বিএনপির ডাকসুতে চরম পরাজয়
বিএনপির জন্য ডাকসুতে এই চরম পরাজয়ে বিএনপির চোখ খুললে ভাল হইত। বেশ কয়েকজন এটাকে পরাজয় হিসেবে মেনে নিতে পারছে। কিন্তু বড় অংশ এখনও ষড়যন্ত্র হিসেবে "দেখতেছে"। এর পক্ষে কি সব অতিশয় লেইম প্রমাণ হাজির করতেছে যে দেখলেও বিএনপির জন্য মায়া হইতেছে। বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় পরাজয় নির্বাচনে হেরে যাওয়া না, আওয়ামীলীগের কাছ থেকে সাপোর্ট পাওয়া। এর থেকে লজ্জা আর নাই। ছাত্রদলের হামিমের বেশ কিছু টকশো দেখে অবাক হইছিলাম তার সুন্দর যুক্তিপূর্ণ কথা শুনে, কারন ছাত্রদল বা বিএনপিতেও এমন আর কেও সামনে নাইই এখন। কিন্তু নির্বাচনের সময় সেও দেখি বেশ কিছু উল্টাপাল্টা কথা বলছে। তবুও সে এই পরাজয় দেখলাম মেনে নিছে, গুড মুভ। আবিদ ভাল ছেলে। এদের গ্রুমিং করার কেও নাই। যাদের গ্রুমিং করার কথা তাদেরই জরুরী ভিত্তিতে গ্রুমিং দরকার। বিএনপি দলের এখন লিটারেলি জামায়াতের বিরোধীতা করা ছাড়া আর কোন ন্যারেটিভই নাই। সেই কাজ করতে যেয়ে আর আওয়ামীলীগের ভোট পকেটে নিতে যেয়ে তাদের আদর্শ কোন সময় কর্পুরের মত উড়ে গেছে নিজেরাও হয়ত জানেনা। আর এনসিপির ত পাত্তাই নাই, অথচ জুলাইতে আন্দোলন করা নেতা সব। বিএনপি, জামায়াত ইসলাম, এনসিপি এরা আপন ভাইয়ের মত। সারা জীবন ভাল ছিল, যেই জমি ভাগাভাগির সময় হইছে তখনই একজন আরেকজনের শত্রু হইছে। আর আওয়ামীলীগ আর জাতীয় পার্টি হইল পাশের বাড়ির দুই ইবলিশ পরিবার। যারা চায় ওই তিন ভাই যেন এক না থাকে, যেন ফাক তালে তারা ওই তিন ভাইয়ের জমি দখলে নিতে পারে। ঐক্য না থাকায় আল আন্দালুস হাতছাড়া হইছিল, মোঘল সাম্রাজ্যের মুকুট বাংলা সুবাহ ব্রিটিশদের অধীনস্ত হইছিল। আর ঐক্য থাকায় শক্তিশালী মোঘলদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলা মুলুকের ছোট ছোট সামন্ত রাজারা ঈসা খাঁর নেতৃত্বে লড়াই করে স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হইছিল। আমাদের হয়ত এখন একজন ঈসা খাঁ মসনদ ই আলা দরকার।