রাজনীতিতে নারী - নির্বাচন ২০২৬
মাস দুয়েক হবে হয়ত, এমন সংবাদ একটু পর পরই দেখা যাচ্ছে যে জামায়াত ইসলামীর মহিলারা হয়ত কারোও বাড়িতে নির্বাচনের জন্য হোক বা তাদের দাওয়াতী কাজের জন্য হোক গিয়েছে, আলোচনা করেছে। তখন সেখানে বিএনপির স্হানীয় কর্মীরা সেখানকার জামায়াতের মহিলাদেরকে মৌখিক হুমকি সহ বেশ কিছু যায়গায় গায়েও হাত তোলার চেষ্টা করেছে দেখা গেছে। নির্বাচন যত কাছে আসছে ততই এটা মনে হচ্ছে বাড়ছে। এটার আমি নিজে একটা হাইপোথিসিস বের করলাম।
জামায়াতের আলাদা মহিলা শাখা আছে, এবং এরা এ্যক্টিভ। মানে প্রায় প্রতি উপজেলা, থানা, জেলা, বিভাগে জামায়াতের পুরুষ-মহিলা দুই শাখার আলাদা সাংগঠনিক presence আছে, হয়ত প্রায় সব মাইক্রোলেভেলেই কার্যকরভাবে এরা এক্টিভ। এ্যটলিস্ট ছেলেরা এ্যক্টিভ, মহিলারা ১০০% না হলেও কাছাকাছিই হবে আমার ধারণা। যেহেতু এরা ইসলামি সংগঠন তাই এরা আলাদা ভাবেই কাজ করে। এবং একারণেই এদের আলাদা presence টা জরুরী। এভাবে একই পরিবারের পুরুষ-মহিলা দুই লিঙ্গের কাছে সমানভাবে কাজ করতে পারার সাংগঠনিক সিস্টেম আছে তাদের। আরও একটা ব্যাপার হল জামায়াতের মহিলা শাখার কার্যক্রম ঘরোয়া। বাংলাদেশের নারী সমাজের সিংহ ভাগই পুরুষ presence এ, ঘরের বাহিরে কম্ফোর্টেবল না। এই সব কারণে জামায়াত মহিলাদের কাছে বিএনপি'র চেয়ে বেশি access পাবে বা পাচ্ছে। এই এক জায়গাতে মনে হচ্ছে বিএনপি ফেইল করে গেছে। বিএনপি'র আলাদা যেই মহিলা শাখা আছে সেটা পুরুষের সাথে পাশাপাশি কাজ করে। এরা পুরুষের নেতৃত্বেই পুরুষের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে, ঘরের বাইরে। আলাদাভাবে আমাদের বাংলাদেশের পুরুষ-প্রেজন্সে-আনকম্ফোর্টেবল ৫০% এর বেশি নারী ভোটারকে এরা এজন্য মিস করে গেছে। জামায়াত ইসলামীর সাথে ইসলাম নাম আছে জন্য যে তারা ভোটারদের, বিশেষ করে নারী ভোটারদের, আকর্ষণ বেশি করতে পারবে বা পারছে এটা সম্ভবত না। এর বড় কারন হয়ত এই ঘরোয়া পরিবেশে পুরুষদের থেকে দূরে আলাদাভাবে তারা রাজনৈতিক কথা শুনছে বা দাওয়াত পাচ্ছে এজন্য। বিএনপি তাদের এই গ্যাপ ফিলআপ না করতে পেরে প্রতিপক্ষের এই কাজ দেখে তাই হয়ত মাথা গরম করে অতি উৎসাহী হয়ে হামলা করার কারনে তারা তাদের ইমেজ যা আছে সেটা আরও নষ্ট করছে। আমার মনে হয় বিএনপি'র উচিৎ এই গ্যাপটা পূরণ করা, আলাদাভাবে ঘরে ঘরে তাদের নারী-অনলি কর্মীদের পাঠানো, সাথে পুরুষ পুরুষ ভাবওয়ালা নারী হইলে আবার হবে না।
#JusticeForHadi