাড়, ডেউয়া, বেতঝোপ, ভূতের নিবাস ঝাঁকড়া শ্যাওড়া গাছ। জায়গায় জায়গায় বুনো কাঁঠাল গাছ যে গাছ কখনো ফল দেয় না। এমনই এক কাঁঠাল গাছের নিচে আজ ভোর রাতে একটা বকনা গরু জবাই হয়েছে। জবাই করেছেন মাওলানা ইদরিস। ধনু শেখের মানতের গরু। ধনু শেখকে গত বছর কলেরায় ধরেছিল। জীবন যায় যায় অবস্থায় তিনি মানত করেন— যদি এই দফায় প্রাণে বাঁচেন তাহলে গরু শিন্নি দেবেন। গরু শিন্নি কঠিন বিষয় জঙ্গলের ভেতর করতে হয়েছে। ধনু শেখ বাড়ির দু'জন কামলা এবং তার ছোটভাইকে নিয়ে এসেছেন। গরু জবাইয়ের সব চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে। চামড়া হাড়গোড় গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। কেউ যেন বুঝতে না পারে। শিন্নির মাংস সবাইকে ভাগ করে দেয়া নিয়ম। ধনু শেখ নিজে এই কাজটি করছেন। মুসলমান ঘর হিসাব করে করে মাংস ভাগ করছেন। পদ্ম পাতায় মাংস পুঁটলি করা হচ্ছে। দিনের মধ্যেই বাড়ি বাড়ি মাংস পৌঁছে যাবে। মাওলানা ইদরিস একটু দূরে বসেছেন। তাঁকে সামান্য চিন্তিত মনে হচ্ছে। গোপনে গরু জবেহ করার খবর চাপা থাকবে তার এরকম মনে হচ্ছে না। সামনে মহাবিপদ। ধনু শেখ বললেন, মাওলানা, আপনারে দুই ভাগ দেই? মাওলানা বললেন, প্রয়োজন নাই। এক ভাগ দিলেই চলবে। আমি একজন মোটে মানুষ। ঘরে তেল আছে তো? গরুর মাংসের সোয়াদ তেলে। অর্ধেক মাংস অর্ধেক তেল, যতটুকু মাংস ততটুক পেঁয়াজ। পেঁয়াজের অর্ধেক আদা। অল্প আঁচে দুপুরে বসাবেন সন্ধ্যারাতে নামাবেন- অমৃত। জঙ্গল থেকে তারা বের হলো দুপুরের আগে আগে। ধনু শেখ পদ্ম পাতায় মোড়া মাংসের ঝাকা এবং দলবল নিয়ে মাধাই খালে এসে নৌকায় উঠল। নৌকা সরাসরি ধনু শেখের বাড়ির পেছনে থামল। ধনু শেখ নিজ বাড়িতে ছেলের আকিকা উপলক্ষে দু'টা খাসি জবেহের ব্যবস্থা করেছেন। খাসি জবেহতে কোনো বাধা নেই। এই কাজ প্রকাশ্যে করা যায়। ধনু শেখ খাসির মাংসের সঙ্গে সব মুসলমান বাড়িতে এক পোঁটলা গরুর মাংসও দিয়ে দিলেন। হতদরিদ্ররা যেন মাংস ঠিকমতো রাঁধতে পারে তার জন্যে তেলমসলা কেনা বাবদ একটা করে আধুলি পেল। বাড়িতে বাড়িতে মাংস রান্না হবে। গন্ধ ছড়াবে। কারোর কিছু বলার নেই। খাসির মাংস রান্না হচ্ছে। এক পোঁটলা মাংস গেল অম্বিকা ভট্টাচার্যের কাছে। ধনু শেখ নিজেই নিয়ে গেলেন। অতি বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ঠাকুর। আমার ছেলের আকিকার খাসির মাংস। আত্মীয় বান্ধবদের বাড়িতে এই মাংস বিলি করার বিধান আছে। এই মাংস আপনি কি গ্রহণ করবেন? অম্বিকা ভট্টাচার্য বললেন, খাসির মাংসে কোনো দোষ নাই। তবে মুসলমানের বাড়ির মাংস বিধায় শোধন করে নিতে হবে। শোধন করার খরচা যদি দাও মাংস নিতে পারি। খরচা কত ? এক টাকার কমে হবে না। কর্পূর লাগবে। একশ' বছরের পুরনো ঘিতে কর্পূর দিতে হবে। সেই ঘি পুড়িয়ে তার ধোঁয়া মাংসের গায়ে লাগাতে হবে। বিরাট ঝামেলা। ধনু শেখ এক টাকার জায়গায় দু'টাকা দিলেন। মাংস শোধন বাবদ এক টাকা। তেল এবং মশলাপাতি কেনা বাবদ এক টাকা। ঠাকুর অম্বিকা ভট্টাচার্য পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ করে সেই রাতে গরুর মাংস খেলেন। পরদিন চাদরে আতর মাখিয়ে পাম্পশু পায়ে ঠাকুর অম্বিকা ভট্টাচার্যের বাড়িতে গেলেন ধনু শেখ। বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাইলেন, পুত্রের আকিকার মাংস ঠাকুর খেয়েছেন কি-না। অম্বিকা ভট্টাচার্য বললেন, সবাইকে নিয়ে খেয়েছি। তৃপ্তি করে খেয়েছি। ধনু শেখ বললেন, শুনে খুশি হলাম। তবে ঠাকুর একটা বিষয়। মাংসটা গরুর। ভুলক্রমে খাসির মাংস ভেবে আপনাকে গরুর মাংস দিয়েছি। গোপনে একটা গরু জবেহ করেছিলাম। সেই গরুর মাংস। হতভম্ব অম্বিকা ভট্টাচার্য বললেন, কী বললা? ধনু শেখ বললেন, যা বলেছি সত্য বলেছি। তবে আপনার চিন্তার কিছু নাই। কেউ জানবে না। অম্বিকা ভট্টাচার্য বিড়বিড় করে বললেন, কেউ জানুক বা না-জানুক, জাত তো চলে গেছে। ধনু শেখ হাই তুলতে তুলতে বললেন, জাত চলে গেলেও চুপ করে থাকেন। আপনার কন্যা আছে। তার বিবাহ দিতে হবে না? ঠাকুর, যাই। অম্বিকা ভট্টাচার্য কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, এইটা তুমি কী করলা? ধনু শেখ হাই তুলতে তুলতে বললেন, আপনাদের এমন কিছু কি আছে যা খেলে মুসলমানের জাত যাবে ? থাকলে দেন খাই। সমানে সমান হবে। ঠাকুর অম্বিকা ভট্টাচার্যের সপরিবারে গো-মাংস ভক্ষণ কাহিনী তৃতীয় দিনের দিন প্রকাশিত হয়ে পড়ল। বিধান দেবার জন্যে শ্যামগঞ্জ থেকে ন্যায়রত্ন রামনিধি চলে এলেন। তিনি বললেন, গরু যদি অল্পবয়স্ক হয় তাহলে জাত যাবে না। প্রায়শ্চিত্ত করলেই হবে। কারণ পার্বতীর পিতা, শিবের শ্বশুর মহারাজা দক্ষ যে যজ্ঞ করেছিলেন সেখানে গোবৎস বধ করা হয়েছে। ব্রাহ্মণরা গোবৎসের মাংস খেয়েছেন। জানা গেল ঠাকুর অধিকা ভট্টাচার্য যে মাংস খেয়েছেন তা বয়স্ক গরুর মাংস। ন্যায়রত্ন রামনিধি বললেন, এরও বিধান আছে। যে পরিমাণ গো-মাংস প্রত্যেকে খেয়েছে সেই পরিমাণ কাঁচা গোবর এক সপ্তাহ খাবে। তাতে শরীর শোধন হবে। শরীর শোধিত হবার পর গঙ্গায় একটা ডুব দিলে গো-মাংস ভক্ষণজনিত বিষ শরীর থেকে চলে যাবে। ঠাকুর অম্বিকা ভট্টাচার্য শরীর শোধনের প্রাথমিক পরীক্ষায় ফেল করলেন। এক চামচ গোবর মুখে দিয়ে বমি করতে করতে মৃতপ্রায় হলেন। সপরিবারে মুসলমান হবার সিদ্ধান্ত নিলেন। এক শুক্রবার জুমা নামাজের পর তিনি মাওলানা ইদরিসের কাছে ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নিলেন। সবাই মুখে তিনবার বললেন লা ইলাহা ইল্লাললাহ। আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নাই। মুহাম্মদ তাঁর রসুল। মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। মাওলানা ইদরিস প্রত্যকের ডান কানে তিনবার করে সূরা ইয়াসিন পাঠ করে ফুঁ দিয়ে দিলেন। ফুঁর পরপরই ডান হাতে কান বন্ধ করতে হলো। সূরা ইয়াসিন দীর্ঘ সময় কানের ভেতর থাকে। হাজাম ধারালো বাঁশের কঞ্চি নিয়ে অপেক্ষা করছিল। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ পর্ব শেষ হওয়া মাত্র সে দলের পুরুষদের খতনা শুরু করল। তাদের চোখের জল এবং চাপা গোঙানির ভেতর দিয়ে ইসলাম ধর্মে দাখেলের অনুষ্ঠান সুসম্পন্ন হলো। অম্বিকা ভট্টাচার্যের নাম হলো— মোহম্মদ সিরাজুল ইসলাম। সবাই ডাকা শুরু করল সিরাজ ঠাকুর। ঠাকুর থেকে মুসলমান হয়েছেন এই জন্যেই নামের শেষে ঠাকুর। ইনিই হুমায়ুন আহমেদের সেই মাতুল বংশীয় পূর্ব পুরুষ। [মীর সালমান সামিলের পোষ্ট থেকে সামান্য পরিবর্তন করে]

Read more →