Skip to content

সমৃদ্ধ সালতানাতে বাঙ্গালা

3 min read12 views

পাল, সেন, সুলতানী, মুঘল, ব্রিটিশ সকল পিরিয়ডেই বাংলা ভূখন্ড এতই ধনী আর উন্নত ছিল যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বণিকেরা তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাংলায় আসত। প্রাচীনকাল থেকেই সব শাসকেরা তার ভূখন্ডের অভ্যন্তরের ব্যবসা প্রসারের জন্য, আর ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসা করতে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য সকল বন্দোবস্ত করে দিত। শাসক তার শাসিত ভূখন্ডের সব প্রধানত কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন আর রপ্তানীতে সকল সাহায্য করত। কারণ এটা থেকেই আয়। বাংলা ভূখন্ড প্রাচীনকাল থেকেই কৃষি বিভিন্ন পণ্য রপ্তানী থেকে বিপুল অর্থ আয় করত। তখন চট্টগ্রাম, যেটাকে আরব সহ প্রাচীন অনেক পরিব্রাজক সামান্দর নামে আখ্যায়িত করেছে তাদের বইতে, বরিশাল, নারায়নগন্জ, নোয়াখালী সহ বেশ কয়েক প্রধান আর অভ্যন্তরীন নৌঘাঁটি ছিল, যেগুলো ছিল রপ্তানীর হাব। পাল, সেন, সুলতানী, মুঘল, ব্রিটিশ সকল পিরিয়ডেই এমন অবস্থা ছিল। তখন বাংলা ভূখন্ড এতই ধনী আর উন্নত ছিল যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বণিকেরা তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাংলায় আসত। শাসক যে ই হোক, সেন বা পাল বা তুর্কী বা পার্সি বা আফগান, তারা বাংলায় এসে বাংলায় থেকেই বাংলাকে শাসন করত। এখানেই তারা বংশানুক্রমে থেকে যেত, এবং লোকাল বাঙালীদের সাথেই তারা বিয়ের সম্পর্ক করত। তার মানে তারা নিজেদেরকে বাঙালীদের বা লোকালদের থেকে উন্নত জাত মনে করত না। কিন্তু ব্রিটিশরা যখন আসে তারা এই ধারা পরিবর্তন করে। তারা বাংলা ভূখন্ড দখল করে বাংলাকে শাসনের নামে শোষণ করে। আর তাদের অর্জিত সকল অর্থ তারা ইংল্যান্ডে পাঠায়। তৎকালীন ব্রিটিশ সৈন্য, নাবিক এমন অনেকের চিঠি থেকে জানা যায় তারা বাংলায় যাচ্ছে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে, কারন ইংল্যান্ডে তারা ছাপোষা জীবনযাপনে অতিষ্ট। এমনকি রবার্ট ক্লাইভও এমনই একজন ছিল। তাদের খুব সামান্যই এদেশে স্হায়ী ভাবে থেকে যায়। ব্রিটিশ, পর্তুগীজ, ডাচ সবাই ই এই কাজ করে। বাংলা ভূখন্ড থেকে পলাশীর পরাজয়ের পর এত বেশি সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হয় এবং ক্রমাগত হতে থাকে যে এর ভয়াবহ ফলাফল এক দশকের ভেতরেই পাওয়া যায়, বাংলায় ভয়াবহ দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যেটা তখন থেকে বিগত পাল পর্যন্ত ইতিহাসেও নেই। যেই দূর্ভিক্ষের ফলে সমৃদ্ধ বাংলার কাঠামো একদম ভেঙে পরে। একটু বড় লেখাটার কারন হল, আগামীকাল ভোট। আপনি যদি এমন কাওকে ভোট দেন যে এইদেশের শাসক হয়ে কানাডা, লন্ডন, দুবাইয়ে বেগম পাড়া গড়বে, যেটা আওয়ামীলীগ গত ১৭ বছর করে গেছে, তাহলে অর্থনৈতিক মূল্যস্ফীতি যেটা এখনও কন্ট্রোলের ভেতর রাখতে পেরেছে প্রফেসর ইউনুসের নেতৃত্বের সরকার, সেটা আর সম্ভব হবে না। আপনি অন্যের ভবিষ্যৎ মেরে নিজে লাখ কোটি টাকার মালিক হলেও সেটা মূল্যহীন হয়ে যাবে মূল্যস্ফীতির কারনে। ভোট দেওয়ার আগে শাপলার গণহত্যা, জুলাই ম্যাসাকার সহ আরও অসংখ্য লেবেল না পাওয়া ম্যাস গুম খুনের কথাগুলো মনে রাখবেন। সূরা আর রাদ এর ১১ নাম্বার আয়াত মনে রাখবেন - "আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের/জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরাই তাদেরকে পরিবর্তন করতে চায়"। আযাদি না জিল্লতি?

If you enjoyed this

Share
←Jprev

More to read

The real "Unbowed"

বাংলাদেশকে টি-টুয়েন্টি থেকে বাদ দিয়েছিল ভারত নিয়ন্ত্রিত বর্তমান আইসিসি, এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরুপ পাকিস্…

পোলাপাইনের মাথায় এত্ত বুদ্ধি!

পোলাপাইনের মাথায় এত্ত বুদ্ধি! বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশন এখন সব দেখে আর বুঝে। জাতীয়তাবাদী দল যদি মনে করে আওয়ামী ল…

গণভোট - নাবিলা ইদ্রিস

নাবিলা ইদ্রিস লিখেছেন - ‘’’আমি বারবার একটা বিভ্রান্তি দেখছি, সেটা হলো - গণভোটে অনেকগুলো আলাদা আলাদা বিষয়কে জোর…