Skip to content

গণভোট - নাবিলা ইদ্রিস

2 min read14 views

নাবিলা ইদ্রিস লিখেছেন - ‘’’আমি বারবার একটা বিভ্রান্তি দেখছি, সেটা হলো - গণভোটে অনেকগুলো আলাদা আলাদা বিষয়কে জোর করে একসাথে মাত্র চারটা প্রশ্নে বেঁধে দিয়ে, তারপর চারটাকে বান্ডেল করে শুধুমাত্র একটা হ্যাঁ বা না বলতে হচ্ছে। এ তো মহা বাটপারি! এতগুলো প্রশ্নের উত্তর কি শুধুমাত্র একটা হ্যাঁ বা না-এ বলা সম্ভব? এই ফ্রেমিঙে যেটা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে তা হল - নির্বাচন তো ঠিক এভাবেই কাজ করে। সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে গেলেও আপনি প্রতিটা পলিসির জন্য আলাদা আলাদা ব্যালট পান না। আপনি এমন একটা দলকে বেছে নেন, যার সামগ্রিক দিকনির্দেশনার সাথে আপনি সবচেয়ে বেশি একমত। এর মানে এই না যে দলটার প্রতিটা নীতি আপনি জানেন, পছন্দ করেন, বা শতভাগ সমর্থন করেন... এবং অবশ্যই এর মানে এও না যে দলটির সাথে আপনার কোন দ্বিমত নেই। ইন্সটেড এর মানে হলো, মোটের ওপর আপনি মনে করেন যে ব্যালটে যে বিকল্পগুলো আছে, তার তুলনায় এই দলটাই বেটার। গণভোটও একইভাবে কাজ করে। টেবিলে যে বিকল্প আছে, তার মধ্যে কোনটা সামগ্রিকভাবে ভালো? যদি মোটা দাগে মনে হয় হ্যাঁ ভাল, তো হ্যাঁ-তে সিল দিবেন; মোটা দাগে না মনে হলে, না-তে দিবেন। সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বভাবটাই এমন; বড় প্রশ্নগুলোকে অনেক সময় বাস্তবে একটা সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারণ করতে হয়। (সত্যি বলতে, বিয়ের প্রস্তাব পেলেও কিন্তু একই কাজ করেন, হেহে! এজ এ হোল মানুষটাকে জাজ করেন, তাঁর নাক ডাকার বিরক্তিকর স্বভাবটা মেনে নেন।) এটা নতুন কিছু না, অস্বাভাবিকও না। ব্রেক্সিটের কথাই ধরেন। যুক্তরাজ্যে ২০১৬ সালের গণভোটে ব্যালটে প্রশ্ন ছিল: “যুক্তরাজ্য কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য থাকবে, নাকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করবে?” কত ভোটার ছিল না যারা ইকনমিক কোঅপারেশন চাচ্ছিল কিন্তু ইমিগ্রেশান চাচ্ছিল না? বা ডিফেন্স প্যাক্ট চাচ্ছিল কিন্তু ইকনমিক ইন্টেগ্রেশান চাচ্ছিল না? কিন্তু এমন সাব-অপশনের কোন তালিকা ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই ব্যালটের ওই মাত্র একটা প্রশ্নের ভেতরেই বাণিজ্য, অভিবাসন, আইন, সার্বভৌমত্ব, আর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিশাল বড় বড় প্রভাব একসাথে “বান্ডলড” হয়ে ছিল। বাস্তবে এটাকে ডজন ডজন আলাদা ভোটে ভাগ করার কোনো উপায় ছিল না - করতে গেলে পুরো প্রক্রিয়াটাই অচল হয়ে যেত। তাই আপনি যদি ভাবেন, “কিছু অংশে আমি একমত, কিছু অংশে না, তাহলে আমি কী করব?” উত্তরটা হলো: নরমাল নির্বাচনে আপনি যেটা করেন, এখানেও সেটাই করবেন। পুরো প্যাকেজটাকে একসাথে বিবেচনা করবেন, বিকল্পটার সাথে তুলনা করবেন, আর যেটাকে সামগ্রিকভাবে ভালো মনে হবে সেটাই বেছে নেবেন। সব কিছু মন মত হবে না, হওয়া সম্ভব না, এবং যুক্তিসঙ্গতও না; আপনার ডিল ব্রেকার থাকতেই পারে। আমার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটা পরিষ্কার: আমি হ্যাঁ ভোট দেব। এত রক্তের বদলে খানিকটা সংস্কারের চেষ্টাটা অন্তত করব না? ক্যামনে কি? অবশ্যই করব। চেষ্টা করবই করব।’’’

#JusticeForHadi

If you enjoyed this

Share
←JprevnextK→

More to read

সমৃদ্ধ সালতানাতে বাঙ্গালা

পাল, সেন, সুলতানী, মুঘল, ব্রিটিশ সকল পিরিয়ডেই বাংলা ভূখন্ড এতই ধনী আর উন্নত ছিল যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বণিকে…

The real "Unbowed"

বাংলাদেশকে টি-টুয়েন্টি থেকে বাদ দিয়েছিল ভারত নিয়ন্ত্রিত বর্তমান আইসিসি, এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরুপ পাকিস্…

পোলাপাইনের মাথায় এত্ত বুদ্ধি!

পোলাপাইনের মাথায় এত্ত বুদ্ধি! বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশন এখন সব দেখে আর বুঝে। জাতীয়তাবাদী দল যদি মনে করে আওয়ামী ল…