Back to Home

টেক্সটাইল কলেজে আব্বু

টেক্সটাইল কলেজে(বর্তমান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুটেক্স) পড়ার সময় আব্বুর একজন বন্ধু ছিল যিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। উনি আব্বু সহ আরও বেশ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে একদিন শেখ মুজিবরের সাথে দেখা করতে নিয়ে গিয়েছিলেন। আব্বু তখনও আওয়ামীলীগ সাপোর্ট করতেন। তখন শেখ মুজিবের সাথে দেখা করা একদম সহজ ছিল, কড়াকড়ি, নিয়ম নীতি ছিল না বললেই চলে। উনারা ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের বাড়ির সামনের লনে ঘাসের ওপর বসে গল্প করেন শেখ মুজিবের সাথে বেশ কিছু সময়। মুজিব উনাদের সাথে কথা বলার ফাঁকে বলেন "তোরা তো আমাকে মারবি না?"। মুজিব নিজেই বুঝতে পারছিলেন উনাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা হচ্ছে। এটা একটা ওপেন সিক্রেট ছিল তখন দেশের প্রায় সব রাজনীতিবিদদের কাছেই। এরপরও অনেক বছর পর্যন্ত আব্বু আওয়ামীলীগই সাপোর্ট করতেন। আব্বুর বই পড়ার অভ্যাস থাকায় ফৌজী জুট মিলসে চাকুরীরত অবস্থায় আমিনুল ইসলাম (যতদূর মনে পড়ে) নামের একজন সহকর্মী আব্বুকে বেশ কিছু বই দেন, যেই বই পড়ে আব্বুর চিন্তাধারায় একদম বড় পরিবর্তন আসে, আব্বু আর আওয়ীমীলীগ সাপোর্ট করতে পারে নাই। আঙ্কেল বেঁচে থাকলে উনার সাথে দেখা করার ইচ্ছা আমার। . আব্বু টেক্সটাইলের ছাত্র অবস্থায় আমার ছোট মামা ঢাকা আসতেন আর আব্বুর হোস্টেলে যেয়ে দেখা করতেন। একবার ঢাকায় আব্বুর হোস্টেলে এসেই মামা শুনতে পান জিয়াউর রহমান কে মেরে ফেলা হয়েছে। আব্বু জানাযায় গেলে ছোট মামাও সাথে যান। উনার জানাযায় এত বেশি মানুষ হয়েছিল যেটা দেখে মামা অনেক বেশি ইম্প্রেস্ড হয়ে যায়। এরপর আব্বুর কিছু মোটিভেশন আর মামার নিজের ইনভেস্টিগেশনের পরে ছোট মামা বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে যান (আব্বু কিন্তু বিএনপি সাপোর্ট করত না)। এরপর আমাদের উপজেলায় মামা নিজ উদ্যোগে সর্বপ্রথম বিএনপির কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় জানতে পারি আমার ছোট চাচাও বিএনপির সাথে যুক্ত। সামরিক বাহিনীর বিরাট অংশ এমনিই জিয়ার ভক্ত থাকে, বিএনপি সাপোর্ট করে। ছোট চাচা সাম্প্রতিক সময়ে আবার উপজেলা কমিটিতে সদস্য হয়েছেন। বিএনপি'র প্রতি যথেষ্ট সহমর্মিতা আছে আমার। আশা করি নতুন বাংলাদেশে চাচা বিএনপিকে পুরনো ধ্যান ধারণা ফেলে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করতে পারবেন। . . . বি.দ্র.: টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারিংয়ে আব্বুর সময় বিশাল সেশন জট থাকত। শিক্ষক পাওয়া যেত না। তখনকার বিভিন্ন পাট/বস্ত্র শিল্পের টেক্সটাইল ইন্জিনিয়ারদেরকে প্রায় পা ধরে এনে ক্লাশ নিতে বলা হত শিক্ষক হিসেবে। তাও প্রায়ই তারা রাত ১০/১১ টায়ও সময় দিয়ে ক্লাশ নিতেন। যে কারনে তখন ৮ বছর লেগেছিল আব্বুদের ব্যাচ বের হতে।