ওয়েল, অগাষ্টের ১ তারিখে আমি একটা ফেইসবুক পোষ্ট করি
ওয়েল, অগাষ্টের ১ তারিখে আমি একটা ফেইসবুক পোষ্ট করি যেইখানে ছোট্ট একটা লেখার সাথে ২০২৩ সালের একটা বিয়ের দাওয়াতের আমার ৩টা ছবি দিছিলাম - মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আর সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীমের সাথে। সেইটা দেখে অনেকের ধারণা হইতে পারে যে বি এন পি'র আগামী নির্বাচনে জয়ী(!) হবার প্রবল সম্ভাবনার জন্য আমি আসলে এই কাজ করছি, হয়ত ভবিষ্যতে সুবিধা আদায়ের জন্য। মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক না। এই ব্যাপারে একটা কথা বলে রাখা ভাল। ২০২৩ এরও বেশ কয়েক বছর আগে, যখন দেশে প্রবল প্রতাপে আওয়ামী দু:শাসন চলতেছিল, আওয়ামীলীগের ক্ষমতা থেকে সরার কোন লক্ষনই ছিল না, তখন একটা বিয়েতে আমি ছিলাম যেখানে আওয়ামী একজন এম পি ছিল, মির্জা আজম, আমাদের এলাকার। বিডিআর বিদ্রোহের সাথে জড়িত অন্যতম আওয়ামী পান্ডা, সেনা হত্যাকারী, এন্ড মোর ইম্পরট্যান্টলি একজন দেশদ্রোহী। তো সেদিন আমি তার সাথে একটা ছবি তোলার ইচ্ছাও করি নাই। আমার হাতে ক্যামেরা দিয়ে এমন লোকও মির্জা আজমের সাথে ছবি তুলে নিছে যাদের ব্যাপারে আমি জানি সে আওয়ামীলীগ করে না। কোন এক কারনে উনি উনার শিডিউলের চেয়ে বেশ কিছুক্ষণ বেশি সময় দেন। তখন উনি একটা চেয়ারে বসা, উনার সামনে টেবিল, পিছে এক ঝাঁক লোক। আর টেবিলের সামনে আমি লিটারেলি একা দাঁড়ায়া। তার পিছে থেকে সবাই ই তার সাথে এক খানা ছবি তুলে রাখতে চায়, যদি লাইগা যায়। আমি ঠিক উনার সামনে দাঁড়ানো, হাতে ফোন-ক্যামেরা, কিন্তু আমি একটা ছবিও খেচি নাই। মির্জা আজম বেশ কয়েকবার আমার দিকে তাকাইলেন, হয়ত বুঝতেছিলেন না কেন আমি ছবি না তুইলা দাঁড়ায়া আছি। আমার সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্য থাকলে মির্জা আজমের সাথেও আমার ছবি ফেইসবুকে পোষ্টাইতাম।
আচ্ছা এইটা যখন বললাম তখন আরও আগের আরেকটা ঘটনার কথা বলি। তখন আমি নোকিয়া লুমিয়া ১০২০ এই ঝাক্কাস ফোনটা ইউজ করি। ওইটার ওয়্যার্ড হোডফোনটা এতই ভাল বিল্ড ছিল যে, সেটা কানে দিলে কোন মিউজিক/সাউন্ড ফোনে না চললেও আশেপাশের কোন শব্দ কানে আসে না বললেই চলে। তো হেডফোনটা কানে দিয়ে আমি জামালপুর রেইলস্টেশনের প্লাটফর্মে দাঁড়ানো, কারোও কাছে সম্ভবত ফোন দিব। আমার দুই পায়ের মাঝে আমার প্রিয় লম্বা ব্যাগটা, বেশ ভারী। বেশ কিছুক্ষন পরে আমার পিছন থেকে বেশ ভালো জোড়ে ধাক্কা লাগল। কিন্তু আমি এক চুলও নড়ি নাই, এটাতে আমি নিজেই বেশ অবাক হইছি, এত জোড়ে ধাক্কাতেও আমি একটুও নড়লাম না কেমনে। যাই হোক আমার মেজাজ সেই বিগড়ে গেল, ঘুড়ে যারে পাব তারে মাইর দিব কিনা জানি না একেবারে এটলিস্ট বিশাল ঝাড়ি দিব। কিন্তু পিছনে তাকায়া আমি পুরা হতবাক। মানুষের বিরাট বড় এক লাইন, যেটার সামনে বেশ কয়েকজন পুলিশ। পুলিশের পিছেই মির্জা আজম। মূলত পুলিশ আমারে জোরে ধাক্কা দিছে রাস্তা ক্লিয়ার করার জন্য। পরে শুনি মির্জা আজম আমি যেই ট্রেনে ঢাকা থেকে জামালপুর গেছিলাম সেই ট্রেনে উনিও ছিল। আমার কিন্তু সেই খুশি লাগছিল কারন আমারে সরাইতে পারে নাই এক বিন্দুও, যেটা তখন আমার কাছে বেশ অবাক লাগছে।